নিজস্ব প্রতিবেদক: কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম উপজেলার সুপরিচিত ও গণ্যমান্য ব্যক্তি আবুল বশার বচন গ্রামীণ সড়কে বেপরোয়া গতির শিকার হয়ে মারাত্মকভাবে আহত হয়েছেন। বাইসাইকেলে করে বাজারে যাওয়ার পথে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি দ্রুতগামী মোটরসাইকেল তাঁকে সজোরে ধাক্কা দিলে এই দুর্ঘটনা ঘটে। বর্তমানে তাঁকে উন্নত চিকিৎসার জন্য চৌদ্দগ্রাম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় স্থানীয় এলাকাবাসীর মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আবুল বশার বচন আজ তাঁর নিজ বাড়ি থেকে বাইসাইকেলযোগে স্থানীয় সিংরাইশ চৌমুহনী বাজারের উদ্দেশ্যে রওনা দিয়েছিলেন। পথিমধ্যে বিপরীত দিক থেকে আসা নিয়ন্ত্রণহীন ও বেপরোয়া গতির একটি মোটরসাইকেল তাঁর বাইসাইকেলটিকে সজোরে ধাক্কা দেয়। এতে তিনি সড়কে ছিটকে পড়ে গুরুতর আঘাত পান। ঘটনার পরপরই স্থানীয় লোকজন তাঁকে দ্রুত উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য চৌদ্দগ্রাম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। গ্রামীণ সড়কে এভাবে নিয়মবহির্ভূত ও বেপরোয়া বাইক চালানোর ফলে সৃষ্ট এ ধরনের দুর্ঘটনা জনমনে চরম আতঙ্কের সৃষ্টি করেছে।
গ্রামীণ সড়কে বেপরোয়া বাইক চালনা: বাড়ছে দুর্ঘটনা
সাম্প্রতিক সময়ে গ্রামগঞ্জেও তরুণ ও যুবকদের মধ্যে অতিরিক্ত গতিতে মোটরসাইকেল চালানোর প্রবণতা আশঙ্কাজনকভাবে বেড়ে গেছে। গ্রামীণ সড়কগুলো অপ্রশস্ত হওয়ায় এবং বাইসাইকেল বা সাধারণ যানবাহনের চলাচলের সময় অতিরিক্ত গতির কারণে এ ধরনের দুর্ঘটনা এড়ানো সম্ভব হয় না। এতে বয়স্ক ও সাধারণ মানুষের জীবন চরম ঝুঁকিতে পড়ছে।
“আমাদের গ্রামীণ রাস্তাগুলো বাইক চালানোর কোনো রেস ট্র্যাক নয়। অতিরিক্ত গতিতে যেভাবে গাড়ি চালানো হয়, তাতে প্রতিনিয়ত বড় ধরনের প্রাণহানির ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে।” — স্থানীয় এক সচেতন বাসিন্দা
এলাকাবাসীর জোরালো দাবি ও সতর্কতা
আবুল বশার বচনের এই দুর্ঘটনার পর সিংরাইশ গ্রামসহ আশেপাশের এলাকার মানুষ গ্রামীণ সড়কে বেপরোয়া ও দ্রুতগতির মোটরসাইকেল চলাচল বন্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে কিছু জরুরি পদক্ষেপ গ্রহণের অনুরোধ জানানো হয়েছে:
গতি নিয়ন্ত্রণ: গ্রামীণ সড়কে যেকোনো মূল্যে অতিরিক্ত গতিতে মোটরসাইকেল চালানো সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করতে হবে।
অভিভাবকদের সচেতনতা: অপ্রাপ্তবয়স্ক ও বেপরোয়া যুবকদের হাতে দ্রুতগতির মোটরসাইকেল তুলে দেওয়া থেকে অভিভাবকদের বিরত থাকতে হবে।
গতিরোধক স্থাপন: জনবহুল গ্রামীণ মোড় ও চৌমুহনীগুলোতে দ্রুত গতিরোধক (স্পিডব্রেকার) নির্মাণ করতে হবে।
স্থানীয় নজরদারি: বেপরোয়া বাইক চালকদের বিরুদ্ধে সামাজিকভাবে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে।
গ্রামীণ জনপদের প্রতিটি মানুষের জীবন রক্ষা এবং সড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে প্রশাসন ও সচেতন মহলের যৌথ উদ্যোগই পারে এ ধরনের দুর্ঘটনা রোধ করতে।
Leave a Reply