স্টাফ রিপোর্টার, গোয়াইনঘাট (সিলেট): সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলার মানুষের বহুদিনের স্বপ্নের প্রতীক গোয়াইনঘাট ব্রীজ এখন হুমকির মুখে পড়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, ব্রীজের নিচ থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের কারণে ব্রীজটির স্থায়িত্ব ও নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সাবেক অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী এম সাইফুর রহমান–এর উদ্যোগ এবং সাবেক সংসদ সদস্য মরহুম দিলদার হোসেন সেলিম–এর প্রচেষ্টায় নির্মিত হয় গোয়াইনঘাট ব্রীজ। ব্রীজটি নির্মাণের পর থেকে উপজেলার মানুষের যোগাযোগ ব্যবস্থায় বৈপ্লবিক পরিবর্তন আসে এবং এটি এলাকাবাসীর আবেগ ও গর্বের প্রতীকে পরিণত হয়।
তবে অভিযোগ রয়েছে, একটি প্রভাবশালী চক্র দীর্ঘদিন ধরে ব্রীজের নিচ থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করে আসছে। স্থানীয়দের ভাষ্য মতে, যার নেতৃত্বে পুর্নানগরের স্থানীয় বাসিন্দা ডেবিল ফারুক নামে পরিচিত এক ব্যক্তির আশ্রয়-প্রশ্রয়ে প্রতিদিন রাতের আঁধারে ট্রাক ও গাড়ি ব্যবহার করে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। এ কাজে পূর্ণানগর এলাকার আলাউদ্দিনসহ কয়েকজন জড়িত রয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। সেই ডেবিল ফারুক স্থানীয় প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরে গিয়ে বিএনপির নাম ভাংগিয়ে মোব সৃষ্টি করার চেষ্টা করে।
স্থানীয়রা আরও জানান, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতাদের সঙ্গে তোলা ছবি ব্যবহার করে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করছেন। অভিযোগ রয়েছে, অতীতে আওয়ামী লীগের সময় প্রভাব খাটানোর পর বর্তমানে রাজনৈতিক পরিস্থিতির পরিবর্তনের পর বিএনপির নেতাকর্মী ও এমপি মন্ত্রী দের সাথে ছবি তুলে বিভিন্ন পরিচয়ে সক্রিয় থাকার চেষ্টা করছে এই চক্র।
এদিকে, গত রাতে অবৈধ বালু উত্তোলনের দৃশ্য ধারণ করতে গেলে কয়েকজন সংবাদকর্মীর উপস্থিতি টের পেয়ে অভিযুক্তরা ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায় বলে জানা গেছে। পরে সংবাদকর্মীদের উদ্দেশে অশালীন ভাষায় গালাগালির অভিযোগও উঠেছে। এ বিষয়ে তথ্য-প্রমাণ সংরক্ষিত রয়েছে বলে দাবি করেছেন স্থানীয়রা।
এছাড়া স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ৫ আগস্টের পর চাঁদাবাজির অভিযোগে একসময় গোয়াইনঘাট থানা পুলিশ তাকে আটক করেছিল বলেও এলাকায় আলোচনা রয়েছে।
এ বিষয়ে এলাকাবাসী দ্রুত প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। তারা বলছেন, অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধ না হলে গোয়াইনঘাট ব্রীজের স্থায়িত্ব হুমকির মুখে পড়তে পারে।
Leave a Reply