স্টাফ রিপোর্টার, সিলেট : সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সামনে অবস্থিত “জুবায়ের ফার্মেসি”সহ বিভিন্ন লাইসেন্সবিহীন ফার্মেসিতে প্রেসক্রিপশন ছাড়াই এন্টিবায়োটিক বিক্রি ও চিকিৎসাসেবা দেওয়ার অভিযোগে উদ্বেগ বাড়ছে সাধারণ মানুষের মধ্যে। অভিযোগ রয়েছে, নিবন্ধিত চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়াই বিভিন্ন রোগের ওষুধ বিক্রি করা হচ্ছে। এমনকি রোগী দেখেই প্রেসক্রিপশন লিখে ওষুধ সরবরাহ করা হচ্ছে।
স্থানীয়দের দাবি, গোয়াইনঘাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে অভিজ্ঞ এমবিবিএস ও বিসিএস ক্যাডার চিকিৎসক থাকা সত্ত্বেও অনেক রোগীকে চিকিৎসকের কাছে না পাঠিয়ে কিছু ফার্মেসিতে সরাসরি ওষুধ দেওয়া হচ্ছে। বিশেষ করে “জুবায়ের ফার্মেসি”-তে চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়াই প্রেসক্রিপশন তৈরি করে ওষুধ বিক্রির অভিযোগ উঠেছে। এছাড়া নারী রোগীদের প্রয়োজন ছাড়াই স্যালাইন পুশ করে অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের অভিযোগও রয়েছে। এলাকাবাসী জানান, শিশু রোগীদের ক্ষেত্রেও যথাযথ পরীক্ষা-নিরীক্ষা ছাড়াই কর্টিসনজাতীয় সিরাপ ও এন্টিবায়োটিকের ডোজ দেওয়া হচ্ছে। এতে শিশুদের স্বাস্থ্য মারাত্মক ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন সচেতন মহল।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার অনেক ফার্মেসিতে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত ফার্মাসিস্ট বা মেডিকেল বিষয়ে দক্ষ ব্যক্তি ছাড়াই দোকান পরিচালিত হচ্ছে। কোনো ধরনের অভিজ্ঞতা বা স্বীকৃত প্রশিক্ষণ না থাকা সত্ত্বেও কিছু ওষুধ বিক্রেতা গ্রামের সহজ-সরল নারী, শিশু ও পুরুষদের বিভিন্ন রোগের চিকিৎসা দেওয়ার নামে অপচিকিৎসা চালিয়ে যাচ্ছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া অতিরিক্ত এন্টিবায়োটিক সেবনের ফলে রোগীদের শরীরে এন্টিবায়োটিক রেজিস্ট্যান্স তৈরি হতে পারে। এর ফলে ভবিষ্যতে সাধারণ সংক্রমণেও কার্যকর ওষুধ কাজ নাও করতে পারে, যা জনস্বাস্থ্যের জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে। পাশাপাশি ভুল ওষুধ প্রয়োগ ও মাত্রাতিরিক্ত ওষুধ সেবনের কারণে রোগ আরও জটিল হওয়ার আশঙ্কাও বাড়ছে।
এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজরদারি বৃদ্ধি, লাইসেন্সবিহীন ফার্মেসি ও হাতুড়ে চিকিৎসকদের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধির দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন নাগরিকরা।
Leave a Reply