1. mdmirhossainmolla.bd@gmail.com : admi2017 :
  2. editor@banglarrup.com : Banglar Rup : Banglar Rup
সোমবার, ২৩ মার্চ ২০২৬, ০৪:০৪ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
ঈদুল ফিতরের আনন্দে মেতে উঠবে কারাগারের কারাবন্দিরাও উদ্দীপ্ত-‘৯৫ বেনাপোল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের এস এস সি ব্যাচ-১৯৯৫ এর দোয়া ও ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত গোয়াইনঘাটে প্রবাসী কমিউনিটি ও বিএনপি নেতা আব্দুল খালিক এর উদ্যোগে শতাধিক পরিবারে ঈদ উপহার বিতরণ বেনাপোলের সীমান্ত এলাকায় বিজিবি’র অভিযানে চোরাচালান পণ্য আটক ফটিকছড়িতে টিলা কাটা ও মাটি অপসারণে জরিমানা ১ লাখ টাকা আবেগে উচ্ছাসে যাদের কাছে ঋনী-৩, আবেগে উচ্ছাসে যাদের কাছে ঋনী-২, (এস এম মনিরুজ্জামান আকাশ) আমি, আনিসুল ইসলাম ও ওযায়ের আনসারী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় মসজিদে আসর আদায় করি ও শুকরানা নামাজ আদায় করে সকলের সাথে মিলিত হই। এক ঝুড়ি লিচু এনেছিলেন দিনাজপুর থেকে নুরে জান্নাত ভাবী, রাজশাহী থেকে ঝুড়ি ভর্তি আম এনেছিলেন সাথী আপা, জেছমিন আক্তার (রাজশাহী),সাবিনা ইয়াছমিন(গাজীপুর),আমরা লিচু খেয়েছি, আম খেয়েছি প্রান খুলে। আমরা মহিউদ্দিন মহিন ভাই এর আমন্ত্রণে বৃষ্টির মাঝে দাড়িয়ে হালিম খেয়েছি। মুসলধারে বৃষ্টি হচ্ছে নড়াইলের ওয়াহিদ ভাই বাইকে করে আমাকে কাওরান বাজার পৌঁছে দেন।কৃতজ্ঞতা ওয়াহিদ ভাইকে। বাসে চড়ে মিরপুর কাজীপাড়া নেমে হেটে আবার শেওড়াপাড়ায় ফিরি। রুমে আমার জন্য অপেক্ষামান বিশ্ব ব্যাংকে কর্মরত অগ্রজবর মোঃ রজব আলী (ঢাকা বার), নাটোর বারের বড় ভাই মোঃ মোখলেছুর রহমান মোখলেস, কুমিল্লার বন্ধু মোঃ বিল্লাল হোসেন। সকলেই পরীক্ষা নিয়ে আলোচনা করে নিশ্চিত হই সকলেই পাশ করবো ইনশাআল্লাহ। রাতে খাবার খেয়ে বিশ্বব্যাংকে কর্মরত(নড়াইলের) রাজীব দাদা, অনিক, মাসুদ, সহ কয়েকজন আড্ডা দিয়ে ঘুমিয়ে পড়ি। বৃষ্টিতে ভেজার কারনে আমার জ্বর আসে প্রচন্ড। রাত রেজাল্ট প্রকাশ করে বার কাউন্সিল, আমি জানতে পারি শেষ রাতে। নামাজ আদায় করে নিশ্চিত হই আমরা এক রুমে অবস্থানকারী চার জনই পাশ করেছি। আমি “পরিবেশ-সম্প্রীতি ও মানবাধিকার” নিয়ে কাজ করা আন্তর্জাতিক সংগঠন গ্রিনপিস বাংলা-র পাবনা জেলা শাখার সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালনকারী একজন। আমি ও বড় ভাই মোঃ রজব আলী ১৮ই জুন ২০২২ পুরান ঢাকায় সাক্ষাৎ করতে যাই গ্রিনপিস বাংলা-র কেন্দ্রীয় মহাসচিব সৈয়দ আবুল মোয়াজ্জম শামীম স্যারের সাথে। সেখানে জোহর ও আসর নামাজ আদায় করে দুপরের খাবার খেয়ে বিশ্রাম নিয়ে উপহার সামগ্রী নিয়ে গুলিস্তান হয়ে শেওড়া পাড়া সিটি বাজারে ফিরে আসি। ১৯শে জুন ২০২২ নীলক্ষেত গিয়ে আইনের কিছু বই কিনে ফিরি আসি ফার্মগেট আরএইচ হোম-এ “আইন কানুন একাডেমি” তে। সাক্ষাৎ করি আইন অঙ্গনের একজন অন্যতম শ্রেষ্ঠ থিওরি প্রেজেন্টার অ্যাডভোকেট মুরাদ মোর্শেদ স্যারের সাথে। স্যার মিষ্টি মুখ করিয়ে কুশালাদি জিজ্ঞেস করেন। বিভিন্ন ট্রপিকস এর উপর উপস্থিত আলোচনায় (আমার অপরাপর সহপাঠী, সনদ যোদ্ধা, সনদ প্রত্যাশী বন্ধুদেরকে নিয়ে) বসে পড়েন। তাৎক্ষণিক ভাবে অ্যাডভোকেট মোঃ জাহাঙ্গীর আলম স্যারের আইন পাঠ লিখিত গাইড কেনার পরামর্শ দেন এবং আমরা অনেকেই সঙ্গে সঙ্গে তা ক্রয় করি। আলোচনা শেষ করে রজব আলী ভাই এর কাছে সিটি বাজারে ফিরে আসি। পরদিন যথারীতি পাবনায় চলনবিলের দক্ষিণ পাড়ে আমার বসত ঘর “মনোয়ারা হালিম কাব্যকুঞ্জ’-এ ফিরে আসি। কর্ম ব্যস্ততায় রাজনৈতিক ব্যস্থতায় জড়িয়ে পড়ি। ১৭সেপ্টেম্বর ২০২২ বার কাউন্সিল এনরোলমেন্ট লিখিত পরীক্ষার ডেট ছিলো। ভিলেজ পলিটিক্সের আষ্টেপৃষ্টে এমন ভাবে আটকে যাই যে, আমি বেড় হতে চাইলেও এলাকার লোকেরা আমাকে বের হতে দেয়নি। আমার আব্বার আন্তরিক প্রচেষ্টা ও স্বপ্নের প্রতিফলনে গড়ে উঠা হিড়িন্দা দাখিল মাদ্রাসার ম্যানেজিং কমিটি গঠন নিয়ে মত পার্থক্য চরমে ওঠে, ঠিক এলাকার লোকজন দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে পড়ে। এমপি গ্রুপে ফৈলজানা ইউপি চেয়ারম্যান মোঃ হাফিজুর রহমান ও উপজেলা চেয়ারম্যান গ্রুপে ফৈলজানা ইউপি প্যানেল চেয়ারম্যান মোঃ আব্দুল হামিদ সরদার। এলাকার সৃজনশীল লোকজন আমাকে বলেন যে, তোমার আব্বা অথবা তুমি হবে নিরপেক্ষ প্রার্থী। এলাকার সকল লোকের চেয়ে এই মাদ্রাসায় তোমার আব্বার অবদান সবচেয়ে বেশি আছে ও কবি ডাঃ আব্দুল হালিম মাষ্টার (আমার পিতা) বিনা বেতনে ১৭ বছর শিক্ষকতা করেছেন। কোন মতেই দুই গ্রুপ একত্রে না বসায় আমি উপজেলা চেয়ারম্যান এর গ্রুপে সমর্থন দেই, আমাকে সভাপতি করবে শর্তে। কিন্তু ভিলেজ পলিটিক্সের মার প্যাচে আমি বাদ পড়ে গেলে, কিছু লোকের পরামর্শ ও সহযোগিতায় তৃতীয় প্যানেলে একজন স্বতন্ত্র প্রার্থী দাড় করাই।(শিক্ষক মন্ডলীদের তিন ভোট শিক্ষকেরা আমাকে দিবেন ওয়াদা করেছিলেন এ প্রেক্ষিতে)। আগষ্ট মাসটা আমাকে পড়ালেখা থেকে বিচ্ছিন্ন থেকে নির্বাচন করতে হয় শক্তিশালী দুই গ্রুপের বিপক্ষে। তিন জন অভিভাবক সদস্য ও একজন সংরক্ষিত মহিলা সদস্য পদের বিপরীতে দুই গ্রুপে (৪+৪)আট জন ও আমার একজন দিয়ে মোট ৯ জন বৈধ প্রার্থী হয়। মহিলা প্রার্থী একজন মনোনয়ন প্রত্যাহার করলে তখন তিনটি পদের বিপরীতে মোট ৭জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতায় অবতীর্ণ হয়। পেশী শক্তি ও কালো টাকার কাছে আমি ও আমার প্রার্থী (৭জনের মধ্যে ৬নং হয়ে) হেরে যাই। হাতে একটি ভোট দরকার ছিলো কিন্তু তা থেকে ব্যর্থ হয়েও শিক্ষক মন্ডলীদের তিন ভোট হাতে থাকে। দুই গ্রুপে ভোট জমা হয় চেয়ারম্যান এর হাতে ৩ টা ও প্যানেল চেয়ারম্যান এর হাতে ২টা। তখনও আমার সভাপতি হওয়ার সুযোগ ছিলো যদি দুই ভোটের প্যানেল চেয়ারম্যান আমাকে সমর্থন দেন। কিন্তু তিনি বিশ্বাস-অবিশ্বাসের জ্বরে আক্রান্ত ছিলেন। তিনি হলেন একজন নিরক্ষর ব্যক্তি। আমি একজন স্বতন্ত্র প্রার্থী দেওয়ার জন্য পুরো দস্তুর নির্বাচন করতে উভয় পক্ষের পনেরো লক্ষ টাকার উপরে খরচ হয়েছে বলে আমার দিকে আঙ্গুল তোলা হয় দুই গ্রপের দিক থেকেই। আমি ও আমার নির্বাচন পরিচালনায় সহযোগীরা মিলে কৌশল অবলম্বন করে চেয়ারম্যান এর পক্ষে এক ভোট ও প্যানেল চেয়ারম্যান এর পক্ষ দুই ভোট দিয়ে( ৪+৪) সমান সমান করে দিলাম। লটারী হলো চেয়ারম্যান জয়ী হয়ে হিড়িন্দা দাখিল মাদ্রাসা পরিচালনা কমিটির সভাপতি নির্বাচিত হলেন। আমি ভিলেজ পলিটিক্সের গোড়া খুঁজতে গিয়ে আগষ্ট মাসটি হারিয়ে ফেললাম। আমি আইন কানুন একাডেমির অনলাইন ব্যাচে ক্লাস বন্ধু করে ২৬টি গ্রামে অভিভাবকদেরকে বুঝিয়েছি। কিন্তু কচকচা হাজার টাকার নোটের কাছে, নোটের ভাজে আমার আবেগ-অনুভূতি সচেনতা অসারতায় আটকে ছিলো। আমাকে প্রিয় মুরাদ মোর্শেদ স্যার বলতেন আগে অ্যাডভোকেট হোন, তারপর সকল কিছু আপনার কাছে ধরা দেবে। আমি স্যারকে উপেক্ষা করেছি। (১৬ মার্চ ২০২৬ইং) 🖋️এস এম মনিরুজ্জামান আকাশ অ্যাডভোকেট- জেলা ও দায়রা জজ আদালত, পাবনা আবেগে উচ্ছ্বাসে যাদের কাছে ঋনী-১, “বাংলাদেশ বার কাউন্সিল কর্তৃক এডভোকেট স্বীকৃতি অর্জন করলেন পাবনার কবি এস এম মনিরুজ্জামান আকাশ” বেনাপোল পৌরসভার ৫ নং ওয়ার্ডের যুবদল নেতা পিন্টু ৪০০ পরিবারের মাঝে ঈদ সামগ্রী উপহার দিয়েছেন

ডুমুরিয়াসহ সারা দেশে বিভিন্ন পদ্ধতিতে মাছ শিকার

  • আপডেট টাইম : শুক্রবার, ১৬ মে, ২০২৫
  • ১১৩ বার

শেখ মাহতাব হোসেন: ‘মৎস্য মারিব, খাইব সুখে’- সুখী ও প্রাকৃতিক সম্পদে সমৃদ্ধ প্রাচীন বাংলার লোকমুখে বহুল প্রচলিত প্রবাদ। বাঙালি ও মাছ তাই একে অন্যের পরিপূরক। মাছ নিয়ে বাঙালির মনের কোণে আছে তীব্র আবেগ ও ভালোবাসা। একজন বাঙালি পৃথিবীর যে প্রান্তেই থাকুক না কেন, মাছ তাকে কাছে টেনে নেবেই। তাই তো ‘মাছে-ভাতে বাঙালি’ যেন বাঙালি জীবনের ঐতিহ্য বহন করে।

তাই মাছ শিকারও যেন বাঙালি জীবনের এক অবিচ্ছেদ্য অংশ। গ্রামাঞ্চলে মৌসুমী জলাশয় বা বিলে নানা সরঞ্জাম দিয়ে বা সরঞ্জাম ছাড়া প্রায়ই মাছধরা একটি সুপরিচিত দৃশ্য। বাংলাদেশে মাছধরার চিরায়ত প্রধান পদ্ধতিগুলো হলো:

• জখম করার হাতিয়ার: এ ধরনের সরঞ্জামের মধ্যে রয়েছে বর্শাজাতীয় হাতিয়ার, যা ছোড়া যায় অথবা যা দিয়ে সরাসরি মাছ গাঁথা হয়।• টানাবড়শি: স্বাদুপানিতে ও সমুদ্রে লম্বা সুতার টানাবড়শি এবং ছিপে বড়শির ব্যবহার, গ্রামের ধানক্ষেতে ও বিলে অনেকগুলো বড়শিসহ একটি দীর্ঘ সুতা ভাসিয়ে রাখা ইত্যাদি বাংলাদেশের বড়শি দিয়ে মাছ শিকারের সাধারণ নমুনা। বড়শি দিয়ে মাছ শিকারে মাছকে প্রাকৃতিক বা কৃত্রিম টোপ দিয়ে আকৃষ্ট করা হয় অথবা চারা ফেলে প্রলুব্ধ করা হয়।• মাছ ধরার ফাঁদ: গ্রামাঞ্চলে বাঁশের শলা দিয়ে বিভিন্ন ধরনের চাঁই তৈরি করা হয়। এতে থাকে বিভিন্ন আকৃতির খোপ। এতে মাছ ঢোকানোর কৌশল আছে, কিন্তু বের হওয়ার কোন উপায় নেই। গ্রামাঞ্চলে বর্ষাকালে বন্যার সময় লোকে মাছ ধরার ফাঁদ পাতে। বাংলাদেশের বিভিন্ন অঞ্চলে প্রচলিত বিভিন্ন ধরনের ফাঁদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য ইকবর চাঁই, বুচনা, বেগা, ডুবা ফাঁদ, দারকি, উন্টা, তেপাই, ধীল, চেং, চাঁই, চান্দি বাইর, বানা, পলো, রাবনি, চারো ইত্যাদি।• জাল: আকার ও আকৃতি, ফোকরের আয়তন, পানিতে পাতার অবস্থান ও ব্যবহার পদ্ধতির ভিত্তিতে বাংলাদেশে ব্যবহৃত জালকে নানাভাবে শ্রেণিবিন্যাস করা হয়। যেমন- ব্যাগজাল, ভাসাজাল, ঝাঁকিজাল, ধর্মজাল, ফলিং নেট ইত্যাদি।

বড়শি, বিভিন্ন ধরনের জাল, টেটা বা কোঁচ, পলো, ঘূর্ণি, গৃহপালিত ভোঁদড় ইত্যাদি দিয়ে মাছ শিকারের কতশত গল্প যে বহন করে চলছে বাঙালি জীবন!

 

মাছধরার বিভিন্ন পদ্ধতি সেই আদিকাল থেকেই চলে আসছে, তবে চলুন দেশ-বিদেশের মাছ ধরার প্রথাগত পদ্ধতির রাজ্যে ডুব দিয়ে আসি। এ বিষয়ে কথা হয় ডুমুরিয়া উপজেলার সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা জনাব সোহেল মোঃ জিল্লুর রহমান রিগান-এর সাথে। তিনি বলেন যে, “ডুমুরিয়ায় মাছ শিকার একটি প্রাচীন এবং ঐতিহ্যবাহী কর্মকাণ্ড, যা যুগ যুগ ধরে স্থানীয় সংস্কৃতির সঙ্গে গভীরভাবে জড়িয়ে রয়েছে। খুলনা জেলার ডুমুরিয়া উপজেলার বিস্তীর্ণ নদী-নালা, খাল-বিল ও জলাশয় এলাকাটি নানা প্রাকৃতিক সম্পদে সমৃদ্ধ, যার মধ্যে অন্যতম হচ্ছে মাছ। এখানকার মানুষ প্রকৃতির ছায়ায় নিজেদের জীবনযাত্রা পরিচালনা করে, আর মাছ শিকার তাদের জীবিকার পাশাপাশি এক ধরনের ঐতিহ্যবাহী সংস্কৃতি হিসেবেও বিবেচিত। ডুমুরিয়ায় মাছ শিকারের ইতিহাস শুধু জীবিকার ইতিহাস নয়, এটি একটি সংস্কৃতি, যা বাঙালির আবেগ, ঐতিহ্য ও প্রাকৃতিক জীবনের প্রতিচ্ছবি। এই অঞ্চল মাছের জন্য যেমন বিখ্যাত, তেমনি মাছ ধরার শিল্পের জন্যও ঐতিহাসিকভাবে মূল্যবান। প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে এই ঐতিহ্য পৌঁছে দেওয়া আমাদের সাংস্কৃতিক দায়িত্ব।”

 

প্রাচীন পদ্ধতিতে মাছ শিকারঃ ডুমুরিয়ায় মাছ শিকারের ঐতিহাসিক পদ্ধতি মূলত ছিল দেশীয় যন্ত্রপাতি ও প্রাকৃতিক উপকরণ নির্ভর। বাঁশ, কঞ্চি, পাটের দড়ি, নারকেলের ছোবড়া ইত্যাদি ব্যবহার করে তৈরি হতো চাঁই, পলো, বাঁধ জাল, কোঁচ বা টেটা ইত্যাদি।

চাঁই ও পলোঃ বাঁশের তৈরি চাঁই বা পলো দিয়ে বর্ষা মৌসুমে মাছ ধরা ডুমুরিয়ার গ্রামীণ সমাজে একটি পরিচিত চিত্র। গ্রামের খাল-বিলে পানি বাড়ার সাথে সাথে পুরুষরা নেমে পড়তেন পলো নিয়ে মাছ ধরতে। কোনো কোনো পরিবার রাতভর চাঁই পেতে রেখে ভোরে তা তুলে মাছ সংগ্রহ করত।

টেটা বা কোঁচঃ দূর থেকে মাছ লক্ষ্য করে টেটা ছুঁড়ে মারা – এই প্রাচীন কৌশল ডুমুরিয়ার অনেক বয়োজ্যেষ্ঠ জেলেদের স্মৃতিতে আজও জীবন্ত। এটি একদিকে যেমন দক্ষতার পরিচায়ক, অন্যদিকে সাহসিকতারও প্রতীক।

বড়শি ও ছিপঃ বড়শি দিয়ে মাছ ধরা ছিল চিরন্তন একটি অভ্যাস। ছোট খাল, পুকুর বা বিলের ধারে বসে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করে মাছ ধরার মাধুর্য ছিল ডুমুরিয়ার চাষাভূষা মানুষের রোজকার জীবনের অংশ।

বন্যা ও বর্ষাকালের প্রভাবঃ ডুমুরিয়ায় বর্ষাকাল এবং বন্যা মাছ ধরার উপযুক্ত সময় হিসেবেই পরিচিত। এ সময় খাল-বিল, মাঠ, নদী ভরে ওঠে পানিতে এবং মাছ ছড়িয়ে পড়ে সবখানে। গ্রামের মানুষ নানা কৌশলে, কখনও দল বেঁধে, আবার কখনও একা একা মাছ ধরার অভিযানে নামে।

 

বাংলাদেশের দক্ষিণাঞ্চলে বিশেষ করে সুন্দরবনের নদীগুলোর তীরে বসবাসকারী এবং নড়াইলের চিত্রা নদীর পাড়ের বেশ কিছু জেলে পরিবার এখনো ‘ভোঁদড় দিয়ে মাছ শিকার’র প্রথা টিকিয়ে রেখেছে। জেলেদের নৌকার একপ্রান্তে বাঁশের চটা দিয়ে তৈরি করা ঘরে ভোঁদড় আটকে রাখা হয়। মাছধরার জন্য ত্রিভুজ আকৃতির জাল ব্যবহার করেন। নদীতে জাল ফেলার সময় ভোঁদড়ের ঘরের দরজা খুলে জালের দু’পাশে পানিতে নামিয়ে দেওয়া হয়। পানিতে নেমে ভোঁদড় মাছকে তাড়িয়ে জালের মধ্যে নিয়ে এলে জেলেরা জাল টেনে ডাঙায় ওঠান। অক্টোবরের মাঝামাঝি থেকে জানুয়ারি পর্যন্ত নৌকা আর ভোঁদড় নিয়ে নদীপথে পাড়ি জমান স্থানীয় জেলেরা। ভোঁদড়কে এ পরিবারগুলো অন্যান্য গৃহপালিত পশু-পাখির মত লালন-পালন করেন। শিকারে যাওয়ার আগে ভোঁদড়কে মাছ খাওয়ানো হয়। আবার জালে যেসব মাছ ধরা পরে তার একটি অংশও ভোঁদড় পায়। ফলে সে জেলেদের প্রতি বিশ্বস্ত থাকে।

 

টেটা বা কোঁচ দিয়ে মাছ শিকার: এটি একটি দীর্ঘ বর্শার মত যন্ত্র, যা মাছ শিকারে ব্যবহৃত হয়। মাছের উপর বেশ খানিকটা দূর থেকে টার্গেট করে টেটা নিক্ষেপ করে শিকার করা হয়। বাংলাদেশের বিভিন্ন বিলে প্রতিবছর আষাঢ় থেকে ভাদ্র মাস পর্যন্ত যেসব যন্ত্র দিয়ে মাছ ধরা হয়, তার মধ্যে কোঁচ অন্যতম। বর্শা জাতীয় দশ-পনেরোটি অগ্রভাগ তীক্ষ্ণ ধারালো গোলাকার লোহার টুকরো বাঁশের চোখা অগ্রভাগগুলোর মাথায় পরিয়ে দিয়ে কোঁচ বানানো হয়। দূর থেকে নিক্ষেপযোগ্য করার জন্য অপর একটি বাঁশের সাথে এ অংশ জোড়া দেওয়া হয়। মাছ শিকারীরা দূর থেকে মাছ ধরার এ যন্ত্র মাছকে লক্ষ্য করে নিক্ষেপ করে ঘায়েল করে বড় বড় মাছ শিকার করেন। অনেকে লোহার অগ্রভাগে কালা বা আল তৈরি করে নেন। যেন কোঁচ এককাঁটা বা তেকাঁটায় বিদ্ধ হওয়া মাছ ছুটে যেতে না পারে। মাছ ধরার আধুনিক অনেক উপকরণ বা যন্ত্র আবিষ্কার হলে কোঁচের ব্যবহার অনেক কমে এলেও এর আবেদন এখনো ফুরিয়ে যায়নি। এটি আমাদের প্রাচীনকালের কথা স্মরণ করিয়ে দেয়।

 

কর্মরেন্ট পাখি দিয়ে মাছ শিকার: চীন, জাপান ও কোরিয়ায় কর্মরেন্ট পাখি দিয়ে মাছ শিকার হাজার বছরের পুরোনো ঐতিহ্য। লম্বা ও শক্তিশালী ঠোঁট বিশিষ্ট, জলজ শিকারি পাখি কর্মরেন্ট। সাধারণত ছোট একটি কাঠের তৈরি ভেলা এবং সঙ্গে বেশ কয়েকটি কর্মরেন্ট নিয়ে শুরু হয় জেলেদের মাছ ধরার অভিযান। তারপর পানিতে ছেড়ে দেওয়া হয় এ পাখি। তবে এর আগে কর্মরেন্টের গলা এমনভাবে বেঁধে দেওয়া হয়, যাতে তারা মাছ গিলতে না পারে। মাছ শিকারে দক্ষ পাখিগুলো কখনোই মাছ ছাড়া উপরে উঠে আসে না। আর গলায় বাঁধন থাকার কারণে বড় মাছ ঠোঁটে নিয়ে উপরে উঠে আসতে হয়। তারপর পাখিদের ঠোঁট থেকে মাছটি সরিয়ে নেওয়া হয়। সাধারণত কিছু সময়ের মধ্যে বড় সাইজের ডজনখানেক মাছ ধরে নিতে পারে এ প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত কর্মরেন্ট।

 

হাঁসের বাচ্চা দিয়ে মাছ শিকার: কম্বোডিয়া, ফিলিপাইন ও ভিয়েতনামের গ্রামগুলোতে হাঁসের তুলতুলে বাচ্চা দিয়ে মাছ শিকার করা নিত্যকার একটি পদ্ধতি। প্রথমে একটি বড়শির টোপের কাছাকাছি জায়গায় হাঁসের বাচ্চা বেঁধে পানিতে ছেড়ে দেওয়া হয়। এরপর বাচ্চাটা হয়তো স্বভাবমত বা ভয়ে তীব্র ডাকাডাকি শুরু করে। বাচ্চার ডাক শুনে মাছ এসে টোপ গিলে নেয়। এরপর বাচ্চাসহ ভারি মাছটাকে টেনে তোলা হয়। আর টানতে গিয়ে বাচ্চার পেটে প্রবল চাপ পড়ে। আবার অনেক সময় বড়মাছ টোপসহ বাচ্চা গিলে খেয়ে ফেলে। দৃশ্যটি দেখার অভিজ্ঞতা ভিন্নরকম হলেও হাসের বাচ্চার কষ্ট হৃদয় ছুঁয়ে যেতে বাধ্য।

 

গোল্ডেন মহাশের মাচ্ছা’ শিকার: ভরা বৃষ্টির সময় নেপালের পাহাড়ি নদী নতুন করে যৌবন ফিরে পায়। নদীর বেশি গভীর, বরফ জমা ও বিপদসঙ্কুল অংশ থেকে কম গভীর ও পাথুরে অংশে স্রোতে ভেসে এসে আটকা পড়ে নানা জাতের মাছ। এর মাঝে বেশি আসে বেশ বড় বড় আকারের ‘গোল্ডেন মহাশের মাচ্ছা’। বৃষ্টির দিনে ছিপ নিয়ে পাহাড়ি নদীতে মাছধরায় মেতে ওঠে নেপালি কিশোর-কিশোরী, যুবক-যুবতীরা। এর মাঝে রয়েছে প্রচণ্ড এক উত্তেজনা ও নিখাদ আনন্দ। দুষ্টু মাছেরাও নেয় ধৈর্যের চরম পরীক্ষা। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই পাওয়া যায় ছোট ছোট আছলা মাচ্ছা যা দেখতে বাংলাদেশের বাটা মাছের মতো। কিন্তু সবার আগ্রহ থাকে বড় মহাশের মাচ্ছার জন্য। একটি পেলেই মিনিমাম ৭-৮ কেজি মাছের ব্যবস্থা। মহাশের মাচ্ছা নেপালে নারিকেল কুচি, পেঁয়াজ, ধনিয়া ও কমলা পাতা দিয়ে রান্না করা হয়। এর ফলে একটি দারুণ ফ্লেভার ও স্বাদ পাওয়া যায়।

নিউজটি শেয়ার করুন..

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর..

আবেগে উচ্ছাসে যাদের কাছে ঋনী-২, (এস এম মনিরুজ্জামান আকাশ) আমি, আনিসুল ইসলাম ও ওযায়ের আনসারী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় মসজিদে আসর আদায় করি ও শুকরানা নামাজ আদায় করে সকলের সাথে মিলিত হই। এক ঝুড়ি লিচু এনেছিলেন দিনাজপুর থেকে নুরে জান্নাত ভাবী, রাজশাহী থেকে ঝুড়ি ভর্তি আম এনেছিলেন সাথী আপা, জেছমিন আক্তার (রাজশাহী),সাবিনা ইয়াছমিন(গাজীপুর),আমরা লিচু খেয়েছি, আম খেয়েছি প্রান খুলে। আমরা মহিউদ্দিন মহিন ভাই এর আমন্ত্রণে বৃষ্টির মাঝে দাড়িয়ে হালিম খেয়েছি। মুসলধারে বৃষ্টি হচ্ছে নড়াইলের ওয়াহিদ ভাই বাইকে করে আমাকে কাওরান বাজার পৌঁছে দেন।কৃতজ্ঞতা ওয়াহিদ ভাইকে। বাসে চড়ে মিরপুর কাজীপাড়া নেমে হেটে আবার শেওড়াপাড়ায় ফিরি। রুমে আমার জন্য অপেক্ষামান বিশ্ব ব্যাংকে কর্মরত অগ্রজবর মোঃ রজব আলী (ঢাকা বার), নাটোর বারের বড় ভাই মোঃ মোখলেছুর রহমান মোখলেস, কুমিল্লার বন্ধু মোঃ বিল্লাল হোসেন। সকলেই পরীক্ষা নিয়ে আলোচনা করে নিশ্চিত হই সকলেই পাশ করবো ইনশাআল্লাহ। রাতে খাবার খেয়ে বিশ্বব্যাংকে কর্মরত(নড়াইলের) রাজীব দাদা, অনিক, মাসুদ, সহ কয়েকজন আড্ডা দিয়ে ঘুমিয়ে পড়ি। বৃষ্টিতে ভেজার কারনে আমার জ্বর আসে প্রচন্ড। রাত রেজাল্ট প্রকাশ করে বার কাউন্সিল, আমি জানতে পারি শেষ রাতে। নামাজ আদায় করে নিশ্চিত হই আমরা এক রুমে অবস্থানকারী চার জনই পাশ করেছি। আমি “পরিবেশ-সম্প্রীতি ও মানবাধিকার” নিয়ে কাজ করা আন্তর্জাতিক সংগঠন গ্রিনপিস বাংলা-র পাবনা জেলা শাখার সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালনকারী একজন। আমি ও বড় ভাই মোঃ রজব আলী ১৮ই জুন ২০২২ পুরান ঢাকায় সাক্ষাৎ করতে যাই গ্রিনপিস বাংলা-র কেন্দ্রীয় মহাসচিব সৈয়দ আবুল মোয়াজ্জম শামীম স্যারের সাথে। সেখানে জোহর ও আসর নামাজ আদায় করে দুপরের খাবার খেয়ে বিশ্রাম নিয়ে উপহার সামগ্রী নিয়ে গুলিস্তান হয়ে শেওড়া পাড়া সিটি বাজারে ফিরে আসি। ১৯শে জুন ২০২২ নীলক্ষেত গিয়ে আইনের কিছু বই কিনে ফিরি আসি ফার্মগেট আরএইচ হোম-এ “আইন কানুন একাডেমি” তে। সাক্ষাৎ করি আইন অঙ্গনের একজন অন্যতম শ্রেষ্ঠ থিওরি প্রেজেন্টার অ্যাডভোকেট মুরাদ মোর্শেদ স্যারের সাথে। স্যার মিষ্টি মুখ করিয়ে কুশালাদি জিজ্ঞেস করেন। বিভিন্ন ট্রপিকস এর উপর উপস্থিত আলোচনায় (আমার অপরাপর সহপাঠী, সনদ যোদ্ধা, সনদ প্রত্যাশী বন্ধুদেরকে নিয়ে) বসে পড়েন। তাৎক্ষণিক ভাবে অ্যাডভোকেট মোঃ জাহাঙ্গীর আলম স্যারের আইন পাঠ লিখিত গাইড কেনার পরামর্শ দেন এবং আমরা অনেকেই সঙ্গে সঙ্গে তা ক্রয় করি। আলোচনা শেষ করে রজব আলী ভাই এর কাছে সিটি বাজারে ফিরে আসি। পরদিন যথারীতি পাবনায় চলনবিলের দক্ষিণ পাড়ে আমার বসত ঘর “মনোয়ারা হালিম কাব্যকুঞ্জ’-এ ফিরে আসি। কর্ম ব্যস্ততায় রাজনৈতিক ব্যস্থতায় জড়িয়ে পড়ি। ১৭সেপ্টেম্বর ২০২২ বার কাউন্সিল এনরোলমেন্ট লিখিত পরীক্ষার ডেট ছিলো। ভিলেজ পলিটিক্সের আষ্টেপৃষ্টে এমন ভাবে আটকে যাই যে, আমি বেড় হতে চাইলেও এলাকার লোকেরা আমাকে বের হতে দেয়নি। আমার আব্বার আন্তরিক প্রচেষ্টা ও স্বপ্নের প্রতিফলনে গড়ে উঠা হিড়িন্দা দাখিল মাদ্রাসার ম্যানেজিং কমিটি গঠন নিয়ে মত পার্থক্য চরমে ওঠে, ঠিক এলাকার লোকজন দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে পড়ে। এমপি গ্রুপে ফৈলজানা ইউপি চেয়ারম্যান মোঃ হাফিজুর রহমান ও উপজেলা চেয়ারম্যান গ্রুপে ফৈলজানা ইউপি প্যানেল চেয়ারম্যান মোঃ আব্দুল হামিদ সরদার। এলাকার সৃজনশীল লোকজন আমাকে বলেন যে, তোমার আব্বা অথবা তুমি হবে নিরপেক্ষ প্রার্থী। এলাকার সকল লোকের চেয়ে এই মাদ্রাসায় তোমার আব্বার অবদান সবচেয়ে বেশি আছে ও কবি ডাঃ আব্দুল হালিম মাষ্টার (আমার পিতা) বিনা বেতনে ১৭ বছর শিক্ষকতা করেছেন। কোন মতেই দুই গ্রুপ একত্রে না বসায় আমি উপজেলা চেয়ারম্যান এর গ্রুপে সমর্থন দেই, আমাকে সভাপতি করবে শর্তে। কিন্তু ভিলেজ পলিটিক্সের মার প্যাচে আমি বাদ পড়ে গেলে, কিছু লোকের পরামর্শ ও সহযোগিতায় তৃতীয় প্যানেলে একজন স্বতন্ত্র প্রার্থী দাড় করাই।(শিক্ষক মন্ডলীদের তিন ভোট শিক্ষকেরা আমাকে দিবেন ওয়াদা করেছিলেন এ প্রেক্ষিতে)। আগষ্ট মাসটা আমাকে পড়ালেখা থেকে বিচ্ছিন্ন থেকে নির্বাচন করতে হয় শক্তিশালী দুই গ্রুপের বিপক্ষে। তিন জন অভিভাবক সদস্য ও একজন সংরক্ষিত মহিলা সদস্য পদের বিপরীতে দুই গ্রুপে (৪+৪)আট জন ও আমার একজন দিয়ে মোট ৯ জন বৈধ প্রার্থী হয়। মহিলা প্রার্থী একজন মনোনয়ন প্রত্যাহার করলে তখন তিনটি পদের বিপরীতে মোট ৭জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতায় অবতীর্ণ হয়। পেশী শক্তি ও কালো টাকার কাছে আমি ও আমার প্রার্থী (৭জনের মধ্যে ৬নং হয়ে) হেরে যাই। হাতে একটি ভোট দরকার ছিলো কিন্তু তা থেকে ব্যর্থ হয়েও শিক্ষক মন্ডলীদের তিন ভোট হাতে থাকে। দুই গ্রুপে ভোট জমা হয় চেয়ারম্যান এর হাতে ৩ টা ও প্যানেল চেয়ারম্যান এর হাতে ২টা। তখনও আমার সভাপতি হওয়ার সুযোগ ছিলো যদি দুই ভোটের প্যানেল চেয়ারম্যান আমাকে সমর্থন দেন। কিন্তু তিনি বিশ্বাস-অবিশ্বাসের জ্বরে আক্রান্ত ছিলেন। তিনি হলেন একজন নিরক্ষর ব্যক্তি। আমি একজন স্বতন্ত্র প্রার্থী দেওয়ার জন্য পুরো দস্তুর নির্বাচন করতে উভয় পক্ষের পনেরো লক্ষ টাকার উপরে খরচ হয়েছে বলে আমার দিকে আঙ্গুল তোলা হয় দুই গ্রপের দিক থেকেই। আমি ও আমার নির্বাচন পরিচালনায় সহযোগীরা মিলে কৌশল অবলম্বন করে চেয়ারম্যান এর পক্ষে এক ভোট ও প্যানেল চেয়ারম্যান এর পক্ষ দুই ভোট দিয়ে( ৪+৪) সমান সমান করে দিলাম। লটারী হলো চেয়ারম্যান জয়ী হয়ে হিড়িন্দা দাখিল মাদ্রাসা পরিচালনা কমিটির সভাপতি নির্বাচিত হলেন। আমি ভিলেজ পলিটিক্সের গোড়া খুঁজতে গিয়ে আগষ্ট মাসটি হারিয়ে ফেললাম। আমি আইন কানুন একাডেমির অনলাইন ব্যাচে ক্লাস বন্ধু করে ২৬টি গ্রামে অভিভাবকদেরকে বুঝিয়েছি। কিন্তু কচকচা হাজার টাকার নোটের কাছে, নোটের ভাজে আমার আবেগ-অনুভূতি সচেনতা অসারতায় আটকে ছিলো। আমাকে প্রিয় মুরাদ মোর্শেদ স্যার বলতেন আগে অ্যাডভোকেট হোন, তারপর সকল কিছু আপনার কাছে ধরা দেবে। আমি স্যারকে উপেক্ষা করেছি। (১৬ মার্চ ২০২৬ইং) 🖋️এস এম মনিরুজ্জামান আকাশ অ্যাডভোকেট- জেলা ও দায়রা জজ আদালত, পাবনা

© All rights reserved © 2024
Theme Customized By BreakingNews