ইব্রাহীম আহমেদ (রনি): নরসিংদী-৫ (রায়পুরা) আসনে আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে জমে উঠেছে প্রার্থিতা ঘিরে আলোচনা। বড় দুই জোট বিএনপি ও আওয়ামী লীগ ছাড়াও ইসলামপন্থী দলগুলো থেকেও শক্তিশালী প্রার্থী আসার ইঙ্গিত মিলছে। এই আসনে কে এগিয়ে—তা এখনই বলা না গেলেও সম্ভাব্য প্রার্থীদের মাঠপর্যায়ের প্রস্তুতি ইতোমধ্যে ভোটারদের মধ্যে কৌতূহল সৃষ্টি করেছে।
বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থী তালিকা:
রায়পুরা উপজেলা বিএনপি এবং অঙ্গসংগঠনের বিভিন্ন পর্যায় থেকে উদীয়মান ও অভিজ্ঞ নেতারা মনোনয়ন প্রত্যাশী। প্রত্যেকেই নিজ নিজ অবস্থান থেকে সাংগঠনিকভাবে শক্তিশালী ও ভোটারদের মাঝে গ্রহণযোগ্য:
ইঞ্জিনিয়ার আশরাফ উদ্দিন বকুল
বিএনপির কেন্দ্রীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক।
দীর্ঘদিন ধরে দলীয় রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত, একজন পরিচ্ছন্ন ও শিক্ষিত রাজনীতিবিদ হিসেবে পরিচিত।
তার প্রযুক্তিনির্ভর ভাবনা ও রাজনৈতিক দূরদর্শিতা তরুণ ভোটারদের আকৃষ্ট করছে।
রফিকুল আমিন ভূঁইয়া রুহেল
তরুণ ও সংগঠনিকভাবে দক্ষ নেতা হিসেবে দলের ভেতর থেকে উঠে এসেছেন। তরুণ ভোটারদের মাঝে জনপ্রিয়তা রয়েছে।
। তৃণমূলের সঙ্গে রয়েছে তার দীর্ঘদিনের সংযোগ।
রায়পুরার বিভিন্ন ইউনিয়নে তার জনপ্রিয়তা উল্লেখযোগ্য।
মোহসিন হোসাইন বিদ্যুৎ
বর্তমান নরসিংদী জেলা যুবদলের সভাপতি।
মাঠপর্যায়ে একজন সাহসী, সংগঠক ও বক্তা হিসেবে জনপ্রিয়।
তরুণ প্রজন্ম ও বিএনপির তৃণমূল কর্মীদের মধ্যে তাঁর গ্রহণযোগ্যতা স্পষ্ট।
হাজী ইকবাল হোসেন শ্যামল
পরিচিত ব্যবসায়ী ও সমাজসেবক।
রায়পুরার বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজে তার অংশগ্রহণ তাকে একটি গ্রহণযোগ্য নাম হিসেবে তুলে ধরেছে।
স্থানীয়ভাবে মসজিদ, স্কুল ও দরিদ্রদের সাহায্যে তার অবদান রয়েছে।
জামাল আহমেদ চৌধুরী
দীর্ঘ সময় ধরে রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত একজন অভিজ্ঞ রাজনীতিবিদ।
বিএনপির একজন তৃণমূল সংগঠক হিসেবে পরিচিত।
ইউনিয়ন পর্যায়ে রয়েছে তার সরাসরি প্রভাব
জামায়াত ইসলামীর প্রার্থী:
জাহাঙ্গীর আলম ও পনির সার
জামায়াতের স্থায়ী কর্মী ও দীর্ঘদিনের রাজনীতিক।
ইসলামী মূল্যবোধ ও আদর্শিক রাজনীতির প্রতি দৃঢ় অবস্থান।
ধর্মপ্রাণ ভোটারদের মন জয় করতে তৎপর।
ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ:
মাওলানা বদরুজ্জামান উজ্জ্বল (কলরব শিল্পী)
দেশব্যাপী পরিচিত ইসলামি সংগীতশিল্পী।
ইসলামী আন্দোলনের পক্ষ থেকে একজন সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে মাঠে সক্রিয়।
তরুণ ইসলামপন্থী ভোটারদের মধ্যে তার ব্যাপক জনপ্রিয়তা রয়েছে
রাজনৈতিক বিশ্লেষণ:
বিএনপির যদি অংশগ্রহণ নিশ্চিত হয়, তবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে মূলত দলের মনোনয়ন পাওয়া প্রার্থীকে ঘিরে। সেখানে দলীয় পরিচিতি, সাংগঠনিক ভিত্তি এবং মাঠপর্যায়ে সক্রিয়তা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। অন্যদিকে ইসলামপন্থী দলগুলোর প্রার্থীরা ভিন্নমতের ভোট বিভক্ত করতে পারে।
উপসংহার:
রায়পুরা উপজেলা রাজনৈতিকভাবে চঞ্চল একটি আসন। আগাম প্রার্থীদের কার্যক্রম ও জনগণের প্রতিক্রিয়ায় প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে তীব্র। তবে দিনশেষে জয় নির্ভর করবে ভোটারদের শেষ মুহূর্তের সিদ্ধান্ত ও দলের নির্বাচনী কৌশলের উপর।
Leave a Reply