1. mdmirhossainmolla.bd@gmail.com : admi2017 :
  2. editor@banglarrup.com : Banglar Rup : Banglar Rup
সোমবার, ০৭ এপ্রিল ২০২৫, ০৪:১৩ পূর্বাহ্ন

বায়ুদূষণ : দেশের জন্য অশনি সংকেত

  • আপডেট টাইম : বৃহস্পতিবার, ১৩ মার্চ, ২০২৫
  • ৪৪ বার

গাজী ফারুক আহমেদ পৃথ্বীঃ সুইজারল্যান্ডভিত্তিক প্রতিষ্ঠান আইকিউএয়ারের ‘বৈশ্বিক বায়ুমান প্রতিবেদন ২০২৪’ উপস্থাপন ধরা হয়েছে সম্প্রতি। প্রতিষ্ঠানটি বাতাসের মান নিয়ে তৈরি করা এই লাইভ আইকিউএয়ারের সূচকে একটি নির্দিষ্ট শহরের বাতাস কতটা নির্মল বা দূষিত, সে সম্পর্কে তথ্য দেয়। ১৩৮টি দেশ ও অঞ্চলের প্রায় ৪০ হাজার নজরদারি স্টেশন থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে আইকিউএয়ারের প্রতিবেদন তৈরি করা হয়েছে।

বায়ুদূষণের অন্যতম উপাদান পিএম ২.৫ বা অতিক্ষুদ্র বস্তুকণার উপাদান ধরেই এই বায়ুর মান নির্ণয় করা হয়েছে এ প্রতিবেদনে। সেখানে দেখা গেছে, ২০২৪ সালে বাংলাদেশের প্রতি ঘনমিটার বায়ুতে অতিক্ষুদ্র বস্তুকণার (পিএম ২.৫) উপস্থিতি ছিল ৭৮ মাইক্রোগ্রাম। ২০২৩ সালে তা ছিল ৭৯ দশমিক ৯ মাইক্রোগ্রাম।
প্রতিবেদন অনুযায়ী বায়ুদূষণে ২০২৪ সালে দেশ হিসেবে দ্বিতীয় অবস্থানে ছিল বাংলাদেশ। নগর হিসেবে বিশ্বের তৃতীয় শীর্ষ নগর ছিল ঢাকা। দেশের নিরিখে বাংলাদেশের পরই আছে পাকিস্তান। আগের বছর দেশ হিসেবে বাংলাদেশ শীর্ষে ছিল, আর নগর হিসেবে ঢাকার অবস্থান ছিল দ্বিতীয়। এবার বায়ুদূষণে শীর্ষ দেশটি হলো আফ্রিকার দেশ চাদ। নগর হিসেবে শীর্ষে আছে ভারতের রাজধানী দিল্লি। চাদ, বাংলাদেশ, পাকিস্তান ও কঙ্গোর পরেই তালিকায় পঞ্চম স্থানে রয়েছে ভারত। বাংলাদেশের গড় বায়ুদূষণ বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) নির্দেশিত মাত্রার চেয়ে ১৫ গুণ।
২০২২ সালে বাংলাদেশ বিশ্বের দূষিত বাতাসের দেশের তালিকায় পঞ্চম অবস্থানে ছিল এবং ভারতের অবস্থান ছিল অষ্টম। ওই বছর দেশের বাতাসে পিএম ২.৫-এর উপস্থিতি ছিল ৬৫ দশমিক ৮। নগর হিসেবে দূষণের দিক থেকে ঢাকার অবস্থান ছিল তৃতীয়। এ নগরের বায়ুতে পিএম ২.৫-এর উপস্থিতি ছিল ৭৮ মাইক্রোগ্রাম। ২০২৩ সালে এর পরিমাণ ছিল ৮০ দশমিক ২ মাইক্রোগ্রাম। এ তালিকায় শীর্ষে থাকা নয়াদিল্লির বাতাসে পিএম ২.৫-এর উপস্থিতি ৯১ দশমিক ৮।
এ বিষয়ে গভীর উৎকণ্ঠা প্রকাশ করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগের অধ্যাপক আবদুস সালাম, যিনি দীর্ঘদিন ধরে দেশের বায়ুমান নিয়ে গবেষণা করছেন, তিনি বলেন, পিএম ২.৫ মূলত ধূলিকণা। এটি স্বাস্থ্যের জন্য সবচেয়ে বিপজ্জনক। কণাগুলো ফুসফুস ও রক্তপ্রবাহে প্রবেশ করে থাকে। দেশের পরিবেশ ও স্বাস্থ্য বিষয়ে যারা দায়িত্বে, তাদের এখন অনেক বেশি সজাগ হওয়ার দরকার। নয়তো ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য এক দুর্বিষহ অবস্থা অপেক্ষা করছে।
এই অশনি সংকেতকে আমরা খুব একটা তোয়াক্কা করছি বলে মনে হচ্ছে না। ফলে বড় বিপর্যয়ের দিকেই আমরা ধাবিত হচ্ছি তাতে কোনো সন্দেহ নেই। লেখকঃ গাজী ফারুক আহমেদ পৃথ্বী/ সাংবাদিক ও কলামিস্ট।

নিউজটি শেয়ার করুন..

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর..
© All rights reserved © 2024
Theme Customized By BreakingNews