আসিফ ইকবালঃ কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম উপজেলার ঐতিহ্যবাহী ও জনবহুল গুণবতী ইউনিয়ন দীর্ঘদিন ধরে উন্নয়ন বঞ্চনার শিকার। ইউনিয়নের গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগ মাধ্যম চাঁপাচৌ-কালিয়াতল সড়কটি বর্তমানে জনদুর্ভোগের প্রতীক হয়ে দাঁড়িয়েছে। সামান্য বৃষ্টিতেই রাস্তার বিভিন্ন অংশে সৃষ্টি হচ্ছে বড় বড় গর্ত, জমে থাকছে পানি ও কাদা। ফলে প্রতিদিন হাজারও পথচারী, শিক্ষার্থী, কৃষক, ব্যবসায়ী এবং যানবাহন চালকদের চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। গুণবতী ইউনিয়ন চৌদ্দগ্রাম উপজেলার একটি গুরুত্বপূর্ণ ও ঘনবসতিপূর্ণ এলাকা। এই সড়ক উন্নয়নের নামে চলছে প্রহসন। দীর্ঘ ১টি বছর পার হয়ে গেলেও গুণবতী ইউনিয়নের চাঁপাচৌ হইতে কালিয়াতল বাজারের রাস্তাটির কাজ এখনো শেষ হয়নি। এ যেন উন্নয়নের নামে, সংস্কারের নামে এলাকাবাসীর সাথে চরম রসিকতা!
স্থানীয়দের অভিযোগ, রাস্তা চওড়া করা হবে বলে কৃষকদের মূল্যবান ফসলি জমি কেটে মাটি উঠিয়ে নেওয়া হয়েছে, অথচ রাস্তা চওড়া হয়নি এক ইঞ্চিও! বারবার রাস্তার স্থায়ী সংস্কারের দাবি জানানো হলেও আধুনিক নিয়ম মেনে রাস্তা খনন করার কথা থাকলেও, ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান অদ্ভুত এক পদ্ধতি বেছে নিয়েছে। ট্রাক্টরের লাঙ্গল লাগিয়ে ফসলের মাঠের মতো করে রাস্তাটি চাষ দিয়ে রাখা হয়েছে! যার ফলে রাস্তাটি এখন সাধারণ মানুষের হাঁটারও অযোগ্য হয়ে পড়েছে। এলাকাবাসীর চোখের সামনেই রাস্তার পাশে অত্যন্ত নিম্নমানের এবং পুরাতন ইট এনে জড়ো করা হচ্ছে, যা দিয়ে কাজ চালানোর পাঁয়তারা চলছে।
সঠিক তত্বাবধান, নজরদারী এবং কার্যকর উদ্যোগের অভাবে সড়কটির বেহাল দশা দিন দিন আরও প্রকট হচ্ছে। বিশেষ করে রোগী পরিবহন, কৃষিপণ্য বাজারজাতকরণ এবং শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়ে যাতায়াতে ব্যাপক সমস্যা সৃষ্টি হচ্ছে। অনেক সময় মোটরসাইকেল ও অটোরিকশা দুর্ঘটনারও শিকার হচ্ছে। এলাকাবাসীর মতে, চাঁপাচৌ-কালিয়াতল সড়কটি শুধু একটি রাস্তা নয়; এটি ইউনিয়নের কয়েকটি গ্রামের মানুষের অর্থনৈতিক, সামাজিক ও শিক্ষাগত কার্যক্রমের প্রধান সংযোগ পথ। তাই দ্রুত সময়ের মধ্যে সড়কটির সংস্কার ও টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করা জরুরি।
স্থানীয় সচেতন মহল সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ, জনপ্রতিনিধি এবং সড়ক উন্নয়ন সংশ্লিষ্ট দপ্তরের প্রতি জরুরি ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন। তাদের প্রত্যাশা, জনগণের দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ লাঘবে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হবে এবং চাঁপাচৌ-কালিয়াতল সড়কটি আবারও নিরাপদ ও চলাচল উপযোগী রূপ ফিরে পাবে।
Leave a Reply