গোয়াইনঘাট প্রতিনিধি: সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলার পুর্নানগর এলাকায় সরকারি ড্রেইন নির্মাণ কাজের জন্য ক্রয় করা বালু আটক করার ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, বৈধভাবে কেনা বালুকে অবৈধ বলে জব্দ করা হলেও একই এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে চলা অবৈধ বালু উত্তোলনের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, পুর্নানগর এলাকায় সরকারি ড্রেইন নির্মাণ কাজের জন্য রাস্তার পাশে রাখা বালু শনিবার বিকেলে বিট অফিসার মুজাম্মেলের নেতৃত্বে প্রশাসনের একটি দল আটক করে। এ সময় বালুটিকে অবৈধ বলে দাবি করা হয়। তবে এলাকাবাসীর অভিযোগ, উপজেলার গোয়াইনঘাট ব্রীজের নিচ থেকে দীর্ঘদিন ধরে দিনে-রাতে সমান তালে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। স্থানীয়দের দাবি, ফারুকের নেতৃত্বে আলাউদ্দিন গং প্রতিনিয়ত বালু উত্তোলন করে আসছে, যার ফলে এলাকার মানুষের স্বপ্নের গোয়াইনঘাট ব্রীজ ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে।
স্থানীয়রা আরও জানান, কয়েকদিন আগে রাতের বেলায় অবৈধ বালু উত্তোলনের সময় তাদের হাতেনাতে ধরা হলেও প্রশাসনের পক্ষ থেকে এখনো দৃশ্যমান কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। এ নিয়ে প্রশাসনের নীরব ভূমিকা নিয়ে এলাকাবাসীর মধ্যে আতঙ্ক ও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। ভুক্তভোগী লুতফুর রহমান বলেন, “সরকারি ড্রেইনের কাজের জন্য বৈধভাবে বালু ক্রয় করেছি এবং আমার কাছে সব কাগজপত্র রয়েছে। তারপরও বালু জব্দ করা হয়েছে, যা অত্যন্ত দুঃখজনক।”
তিনি আরও অভিযোগ করেন, প্রায় ১৭ বছর আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ডেবিল ফারুক এই ঘটনার মূল হোতা। বর্তমানে তিনি বিএনপির কিছু নেতার সঙ্গে ছবি তুলে প্রভাব খাটিয়ে নিরীহ মানুষকে বিভিন্নভাবে হয়রানি করছেন।
লুতফুর রহমান আরও জানান, দুই দিন আগে তার দুই ছেলেকে মারধর করা হয়েছে। তিনি বলেন, “ড্রেইনের কাজে চাঁদা দাবি করা হয়েছিল। আমরা চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে ড্রেইনের ইটের গাঁথুনি ভেঙে ফেলা হয়।” এ ঘটনায় তিনি গোয়াইনঘাট থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন বলে জানান।
এ বিষয়ে গোয়াইনঘাট থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) এর সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, “কাগজপত্র যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
স্থানীয়রা দ্রুত ঘটনাটির সুষ্ঠু তদন্ত করে বৈধ বালু ফেরত দেওয়া এবং অবৈধ বালু উত্তোলনের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
Leave a Reply