আজ মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস। ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ কালরাতে পাকিস্তানি বাহিনী নিরস্ত্র বাঙালিদের ওপর ‘অপারেশন সার্চলাইট’ নামে বর্বরোচিত হামলা চালায়। ঢাকার বিভিন্ন স্থানে গোলাবর্ষণ করা হয়, নারীদের উপর পাশবিক নির্যাতন চালানো হয় এবং পরিকল্পিতভাবে হত্যাকাণ্ড চালানো হয়।
আজ মহান স্বাধীনতার ৫৫তম বার্ষিকী। এক নদী রক্ত ও আত্মত্যাগের বিনিময়ে অর্জিত এই স্বাধীনতা। এই দিনটি বাঙালির জাতিসত্তা, আত্মমর্যাদা এবং একটি স্বাধীন-সার্বভৌম রাষ্ট্র হিসেবে বাংলাদেশের অস্তিত্বের প্রতীক। বাঙালি জাতির হাজার বছরের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় অর্জন এ স্বাধীনতা। দীর্ঘকালের পরাধীনতার শৃঙ্খল, শোষণ-বঞ্চনা, অত্যাচার-অনাচারের নাগপাশ ছিন্ন করতে ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ এ জনপদে জ্বলে উঠেছিল স্বাধীনতার অনির্বাণ শিখা।
দীর্ঘ ৯ মাস রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের মাধ্যমে পূর্ব পাকিস্তান স্বাধীন করে আমাদের চূড়ান্ত বিজয়ের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের অভ্যুদয় ঘটে। ১৯৭১ সালের এই দিনে দখলদার পাকিস্তানি সামরিক বাহিনী আনুষ্ঠানিকভাবে আত্মসমর্পণ করে। তার আগের ৯ মাসে তারা হত্যা করেছিল এ দেশের ৩০ লাখ মানুষকে। নির্যাতনের শিকার হয়েছিলেন আরও দুই লাখ নারী।
২৬ মার্চ কেবল অতীতের ইতিহাস নয়; এটি হলো যে কোনো সময়ের জন্য ভবিষ্যৎ প্রেরণার ভিত্তি। এ দিন আমাদের মনে করিয়ে দেয়, স্বাধীনতা রক্ষা করতে হলে জাতীয় ঐক্য, রাজনৈতিক সচেতনতা এবং আত্মমর্যাদা অপরিহার্য। আজ মহান স্বাধীনতা দিবসে আমরা গভীর শ্রদ্ধা ও ভালোবাসার সঙ্গে স্মরণ করছি জাতির সকল সূর্যসন্তানদের এবং তাদের আত্মদানের সেই ইতিহাসকে। লেখকঃ এম জি শাহ আলম, লেখক/কবি/সাংবাদিক।
Leave a Reply