নিজস্ব সংবাদদাতা: গত ১৪ই সেপ্টেম্বর সোমবার দুপুরে কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে একটি বাড়িতে হামলা চালিয়ে পাকা ঘর ভেঙে চুরমার করে মালামাল লুটপাটের খবর পাওয়া গেছে। অভিযোগ উঠেছে, সারোয়ার নামক এক সন্ত্রাসীর নেতৃত্বে বাড়িটি দখল করতে গিয়ে ৩০/৩৫ জনের একটি সন্ত্রাসীর বাহিনী এই ভাঙচুর করে। জনতার প্রতিবাদের মুখে পরে ওই সন্ত্রাসীরা বাড়িটি দখল করতে ব্যর্থ হয়। এঘটনার বিষয়ে তাৎক্ষণিক নাসির উদ্দিন মজুমদার বাদী হয়ে চৌদ্দগ্রাম মডেল থানায় একটি এজাহার দায়ের করলে, পুলিশ মামলা নেয়নি বলে অভিযোগ উঠেছে। এদিকে ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত হওয়ার আশঙ্কায় চৌদ্দগ্রাম উপজেলার গুনবর্তী ইউনিয়নের আকদিয়া গ্রামের আলী আহম্মদের মেয়ে রহিমা আকতার শিউলি (২৮) বাদী হয়ে, গত ১৫ সেপ্টেম্বর মঙ্গলবার কুমিল্লার সিনিয়র জুড়িসিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেটের ৯নং আমলী আদালতে ১৪জনের বিরুদ্ধে একটি মামলা দায়ের করেন। আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে আসামীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার জন্য চৌদ্দগ্রাম থানা পুলিশকে নির্দেশ দেয়।
মামলা এবং স্থানীয় সূত্র জানায়, উপজেলার আকদিয়া গ্রামের অহিদুর রহমানের ছেলে সারোয়ার (৩৫), কাউসার (২৬), মরহুম ছেনু মিয়ার ছেলে অহিদুর রহমান (৫৫), মরহুম ছেরু মিয়ার ছেলে গিয়াস উদ্দিন (৫০), জয়নাল (৪৫), আবুল হোসেনের মেয়ে রাজিয়া আক্তার সুবর্ণা (৩৩), আবুল হাশেমের ছেলে সাহাবুদ্দিন (৫৫), মৃত রমু মোল্লার ছেলে মির হোসেন (৫৫), মুমিনের ছেলে রবিন (২৪), কুদ্দুসের ছেলে হাসান (৩৫), আব্দুল কাদেরের ছেলে কুদ্দুস (৫৫), মামুনের ছেলে আহাদ (২৬), মৃত নেতু মিয়ার ছেলে জিহাদ (২৪), পদুয়া এলাকার ছিনাইমুড়ি গ্রামের আবুল হোসেনের ছেলে সাজু (৪০) সহ অজ্ঞাত ১৫/২০ জনের একটি সন্ত্রাসী বাহিনী আকদিয়া গ্রামের অলি আহমেদ ও তার পরিবারকে দেশছাড়া করা এবং বাড়িঘর ভাঙচুর করার অব্যাহত হুমকি ধমকি প্রদর্শন করে আসছে। এরেই ধারাবাহিকতায় গত ১৫ সেপ্টেম্বর দুপুরে সারোয়ারের নেতৃত্বে একদল সন্ত্রাসী দেশীয় অস্ত্র সস্ত্র হাতে নিয়ে অলি আহমেদের বসত ঘরে প্রবেশ করে তার বসত ঘর ভাঙচুর শুরু করে। এ সময় সন্ত্রাসীরা ঘরের আসবাবপত্র ভাঙচুর করতে লাগলে সদ্য বিবাহিত অলি আহমেদের পুত্রবধূ অর্থাৎ নাসির উদ্দিনের স্ত্রী মুনতাহা আক্তার বাধা প্রদান করলে, সন্ত্রাসী সারোয়ার তাকে ধাক্কাধাক্কি একপর্যায়ে চুলের মুঠি ধরে টানা হেচড়া করে শ্লীলতাহানি করে। এ সময় সারোয়ার তার গলায় থাকা এক ভরি ওজনের একটি স্বর্ণের চেইন ছিনিয়ে নিয়ে যায়। সন্ত্রাসী কাউসার ঘরে প্রবেশ করে অলি আহমেদের সুকেশের গ্লাস ভেঙ্গে নগদ ৯০ হাজার টাকা এবং ৭ ভরি স্বর্ণালংকার চুরি করে নিয়ে যায়। এ সময় বশির আহমেদের স্ত্রী সুমাইয়া আক্তার বাধা প্রদান করলে রাজিয়া আক্তার সুবর্ণা তাকে কিল ঘুষি মেরে গলায় থাকা ১ ভরি ওজনের একটি স্বর্ণের চেইন নিয়ে যায়। এক পর্যায়ে সকল সন্ত্রাসীরা অলি আহমেদের বসত ঘরে থাকা বিভিন্ন মালামাল লুটতরাজ করে নিয়ে যায়। এ সময় সন্ত্রাসীরা ফিল্মি স্টাইলে অলি আহমেদের ঘরে ঢুকিয়া স্বর্ণালংকার সহ বিভিন্ন মালামাল লুটতরাজ করে, তার বসত ঘরের টিন আসবাবপত্র ঘরের স্টিলের আলমারি সম্পূর্ন ভেঙে ফেলে। সূত্র জানায়, অসুস্থ অলি আহমেদ এবং তার ছেলের সদ্য বিবাহিত স্ত্রীকে নিয়ে খোলা আকাশের নিচে মানবতা জীবন যাপন করতেছে। স্থানীয়রা জানায়, একদল সন্ত্রাসী দিনে দুপুরে নিরীহ অসুস্থ অলি আহমেদের ঘর লুটপাট করে ফাঁকা ঘর ভাঙচুর করে চুরমার করে ফেলে. প্রকাশ্য দিবালোকে চৌদ্দগ্রামের মাটিতে এ ধরনের ঘটনা আর কখনো ঘটেনি বলে স্থানীয়রা দুঃখ প্রকাশ করেন।
ভুক্তভোগী অলি আহমেদ ও তার পরিবার সূত্রে জানায়, সন্ত্রাসীরা যেভাবে ঘরের ভিতর এবং বাহির থেকে ভাঙচুর লুটপাট শুরু করেছে, তারা তাৎক্ষণিক আতঙ্কিত এবং ভয়ে দিশেহারা হয়ে পড়ে।এই ঘটনার সাথে জড়িতদের গ্রেপ্তারের মাধ্যমে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিছেন তারা।
Leave a Reply