এস এম মনিরুজ্জামান আকাশ: ২৬ মার্চ ২০২৫ ইং ৫৪তম মহান স্বাধীনতা দিবসে পাবনা জেলা প্রশাসনের আয়োজনে মুক্তিযোদ্ধাদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠান স্বাধীনতা দিবসের আলোচনা সভায় পাবনা জেলা বিএনপির সদস্য সচিব, অ্যাডভোকেট মাকসুদুল হক মাসুদ খোন্দকার অতিথির বক্তব্য দিতে গিয়ে বলেন, শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় পালিয়ে পাকিস্তানে চলে যান এবং জিয়াউর রহমান মুক্তিযুদ্ধের ঘোষণা দেন। অথচ শেখ মুজিবুর রহমান ছিলেন বাঙ্গালি জাতির অবিসংবাদিত নেতা, বাঙ্গালি জাতির জনক। মাসুদ খোন্দকার বঙ্গবন্ধুকে কটাক্ষ করে অসত্য বক্তব্য রাখার সময় উপস্থিত সকল মুক্তিযোদ্ধারা ক্ষেপে উঠেন।
তার ভিত্তিহীন মিথ্যা বক্তব্যের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে চেচামেচি করতে থাকেন। হট্টগোলে তার বক্তব্য দেওয়া শেষ হয়ে যায়।
আমি জনাব মাসুদ খোন্দকারের এহেন অসত্য ও ভিত্তিহীন উদ্দেশ্যমুলক বক্তব্যের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি।
মহান মুক্তিযুদ্ধের রনাঙ্গনে সুদীর্ঘ নয়(আট মাস একুশদিন)মাস সশস্ত্র যুদ্ধ পরিচালিত হয়েছে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নামের উপর। শেখ মুজিবুর রহমানের উপরে কোন নেতা বা কর্তৃত্ববাদী ব্যক্তি বা মহল মুক্তিযুদ্ধকালীন সময়ে ছিলোনা। তাকে হেয় প্রতিপন্ন করার উদ্দেশ্য হীনমন্যতা নিয়ে ভিত্তিহীন বক্তব্য প্রদানের সময় পাবনা জেলা শিল্পকলা একাডেমির অডিটা রুমে পাবনা জেলার সকল মুক্তিযোদ্ধাগনকে হট্টগোল ও তীব্র প্রতিবাদ করতে দেখা যায়। জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান, অকুতোভয় সৈনিক, দেশ ও জনতার অতন্দ্র প্রহরীরা সমস্বরে অতিথি মাসুদ খোন্দকারকে বক্তব্য বন্ধ করতে বলেন।চেচামেচি করতে থাকেন দর্শক সারিতে বসে মুক্তিযোদ্ধারা। মুক্তিযোদ্ধাদের উচ্চ বাক্যে প্রতিবাদে জেলা প্রশাসন অনুষ্ঠান বন্ধ করতে বাধ্য হন। শেখ মুজিবুর রহমানের শাসনামলে তার ত্রুটি বিচ্যুতি থাকতে পারে। বাংলাদেশের মুক্তি ও স্বাধীকার আন্দোলনে তার অবদান অনস্বীকার্য। অথচ শেখ মুজিবুর রহমানের পঁচিশ বছরের আন্দোলন-সংগ্রাম, ত্যাগ-তিতিক্ষাকে তিনি অনায়াসেই অবমূল্যায়ন করেছেন।
মহান মুক্তিযুদ্ধে শেখ মুজিবুর রহমানের শুধু একাকিই অবদান নেই! হাজার-হাজার পরিবার, লাখো মুক্তিকামী সৈনিক সহ আপামর বাঙ্গালি জাতির সকল মানুষের অবদানেই দেশমাতা প্রবল পরাক্রমশালী পাক হানাদার বাহিনীর সঙ্গে লড়াই করে প্রবল বীরদর্পে দেশ স্বাধীন করতে পেরেছেন। ভারতের সহযোগিতাকেও অস্বীকার করা বুদ্ধিমানের কাজ হবেনা। ভারত নিজেদের স্বার্থে হোক আর
পাকিস্তানের বিরোধিতায় হোক আমাদের সহযোগিতা না করলে হয়তো আমরা মুক্তির স্বাদ, স্বাধীনতার স্বাদ অতোটা সহজে পরখ করতে পারতাম না! যতটা সহজে স্বাধীনতা যুদ্ধে মুক্তি লাভ করেছি।
মহান মুক্তিযুদ্ধে শত সহস্র বীর সৈনিক লক্ষ কোটি বীর জনতার অংশ গ্রহন রয়েছে।সকলের অবদানেরই যথাযথ মুল্যায়ন আমাদেরকে করতে হবে। তেমনি সাতজন বীরশ্রেষ্ঠ,৬৮জন বীর উত্তম, ১৭৫ জন বীর বিক্রম,৪২৬জন বীর প্রতিক সহ সকল মুক্তি সৈনিকদের মুল্যায়ন করতে হবে।
মেজর জিয়াউর রহমান মুক্তিযুদ্ধের ডাক দিয়েছেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের পক্ষে এবং তিনি জেড ফোর্সের প্রধান হিসেবে,সেক্টর কমান্ডার হিসেবে মহান মুক্তিযুদ্ধে অনস্বীকার্য অবদান রেখেছেন প্রকৃত দেশপ্রেমিক জনতা তা কখনো অস্বীকার করবেনা বা করতে পারেনা।
আপনি পাবনা জেলা বার সমিতির সাবেক সভাপতি ছিলেন। সভাপতি হিসেবে আপনার কোন নির্দেশ বা আপনার অধীনস্থ সমিতির সদস্যদের প্রতি কোন অর্ডার বা আদেশ যদি সমিতির অপর সদস্য পাঠ করে উপস্থাপন করেন বা শোনান তাহলে কি সেই ঘোষণা ঐ ব্যক্তির হয়ে যাবে কি? হবেনা! তদ্রুপ প্রজাতন্ত্রের একজন কর্মকর্তা বা কর্মচারী ক্ষেত্রেও তাই যে, কোন ফরমান বা নির্বাহী আদেশ ঘোষণা করলে সেটা যিনি ঘোষণা করেন তার ঘোষণা হয়ে যায় না বা যাবেনা।
জিয়াউর রহমান মুক্তিযুদ্ধের রনাঙ্গনে সৌর্য-বীর্যে লড়াই করেছেন। তিনি একজন অকুতোভয় সৈনিক ও সত্যিকারের একজন যোদ্ধা, একজন বিচক্ষন রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব ছিলেন।
কখনো কি ভেবে দেখেছেন! যখন ১৯৪৭ সালে ভারত বর্ষ ভাগ হয় তখন জিয়াউর রহমান কোথায় ছিলেন?
যখন ১৯৫২ সালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের বাংলাদেশ ছাত্রলীগের নেতৃত্ব ভাষা আন্দোলন হয়, তখন সেখানে জিয়াউর রহমান ছিলেন না।
যখন ১৯৫৪ সালের যুক্তফ্রন্ট নির্বাচন, ১৯৫৬ শাসনতন্ত্র আন্দোলন, ১৯৬২ সালের শিক্ষা আন্দোলন, ১৯৬৬ সালে ছয় দফা, ১৯৬৯ সালের গণ-অভ্যুত্থান,১৯৭০ সালের সাধারণ নির্বাচন হয় সেখানেই জিয়াউর রহমান ছিলেন না।
পাকিস্তানের একপেশে মনোভাবের বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিবাদ করা নেতার নাম বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। পাকিস্তানের বিমাতা সুলভ আচরনের বিরোধিতা কারী নেতাদের মধ্যে বঙ্গবন্ধু একজন অন্যতম নেতা যিনি যৌবনের বেশির ভাগ সময় কারা অন্তরীন জীবন যাপন করেছেন।
বাংলাদেশ রাষ্ট্র সৃষ্টির পুর্ব থেকে সৃষ্টি পর্যন্ত সবচেয়ে বেশি অবদান রয়েছে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের।
মেজর জিয়াউর রহমান ১৯৭১ সালের ২৭শে মার্চে এসেছেন দৃশ্যপটে। বলাবাহুল্য তিনি সাতাশে মার্চ ১৯৭১ এর আগে জনসমক্ষে ছিলেন অপরিচিত। সেনাবাহিনী ছাড়া তাকে কেউ চিনতেন না।
আমাদের সচেতন দেশপ্রেমিক নাগরিক হিসেবে যার যার প্রাপ্য সম্মান যতটুকু, তাকে ততটুকু দেওয়া সমীচীন।
কাউকে বড় করা বা কাউকে ছোট করা উদ্দেশ্য থাকা উচিৎ নয়। মনের দিক থেকে বড় না হলে গুনীনদেরকে মুল্যায়ন করতে কৃপণতায় পর্যবসিত হতে হয়।
আমি একজন সাধারণ সচেতন নাগরিক ও দেশপ্রেমিক জনতা হিসেবে একজন বরেণ্য আইনজীবী পাবনা জেলা বার সমিতির সাবেক সভাপতি ও পাবনা জেলা বিএনপির সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট মাকসুদুল হক মাসুদ খোন্দকারের ভিত্তিহীন অসত্য উদ্দেশ্য প্রনোদিত বক্তব্যের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি। মুক্তিযোদ্ধাদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার জন্য মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতি জাতির পক্ষ থেকে ক্ষমা প্রার্থনা করছি। (২৬ মার্চ ২০২৫ইং)
🎤✒️এস এম মনিরুজ্জামান আকাশ
কবি-কলামিস্ট, সাংবাদিক-গবেষক,গীতিকার,
পরিবেশ ও মানবাধিকার কর্মী,
সভাপতি-
গ্রিনপিস বাংলা, পাবনা জেলা শাখা,পাবনা।
Leave a Reply