একজন আনন্দময়ী
ক্ষমতাধর নারীর প্রস্তাবে
(প্রথম পর্ব)
(শাহজাদী নিশাত সুলতানা খানম-কে উৎসর্গীত)
২০২২ সালের কথা কোন একদিন ফেসবুকে নোটিফিকেশন চেক করছিলাম। চোখে পড়ে মোবাইলের স্কীনে ফ্রেন্ড রিকোয়েস্টে আসা অনেক গুলো আইডি। তন্মধ্যে একটি আইডি অনায়াসেই মনোযোগ কেড়ে নেয়। রিকোয়েস্ট এক্সেপ্ট করি ও ইনবক্সে সালাম জানাই। স্বভাবতই আমি কোন অপরিচিত জনের প্রতি সম্মান/শ্রদ্ধা জানিয়ে সৌজন্যতা বোধে কয়েক লাইন লিখে তার মনকে, বোধকে আকৃষ্ট করার চেষ্টা করি।
যথারীতি কথা বার্তা হতো ইনবক্সে, আগ্রহ ভরে আনন্দময়ীর আত্মার টানে পনেরই অক্টোবর ২০২২ ইং লিখে ফেললাম “ওগো রাজনন্দিনী” নামে একটি ২০ লাইনের কবিতা।
তাকে স্পেসিফিক ফ্রেন্ড ট্যাগ করে ফেসবুকে পোস্ট করলাম কবিতাটি এবং ইনবক্সেও পাঠালাম।
সে রীতিমতো যারপর নাই খুশিতে আবেগ আপ্লুত হয়ে আমাকে বললেন যে, আপনি কবিতাটি আমার ছবিসহ ফেসবুকে পোস্ট করবেন!
যথাযথ ভাবে তার দিকনির্দেশনা মোতাবেক চলতে থাকলো আমার নিবিড় প্রেম সাহিত্য চর্চা। তার নির্দেশনা মত কবিতা লিখে তাকে ইনবক্সে পাঠাতাম ও পরবর্তী সময়ে সে গুলো ফেসবুকে পোস্ট করতাম। আঠারো অক্টোবর ২০২২ ইং তাকে উদ্দেশ্য করে লিখলাম “তোমার বুকের গহীনে”। ২০ অক্টোবর ২০২২ ইং লিখলাম “তুমিও বুঝবে আমায়” এবং বাইশে অক্টোবর ২০২২ ইং “এ চিত্তে আছো যে হিয়ায়” ও “মুখোচ্ছবি নিঃরবে পুঁষি” শিরোনামে আনন্দময়ীর সম্মানে ও ভালোবাসায় আরো একটি কবিতা লিখে তাকে ইনবক্সে প্রেরণ করলাম। এভাবে চলতে থাকলো কাব্যকথায় আলাপচারিতা ও লেখালেখি। এক সময় বুঝতে পারলাম আমি আসক্ত হয়ে পড়েছি লেখালেখিতে ও ইনবক্স চ্যাটিং এ।
“কে আছো রমনী বোধস্থ নয়নে” ও “তাকেই ভাবি যে নিরালায়” শিরোনামে আরো দুটি কবিতা লিখে তার কোমল হৃদয়ের আবেশ লাভের জন্য প্রেরন করলাম চব্বিশে অক্টোবর ২০২২ ইং।
আনন্দময়ীও ধীরে ধীরে আত্মার অমোঘ আকর্ষণ উপলদ্ধি অনুভব করে ভাবতে লাগলো। শুরু হলো বোঝা পড়ার পালা ও মনকে অস্থিরতা থেকে আড়াল করে ধীমত্তার সাথে সিদ্ধান্ত গ্রহনের পদক্ষেপ।
আনন্দময়ী পিতা-মাতার অতি আদরের দুলালী ও শাহজাদী। এক ভাই ও এক বোন এবং পিতা-মাতা নিয়ে আনন্দময়ীর সংসার। সংকোচ ঝেড়ে একদিন বলে ফেললেন……!
পঁচিশ অক্টোবর ২০২২ ইং আনন্দময়ী আমাকে বললেন আপনার একটি ফ্যামিলি পিকচার দেন!
আমি কোন দিনও পরিবারের সকলের সাথে একসঙ্গে ছবি উঠেছি বলে আমার মনে পড়েনি। আমি আনন্দময়ীকে বললাম, আমি দেখছি! আমার জন্মদাতা পিতা শিক্ষাগুরু কবি ডাঃ আব্দুল হালিম মাস্টারকে বললাম! আব্বাকে আমার কাছে আমার একজন ভালো মনের মানুষ পারিবারিক ছবি চেয়েছে, কি করা যায় বলুনতো আব্বা।
আমার আব্বা আমার দিকে অসহায় নয়নে তাকিয়ে থাকলেন কিছুটা সময়! কিছুই বললেন না?
Leave a Reply