মীর হোসেন মোল্লাঃ আমরা বাংলাদেশের নাগরিক হিসেবে একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র চাই, যেখানে রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের মধ্যে সততা, যোগ্যতা ও দেশপ্রেম থাকবে, একই সঙ্গে থাকবে অবাধ, নিরপেক্ষ এবং স্বচ্ছ নির্বাচনী ব্যবস্থা। এ রকম রাষ্ট্রব্যবস্থা বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে রাষ্ট্রের নীতিগত ভিত্তি, কার্যকর কাঠামো এবং এর সামাজিক- রাজনৈতিক-অর্থনৈতিক পরিপ্রেক্ষিতকে বহুমাত্রিকভাবে মূল্যায়ন করতে হবে। গণতন্ত্রের আদর্শ ও বাস্তব গণতন্ত্র—এই দুইয়ের ভেতর একটি ফাঁক রয়েছে, যা পূরণ করা বর্তমান রাষ্ট্রের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ।
তবু আমরা এমন একটি রাষ্ট্রের স্বপ্ন দেখি, যেখানে ‘ধর্ম ও গণতন্ত্র’ সহাবস্থানে থাকবে। এটি তখনই সম্ভব হবে যখন ধর্মকে রাষ্ট্রীয় নীতি থেকে পৃথক রাখা যাবে। রাষ্ট্রকে সর্বোত্তম রূপে প্রতিষ্ঠা করতে হলে শুধু রাজনৈতিক প্রক্রিয়া নয়, বরং একটি সামাজিক, অর্থনৈতিক এবং সাংস্কৃতিক আন্দোলনে পরিণত করতে হবে। এটি তখনই সম্ভব যখন রাষ্ট্রের প্রতিটি স্তর তথা নাগরিক, প্রশাসন, রাজনৈতিক দল এবং আন্তর্জাতিক অংশীদাররা একসঙ্গে কাজ করবে।ি
জুলাই বিপ্লবের পর বাংলাদেশকে ঢেলে সাজানোর দ্বার উন্মোচন হয়েছে। এ দেশের প্রেক্ষাপটে সবচেয়ে নাজুক অবস্থায় রয়েছে রাজনৈতিক পরিবেশ। রাজনৈতিক দলগুলোর দলীয়করণ নীতি অবসান করতে হবে। প্রশাসন, শিক্ষা ও অন্য প্রতিষ্ঠানগুলোকে দলীয় নিয়ন্ত্রণ থেকে মুক্ত করতে হবে এবং বাংলাদেশের রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে উন্মুক্ত সংলাপের সংস্কৃতি চালু করলে আমাদের প্রত্যাশিত স্বপ্নের বাংলাদেশকে দেখতে পাব বলে আশা করা যায়।
বিপ্লবোত্তর নতুন বাংলাদেশ গড়তে হলে প্রত্যেক সেক্টরে পরিবর্তন আনা জরুরি। বাংলাদেশের রাজনীতিতে কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন আনতে হলে এর মূল কাঠামো, প্রক্রিয়া এবং সংস্কৃতিতে ব্যাপক পরিবর্তন প্রয়োজন। মূলত দলকেন্দ্রিক ও ক্ষমতাকেন্দ্রিক রাজনীতির অসহিষ্ণুতা, সহিংসতা বন্ধ করে ‘সংলাপ এবং সহনশীলতার সংস্কৃতি’ চালু করার মাধ্যমে পরিবর্তন আনা অত্যাবশ্যক। সেই সঙ্গে লক্ষণীয়, যেখানে বাংলাদেশের নির্বাচন কমিশনের স্বাধীনতাই প্রশ্নবিদ্ধ, সেখানে নির্বাচনী প্রক্রিয়ার সংস্কার তীব্রভাবে প্রয়োজন। নির্বাচন কমিশনকে সম্পূর্ণ স্বাধীন, শক্তিশালী ও রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত রাখতে সাংবিধানিকভাবে সুরক্ষা দিয়ে আইন সংস্কার করতে হবে।
প্রভাবশালী এবং ধনী ব্যক্তিদের আর্থিক ক্ষমতার যে অযাচিত দৌরাত্ম্য তা রুখতে রাজনৈতিক দলগুলোরই ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। প্রয়োজনে আইন প্রণয়ন করে এই জায়গাটা সংস্কার করা উচিত বলে মনে করি। এ ছাড়া আরো অনেক অনেক পরিবর্তন প্রয়োজন, তবে এই পরিবর্তনগুলো শুধু রাজনৈতিক দল নয়, বরং নাগরিক, সুধীসমাজ এবং প্রশাসনিক কাঠামোর সম্মিলিত উদ্যোগে বাস্তবায়ন করতে হবে। পরিবর্তন ধীরে ধীরে আসবে, তবে তা সঠিক পথে পরিচালিত হলে একটি ন্যায়ভিত্তিক ও উন্নত বাংলাদেশ নিশ্চিত করা সম্ভব। লেখক : মীর হোসেন মোল্লা/ সাংবাদিক।
Leave a Reply