জার্মান ক্লাসিকোতে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ে শেষ হাসি হাসলো বায়ার্ন মিউনিখ। ঘরের মাঠে শনিবার শুরুতে বরুশিয়া ডর্টমুন্ড এগিয়ে গেলেও, বিরতির পর দুই গোলে স্কোরলাইন দখলে নেয় বায়ার্ন। বাভারিয়ানদের হয়ে জোড়া গোল করে জার্মান বুন্ডেসলিগায় দারুণ এক কীর্তি গড়েন হ্যারি কেইন। পরে ডর্টমুন্ড সমতায় ফিরলেও, বায়ার্নের শেষদিকের গোলের জবাব দিতে পারেনি তারা। তবে ৩-২ গোলের জয়ের দিন এখনই আনন্দে আত্মহারা হতে চাচ্ছে না কেইন।
সিগনাল ইদুনা পার্কে নামার আগে শেষ ৩ ম্যাচে জোড়া গোল করেন কেইন। এদিনের ম্যাচেও জোড়া লক্ষ্যভেদ করে বুন্ডেসলিগা ইতিহাসে টানা চার ম্যাচে ডাবল করা স্রেফ তৃতীয় ফুটবলার বনে যান তিনি। এ তালিকার প্রথম দু’জন ডর্টমুন্ডের লোথার ইমোরিখ (১৯৬৭) ও ভলফসবুর্গের টমিস্লিভ মারিচ (২০০১)। এখানেই শেষ নয়। চলতি মৌসুমে বুন্ডেসলিগার সর্বোচ্চ গোলদাতার তালিকায় শীর্ষে থাকা কেইনের গোলসংখ্যা দাঁড়াল ৩০-এ।
২০২০-২১ মৌসুমে রবার্ট লেভানদোভস্কির করা ৪১ গোলের ঐতিহাসিক রেকর্ডকে একসময় অদম্য মনে করা হলেও, সেই মাইলফলকের খুব কাছাকাছি পৌঁছে গেলেন ইংল্যান্ড অধিনায়ক। মৌসুমের এই পর্যায়ে (২৪ ম্যাচ) লেভার তুলনায় তিনি স্রেফ এক গোল পিছিয়ে। তবে ব্যক্তিগত সাফল্যে ভেসে যাচ্ছেন কেইন। ম্যাচের পর তিনি বলেন, ‘মৌসুমের কিছু সময়ে সবকিছুই আপনার পক্ষে যায়। আমি এখন সেই সময়ের মধ্যেই আছি। এভাবেই এগিয়ে যেতে চাই।’
এদিন ২৬তম মিনিটের গোলে লিড নিয়ে বিরতিতে যায় ডর্টমুন্ড। মাঠে ফিরে ৫৪তম মিনিটে বায়ার্নকে সমতায় ফেরান কেইন। ৭০তম মিনিটে পেনাল্টি থেকে সফল স্পটকিকে ব্যবধান বাড়ান তিনি। পেনাল্টি স্পট থেকেও নির্ভুল ইংলিশ স্ট্রাইকার। লীগে ২৪টির মধ্যে ২৪টিতেই জাল খুঁজে নিয়েছেন তিনি। এছাড়া, এক মৌসুমে পেনাল্টি থেকে ১০টি গোল করে আরেকটি নজির গড়েন কেইন। এর আগে ১৯৮০-৮১ মৌসুমে বায়ার্নের পল ব্রাইটনার এ কৃতিত্ব দেখান। ৮৩তম মিনিট ড্যানিয়েল সভেনসনের গোলে ফের সমতায় ফেরে স্বাগতিকরা। তবে নির্ধারিত সময়ের মিনিট তিনেক আগে জশুয়া কিমিখের গোলে জয় নিশ্চিত হয় সফরকারীদের এ জয়ের পর ২৪ ম্যাচে ২০ জয়,৩ ড্র ও ১ হারে ৬৩ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষস্থান আরও পোক্ত করলো বায়ার্ন। সমান ম্যাচে ৫২ পয়েন্ট নিয়ে দুইয়ে ডর্টমুন্ড। ১১ পয়েন্টের লিডে স্বাভাবিকভাবেই শিরোপার দৌড়ে অনেকটাই এগিয়ে গেল বাভারিয়ানরা।
Leave a Reply