নিজস্ব প্রতিনিধিঃ পাবনা জেলার চাটমোহর উপজেলার বিল চলন ইউনিয়নের নটাবাড়িয়া গ্রামে ভেজাল দুধ উৎপাদন ও গোয়েন্দা সংস্থা এনএসআইকে তথ্য দেওয়ার অভিযোগে সংঘঠিত সংঘর্ষ ঘটনায় শুক্রবার (৫জুন ২০২৬)একজনের মৃত্যু হয়েছে বলে খবর পাওয়া গেছে ।
নিহত ব্যক্তির নাম হাসেম প্রামাণিক (৪০)। তিনি নটাবাড়িয়া গ্রামের নুর আলী প্রামাণিকের ছেলে। তিনি গত ২৯ মে শুক্রবার সকালে বলে বিবাদমান সংঘর্ষে গুরুতর আহত হন এবং চিকিৎসাধীন অবস্থায় শুক্রবার(৫ জুন ২০২৬) গভীর রাতে চাটমোহর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে মৃত্যুবরণ করেন।
ঘটনার বিবরনে ভুক্তভোগীদের দেওয়া অভিযোগ অনুসারে জানা যায় যে, বহিষ্কৃত বিএনপি নেতা আব্দুল মমিনের নেতৃত্বে প্রায় শতাধিক লোক দেশীয় অস্ত্র শস্ত্র নিয়ে ভুক্তভোগীদের ওপর অতর্কিত ভাবে হামলা চালায়। ভেজাল দুধ তৈরির খবর ও গোয়েন্দা সংস্থাকে তথ্য দেওয়ার অভিযোগ তুলে এই হামলা করা হয় বলে ভুক্তভোগীরা জানান। হামলায় ৬ জন গুরুতর আহত হলে তাদের চাটমোহর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। হাসেম প্রামাণিকসহ আহতদের পরিবার প্রথমে চাটমোহর থানায় অভিযোগ দায়ের করতে গেলে পুলিশ মামলা নিতে অস্বীকৃতি জানায় ও মামলা নেয় না। সরকার দলীয় নেতাদের হস্তক্ষেপে মামলা নেওয়ায় বিলম্ব হয় বলে অভিযোগ উঠেছে ভুক্তভোগীদের পক্ষ থেকে । ভুক্তভোগীরা চাটমোহর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে অভিযোগ জানালে তিনি থানাকে মামলা নেওয়ার অনুরোধ করেন, কিন্তু তাতেও তাৎক্ষণিক কোনো অগ্রগতি হয়নি যা খুবই দুঃখ জনক ।
রাজনৈতিক প্রভাবে শক্তিশালী আব্দুল মমিন ও তার পরিবার দীর্ঘদিন ধরে ভেজাল দুধ তৈরি ও বিক্রি করে আসছেন তাদের কেউ কিছু বলেনা এতে শংকিত ভুক্তভোগী পরিবার । একাধিকবার চাটমোহর থানা পুলিশ ও উপজেলা প্রশাসন তাকে জরিমানা করলেও রাজনৈতিক প্রভাব ও অর্থের বিনিময়ে তিনি বহাল তবিয়তে বেআইনি কার্যক্রম চালিয়ে আসছেন। অভিযোগ রয়েছে, মমিন থানা-পুলিশসহ বিভিন্ন মহলকে ম্যানেজ করে ভেজাল দুধ তৈরীর অবৈধ কর্মকাণ্ড চালিয়ে আসছেন এবং এলাকার সন্ত্রাসী ও রাজনৈতিক বাহিনীকে অর্থ দিয়ে নিয়ন্ত্রণ করেন তার অবৈধ ব্যবসা। হামলার পরও মমিনের লোকজন ভুক্তভোগীদের হত্যার হুমকি দিয়ে যাচ্ছিল বলে জানা গেছে ভুক্তভোগীদের পক্ষ থেকে।
চাটমোহর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জানান, মামলা গ্রহণ করা হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িত একজনকে ইতো মধ্যে গ্রেপ্তারও করা হয়েছে এবং বাকি আসামিদের গ্রেপ্তারে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে, অভিযান চলছে। নিহতের পরিবার ও ভুক্তভোগীরা মমিনসহ জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে।
মানবাধিকার সংস্থা গ্রিনপিস বাংলা,পাবনা জেলা শাখার সভাপতি পাবনা জেলা ও দায়রা জজ আদালতের আইনজীবী অন্য এস এম মনিরুজ্জামান আকাশ বলেন, পাবনা-৩ এলাকায় (চাটমোহর ভাঙ্গুড়া ফরিদপুর) মাঝে মধ্যেই নকল ও ভেজাল দুধ তৈরীর কারখানা আবিস্কার হয় ও অপরাধীদেরকে আইনের আওতায় আনা হয়। বিচার কালে আইনের ফাঁক ফোকর দিয়ে অপরাধীরা ছাড়া পেয়ে যায় ও আবারও লোকাল নেতৃবৃন্দ অসৎ কিছু সরকারি কর্মকর্তা কর্মচারী সহাযতায়-সহযোগিতায় আবারও সেই ব্যবসা শুরু করে।
আইনের ফাঁক ফোকর বন্ধ করে আইনকে যুগোপযোগী করে সংশোধন করতে হবে। যাতে ভেজাল দুধ, ভেজাল শিশু খাদ্য, ভেজাল খাদ্য উৎপাদনকারীদের সর্বোচ্চ শাস্তি সুনিশ্চিত করা যায়। ভেজাল খাদ্য তথা শিশু খাদ্য, ভেজাল দুধ তৈরীর জন্য দেশের প্রচলিত আইন অনুযায়ী শাস্তি কম হয়ে যায়। বাংলাদেশে ভেজাল দুধ তৈরি ও বিক্রি করা একটি গুরুতর অপরাধ। বিভিন্ন আইনে (বিশেষ করে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন ও নিরাপদ খাদ্য আইন) এ কঠোর শাস্তির বিধান রয়েছে।
প্রধান আইন অনুযায়ী শাস্তি:ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন, ২০০৯: ভেজাল মিশ্রিত পণ্য তৈরি বা বিক্রি করলে সর্বোচ্চ ৩ বছরের কারাদণ্ড, বা সর্বোচ্চ ২ লক্ষ টাকা অর্থদণ্ড, বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত করার বিধান রয়েছে।নিরাপদ খাদ্য আইন, ২০১৩: এই আইনে ভেজাল খাদ্যের জন্য সর্বোচ্চ ৫ বছরের কারাদণ্ড বা সর্বোচ্চ ১০ লক্ষ টাকা জরিমানা, অথবা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত করার নিয়ম রয়েছে। অপরাধের মাত্রা গুরুতর হলে এর চেয়েও বেশি শাস্তির বিধান আছে।সাম্প্রতিক উদাহরণ:আইনের প্রয়োগ হিসেবে প্রায়শই ভ্রাম্যমাণ আদালতের।
পরিশেষে, মানবিকতার পর্যাপ্ত ব্যবহারে সমাজ থেকে ভেজাল খাদ্য, ভেজাল দুধ, ভেজাল শিশু খাদ্য তৈরি করা থেকে বিরত থাকতে ও সকলকে উদ্বুদ্ধ করতে হবে।
Leave a Reply