1. mdmirhossainmolla.bd@gmail.com : admi2017 :
  2. editor@banglarrup.com : Banglar Rup : Banglar Rup
সোমবার, ০৭ এপ্রিল ২০২৫, ০২:৩১ পূর্বাহ্ন

গোপালগঞ্জ মাছ বাজারে চাঁদাবাজির দৌরাত্ম্য, প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন

  • আপডেট টাইম : রবিবার, ৩০ মার্চ, ২০২৫
  • ৩৬ বার

নিজস্ব প্রতিবেদক: গোপালগঞ্জ পৌরসভার মাছ বাজারে সরকারি নির্ধারিত চাঁদার বাইরে অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের অভিযোগ উঠেছে আওয়ামী লীগ নেতা ফেলা ও তার অনুসারীদের বিরুদ্ধে। ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, পৌরসভার নির্ধারিত রাজস্ব আদায় করতে না দিয়ে ফেলা নিজের ক্ষমতা দেখিয়ে প্রতিটি দোকান থেকে অতিরিক্ত চাঁদা আদায় করছে এবং কাউকে রসিদও দিচ্ছে না। কেউ প্রতিবাদ করলেই তাকে মারধর করা হয়, এমনকি পরিবারের নারী সদস্যদের নিয়েও অকথ্য ভাষায় গালাগাল করা হয়।

ভুক্তভোগীরা আরও অভিযোগ করেন, ৫ আগস্টের আগে ফেলা বিএনপি নেতাসহ শত শত নেতাকর্মীকে গুম ও কারাবন্দি করার কাজে লিপ্ত ছিল। তবে আওয়ামী লীগ ক্ষমতা হারানোর পর সে কিছুদিন গা ঢাকা দিলেও, পরে কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের এক নেতার সঙ্গে ঘনিষ্ঠ হয়ে পুনরায় বাজারে এসে আগের চেয়ে বেশি মাত্রায় চাঁদাবাজি ও নির্যাতন শুরু করেছে।

ব্যবসায়ীরা জানান, ২০২৩, ২০২৪ ও ২০২৫ সালে গোপালগঞ্জের ডিসি এবং পৌরসভার কাছে একাধিক লিখিত অভিযোগ জমা দেওয়া হলেও প্রশাসন ফেলার বিরুদ্ধে কোনো পদক্ষেপ নেয়নি। বরং পৌরসভার সচিব ও তার সহযোগী ‘নাড়ু’ আওয়ামী লীগ সরকারের সময় যেভাবে ক্ষমতা খাটিয়ে বাজার নিয়ন্ত্রণ করতেন, এখনও সেই নিয়ন্ত্রণ বজায় রেখেছেন।

এছাড়া অভিযোগ রয়েছে, সরকারি বরাদ্দ অনুসারে একটি দোকান ৩৫ হাজার টাকায় দেওয়ার কথা থাকলেও, রাতের আঁধারে পৌর সচিবের পরামর্শে ফেলা ৭-৮ লাখ টাকায় দোকান বিক্রি করেছে নতুন ব্যবসায়ীদের কাছে। এতে পুরনো ব্যবসায়ীরা দোকান থেকে বঞ্চিত হয়েছেন এবং বাজারের স্বাভাবিক পরিবেশ নষ্ট হয়েছে।

দেখা গেছে, মাছ বাজারে নতুন কিছু ব্যবসায়ী হঠাৎ দোকান নিয়ে ব্যবসা করছেন, এমনকি একটি দোকান একাধিক ব্যক্তির নিকট বিক্রির অভিযোগ রয়েছে ফেলার বিরুদ্ধে। একবার বিক্রি করা দোকান পরে বেশি টাকায় অন্যের কাছে পুনরায় বিক্রি করছে, ফলে পুরাতন ব্যবসায়ীরা হতাশায় পড়েছেন। বাজারে জায়গা না পেয়ে কিছু ব্যবসায়ী সড়কের উপর বসে পড়ছেন, যা পথচারী ও যান চলাচলে বিঘ্ন সৃষ্টি করছে। ফেলার অনুসারীরা এসব ব্যবসায়ীদের কাছ থেকেও ৩০০ থেকে ৭০০ টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করছে, এতে সাধারণ মানুষের চলাচলে চরম ভোগান্তি সৃষ্টি হয়েছে।

গত ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৪ গোপালগঞ্জে স্বেচ্ছাসেবক দলের কেন্দ্রীয় সভাপতি এস এম জিলানীর গাড়িবহরে হামলায় একই কমিটির ক্রীড়া সম্পাদক শওকত আলী (দিদার) নিহত হন। বিএনপির নেতা–কর্মীদের অভিযোগ, আওয়ামী লীগের নেতা–কর্মীরা এই হামলা চালিয়েছেন। এতে সাংবাদিকসহ আরও অন্তত ৫০ জন আহত হন। এ ঘটনার সাথেও ফেলা ও তার বাহিনীর সদস্যরা জড়িত বলে জানিয়েছেন ফেলার এক ঘনিষ্ঠ সহযোগী ও এক মাছ ব্যবসায়ী। তারা আরও জানান, কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের এক নেতার তদবিরের ফলে বিএনপি নেতা হত্যা মামলার আসামি তালিকা থেকে ফেলার নাম বাদ পড়ে।

ফেলার চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে কেউ প্রতিবাদ করলেই তার বাহিনী দিয়ে মারধর করানো হয়। স্থানীয়রা বিচার শালিস ডাকলেও ফেলা বিভিন্ন জরুরি কাজের অজুহাতে উপস্থিত হয় না এবং সময় ক্ষেপণ করে।

গোপালগঞ্জ জেলা প্রশাসক (ডিসি)-এর কাছে অসহায় মাছ ব্যবসায়ীদের প্রত্যাশা, চাঁদাবাজি ও নির্যাতনের সঙ্গে জড়িতদের, যারা দোকান বিক্রি করে লাখ লাখ টাকা হাতিয়েছে, তাদের নিরপেক্ষ তদন্ত করে আইনের আওতায় আনা হোক।

এছাড়াও, ভুক্তভোগী ব্যবসায়ীরা প্রশাসনের কাছে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। তারা বলেন, যদি এই অবৈধ চাঁদাবাজি ও দখলদারিত্ব বন্ধ না করা হয় এবং ‘নাড়ু’ ও সচিবকে অপসারণ করা না হয়, তাহলে কঠোর আন্দোলনে যেতে বাধ্য হবেন।

প্রশাসনের পক্ষ থেকে এখনো কোনো ব্যবস্থা না নেওয়ায় সাধারণ ব্যবসায়ীদের মধ্যে ক্ষোভ বিরাজ করছে। এখন দেখার বিষয়, কর্তৃপক্ষ এই বিষয়ে কার্যকর ব্যবস্থা নেয় কি না।

নিউজটি শেয়ার করুন..

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর..
© All rights reserved © 2024
Theme Customized By BreakingNews