1. mdmirhossainmolla.bd@gmail.com : admi2017 :
  2. editor@banglarrup.com : Banglar Rup : Banglar Rup
সোমবার, ০৭ এপ্রিল ২০২৫, ০২:৪৭ পূর্বাহ্ন

ডিপ্লোমা ডিগ্রিধারীদের ১০ম গ্রেডে বিশেষ সুবিধা নিয়ে রুয়েট শিক্ষার্থীদের উদ্বেগ

  • আপডেট টাইম : রবিবার, ২৩ মার্চ, ২০২৫
  • ৩১ বার

রিয়াজ রাব্বী,ক্যাম্পাস প্রতিনিধি(রুয়েট):-
গতকাল ২২ মার্চ (শনিবার) রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (রুয়েট) চলমান প্রত্যেক ব্যাচের অফিশিয়াল ফেসবুক পেইজ থেকে এই বিবৃতি দেয়া হয়।

নিচে সম্পূর্ণ বিবৃতিটি তুলে ধরা হলো: “রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (রুয়েট) শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে আমরা ডিপ্লোমা ডিগ্রিধারীদের কোটা ব্যবস্থা ও বিশেষ সুবিধার দাবির প্রতি আমাদের গভীর উদ্বেগ জানাচ্ছি ও প্রত্যাখ্যান করছি। এ বিষয়টি কেবল একটি পেশাগত দাবির মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; বরং এটি মেধার যথাযথ মূল্যায়ন, ন্যায্য প্রতিযোগিতা এবং প্রকৌশল ক্ষেত্রে সমতাভিত্তিক ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার প্রশ্নের সঙ্গে জড়িত।

জুলাই গণঅভ্যুত্থান বাংলাদেশের ইতিহাসে একটি যুগান্তকারী অধ্যায়। এ আন্দোলনে শিক্ষার্থীরা মেধা ও সমতার ভিত্তিতে সুযোগের দাবিতে রাজপথে অবতীর্ণ হয়েছিলেন। কোটা ব্যবস্থার বৈষম্যের বিরুদ্ধে গণজাগরণের ফলশ্রুতিতে স্বৈরাচারী শাসনের পতন ঘটে এবং একটি ন্যায়ভিত্তিক সমাজের পথ উন্মোচিত হয়। কিন্তু বর্তমানে ডিপ্লোমা ডিগ্রিধারীদের পক্ষে উত্থাপিত কোটা ও পদোন্নতির দাবি এই আদর্শের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। আমরা রুয়েটের শিক্ষার্থীগণ এ দাবিকে যৌক্তিকতা ও ন্যায়বিচার বিবর্জিত বলে বিবেচনা করি।

ডিপ্লোমা ডিগ্রি একটি কারিগরি প্রশিক্ষণমূলক শিক্ষাক্রম, যা মূলত টেকনিশিয়ান পর্যায়ের দক্ষতা উন্নয়নের জন্য প্রণয়ন করা হয়েছে। এ শিক্ষাক্রম প্রকৌশলীর পূর্ণাঙ্গ পেশাগত যোগ্যতা প্রদান করে না। ডিপ্লোমাধারীরা টেকনিশিয়ান হিসেবে কর্মক্ষেত্রে ভূমিকা রাখার জন্য প্রশিক্ষিত হলেও তাদের পেশাগত অবস্থান ও দায়িত্ব বিএসসি ইঞ্জিনিয়ারদের সমপর্যায়ের নয়। অথচ বর্তমানে সরকারি-বেসরকারি চাকরিতে প্রকৌশলী পদে তাদের নিয়োগ, পদোন্নতি এবং নামের পূর্বে “ইঞ্জিনিয়ার” পদবি ব্যবহারের প্রবণতা প্রকৌশল পেশার মর্যাদাকে ক্ষুণ্ন করছে। এ প্রসঙ্গে আমাদের স্পষ্ট অভিমত: “বিএসসি ইঞ্জিনিয়ারিং ডিগ্রি ব্যতীত কাউকে ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে স্বীকৃতি প্রদান করা যাবে না।”

জুলাই অভ্যুত্থানের মূল লক্ষ্য ছিল মেধা ও ন্যায়ভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠা। এ লক্ষ্যে শতাধিক শিক্ষার্থী আত্মত্যাগ করেছিলেন, যার ফলে কোটার মতো বৈষম্যমূলক ব্যবস্থা রদ করা সম্ভব হয়েছিল। ডিপ্লোমা শিক্ষার্থীদের বর্তমান দাবি সেই আত্মত্যাগের প্রতি অবমাননাকর এবং বৈষম্য পুনর্বহালের হুমকিস্বরূপ।

আমাদের দাবিসমূহ:
১. নিয়োগ নীতির সংস্কার:
– নবম গ্রেডের “সহকারী প্রকৌশলী” পদে শুধুমাত্র বিএসসি ইঞ্জিনিয়ারদের নিয়োগ নিশ্চিত করতে হবে এবং এ পদে ডিপ্লোমাধারীদের জন্য ৩৩% পদোন্নতি কোটা অবিলম্বে বাতিল করতে হবে।
– দশম গ্রেডের “উপ-সহকারী প্রকৌশলী” পদে ১০০% ডিপ্লোমা কোটা রহিত করে এটিকে উভয় পক্ষের জন্য উন্মুক্ত করতে হবে। ডিপ্লোমাধারীগণ দশম থেকে বিংশ গ্রেডে টেকনিশিয়ান পদে নিয়োগের যোগ্য।

২. পদবি ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা:
– আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নিশ্চিত করতে হবে যে, ডিপ্লোমা ডিগ্রিধারীরা নামের পূর্বে “ইঞ্জিনিয়ার” পদবি ব্যবহার করতে পারবেন না।

আমরা সরকারের কাছে আরো আহ্বান জানাছি, প্রকৌশল খাতে মেধার যথার্থ প্রতিফলন নিশ্চিত করতে এবং একটি স্বচ্ছ ও ন্যায়সঙ্গত ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে । এ লক্ষ্যে ডিপ্লোমা ডিগ্রিধারীদের অযৌক্তিক দাবি প্রত্যাখ্যান করে বিএসসি ইঞ্জিনিয়ারদের অধিকার সংরক্ষণ করা হোক।

রুয়েটের সাধারণ শিক্ষার্থীগণ জুলাই অভ্যুত্থানের আদর্শকে হৃদয়ে লালন করেন। আমরা একটি মেধাভিত্তিক, বৈষম্যহীন সমাজ গঠনে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। এ সংগ্রামে সকল শিক্ষার্থী, প্রকৌশলী সমাজ ও সুশীল সমাজের সমর্থন কামনা করছি। জুলাই শহীদদের আত্মত্যাগ আমাদের পথপ্রদর্শক হয়ে থাকুক—এটিই আমাদের কামনা।”

উল্লেখ্য ইঞ্জিনিয়ারিং এর দশম গ্রেডের সরকারি চাকরিতে ইতিমধ্যে ডিপ্লোমা ডিগ্রিধারীদের জন্য বিশেষ সুবিধার ব্যবস্থা আছে। তবে সম্প্রতি তারা সেই সুবিধার পরিমাণ না বাড়ানো নিয়ে আদালতের একটি রায়কে কেন্দ্র করে আন্দোলন করে। এদিকে নবম ও দশম গ্রেড মিলিয়ে বিএসসি ইঞ্জিনিয়ারদের বেশি যোগ্যতা সত্ত্বেও নিয়োগ কম দেয়ার অভিযোগ উঠেছে।

নিউজটি শেয়ার করুন..

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর..
© All rights reserved © 2024
Theme Customized By BreakingNews