1. mdmirhossainmolla.bd@gmail.com : admi2017 :
  2. editor@banglarrup.com : Banglar Rup : Banglar Rup
শনিবার, ২৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ০৪:৫৮ পূর্বাহ্ন

মৃত নারীর জরায়ু প্রতিস্থাপিত হলো জরায়ুবিহীন নারীর শরীরে, জন্ম নিল এক শিশু

  • আপডেট টাইম : বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬
  • ১২ বার

যে নারী মারা গেছেন, অন্যের শরীরে তাঁর জরায়ু প্রতিস্থাপনের পর সেই জরায়ুতে একটি ভ্রূণ বেড়ে ওঠার ঘটনা বিস্ময়করই বটে। গোটা পৃথিবীতেই এভাবে শিশু জন্মদানের ঘটনা বিরল। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে যুক্তরাজ্যের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো ঘটেছে এই ঘটনা। জন্মেছে এক শিশু। পৃথিবীর বুকে তার আসার গল্প পড়ুন আজ। প্রকৃতির স্বাভাবিক নিয়মেই একটি সন্তান বেড়ে ওঠে মায়ের জরায়ুতে। যে নারীর জরায়ু নেই, তাঁর নিজের সন্তান ধারণের ভাবনাটা তাই অসম্ভব বলেই ধরে নেওয়া হয়। ত্রিশোর্ধ্ব নারী গ্রেস বেল। জন্মগতভাবেই জরায়ু নেই তাঁর। বয়স যখন ১৬ বছর, তখনই জানতে পারেন এই অনাকাঙ্ক্ষিত সত্য।

সন্তানলাভের আকাঙ্ক্ষা পূরণ করার দুটি উপায় ছিল গ্রেস ও তাঁর জীবনসঙ্গীর সামনে। একটি হলো সারোগেসি। অর্থাৎ, অন্য নারীর জরায়ুতে ভ্রূণ স্থাপন। আরেকটি উপায় ছিল গ্রেসের শরীরে কোনো নারীর জরায়ু প্রতিস্থাপন। জরায়ু প্রতিস্থাপন করা সম্ভব হলে গ্রেসের নিজের শরীরের ভেতরই বেড়ে উঠবে তাঁর সন্তান। তাঁর রক্ত থেকেই পুষ্টি ও অক্সিজেন পাবে। তাঁর নিজের শরীরের ভেতরেই একটি ভ্রূণ থেকে গড়ে উঠবে একটি শিশু। তবে গ্রেস চাইলেই যে কেউ নিজের জরায়ু তাঁকে দান করবেন, ব্যাপারটা তো এমন নয়। তাই হঠাৎ করেই যখন মৃত এক নারীর জরায়ু প্রতিস্থাপনের সুযোগ এসে দাঁড়াল তাঁর সামনে, আনন্দে উদ্বেল হয়ে উঠলেন তিনি।

২০২৪ সালের জুন মাসে অক্সফোর্ডের দ্য চার্চিল হাসপাতালে ১০ ঘণ্টা ধরে চলল অস্ত্রোপচার। গ্রেসের শরীরে প্রতিস্থাপিত হলো মৃত নারীর দান করে যাওয়া জরায়ু। কয়েক মাস পর ইন ভিট্রো ফার্টিলাইজেশন (আইভিএফ, সাধারণভাবে টেস্টটিউব বেবি বলা হয়ে থাকে) করা হলো। গ্রেসের নিজের জরায়ু না থাকলেও ডিম্বাশয় ছিল। তাই তাঁর ডিম্বাণু এবং তাঁর জীবনসঙ্গীর শুক্রাণু থেকেই হলো ভ্রূণ। ভ্রূণটি স্থাপন করা হলো গ্রেসের দেহে প্রতিস্থাপিত জরায়ুতে। লন্ডনের লিস্টার ফার্টিলিটি ক্লিনিকে সম্পন্ন হয় এ প্রক্রিয়া। গ্রেসের শরীরে বেড়ে উঠতে থাকে সেই সন্তান। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে তার জন্ম হয় পশ্চিম লন্ডনের কুইন চারলটস অ্যান্ড চেলসি হাসপাতালে। জন্মের সময় তার ওজন ছিল প্রায় সাত পাউন্ড। নাম রাখা হয় হিউগো।

যুক্তরাজ্যের একটি ক্লিনিক্যাল রিসার্চ ট্রায়ালের অংশ হিসেবে এ পর্যন্ত মোট ১০ জন নারীর দেহে সফলভাবে মৃত নারীর জরায়ু প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। তবে সেই নারীদের মধ্যে গ্রেসই প্রথম, যাঁর সন্তান জন্ম নিয়েছে পৃথিবীর বুকে। একজন ব্যক্তির একটি অঙ্গ অন্য একজনের শরীরে সফলভাবে প্রতিস্থাপন করাটাই অত্যন্ত জটিল এক প্রক্রিয়া। প্রতিস্থাপিত সেই অঙ্গের ভেতরে একটি সন্তানের বেড়ে ওঠাটা বিজ্ঞানের অন্যতম এক বিস্ময়। শল্যচিকিৎসকেরা তাই এই সাফল্যের অংশীদার হতে পেরে দারুণ খুশি।

প্রতিস্থাপিত জরায়ুতে সন্তান ধারণের ঘটনা অবশ্য যুক্তরাজ্যে এর আগেও ঘটেছে। ২০২৫ সালের শুরুর দিকে কুইন চারলটস অ্যান্ড চেলসি হাসপাতালে জন্ম নেয় এমি। তার মাকে জরায়ু দান করেছিলেন তাঁর বড় বোন, যিনি ছিলেন একজন জীবিত দাতা। মৃত নারীর দান করা জরায়ুতে বেড়ে ওঠা হিউগোর জন্মের গল্পটা তাই আলাদাই। গোটা পৃথিবীতে এ পর্যন্ত শতাধিক জরায়ু প্রতিস্থাপিত হয়েছে। প্রতিস্থাপিত জরায়ুতে বেড়ে উঠে পৃথিবীর বুকে আসা সুস্থ শিশুর সংখ্যা ৭০–এর বেশি।

 

নিউজটি শেয়ার করুন..

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর..
© All rights reserved © 2024
Theme Customized By BreakingNews