মো:আজগর আলী(চট্টগ্রাম): চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলায় একটি মাদরাসার নাম ব্যবহার করে সরকারি ও সড়কের জায়গা দখল করে বহুতল ভবন নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে। ঘটনাটি ঘিরে স্থানীয়দের মধ্যে চরম ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার নাজিরহাট পৌরসভার পূর্ব ফরহাদাবাদ এলাকার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের মাইজভান্ডার সড়কে পল্লী বিদ্যুৎ অফিস সংলগ্ন রাস্তার পাশে অবস্থিত মাদরাসাতুল মদিনা নামের একটি প্রতিষ্ঠানের পরিচালক মামুন আত্বারীর বিরুদ্ধে এ অভিযোগ ওঠে।
এলাকাবাসীর দাবি, স্থানীয় মাদরাসার পরিচালক মামুন আত্বারী দীর্ঘদিন ধরে সরকারি জমি ও সড়কের অংশ দখল করে ধাপে ধাপে বহুতল ভবনসহ বিভিন্ন স্থাপনা নির্মাণ করছেন। সময়ের সঙ্গে তার দখলের পরিধি বাড়ছে বলেও অভিযোগ করেন স্থানীয়রা।
স্থানীয় বাসিন্দা ও ভুক্তভোগী রবিউল হাসান মানিক অভিযোগ করে বলেন, মাদরাসার পরিচালক মামুন আত্বারী মাদরাসার নাম ব্যবহার করে আশপাশের খালি জায়গা দখলের চেষ্টা করছেন। পাশাপাশি তার ব্যক্তিমালিকানাধীন জমি বিক্রির জন্য হুমকি দেওয়া হচ্ছে বলেও তিনি দাবি করেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক স্থানীয় বাসিন্দা অভিযোগ করেন, মামুন আত্বারী মাদরাসার নাম ব্যবহার করে ও নিজেকে সাবেক সংসদ সদস্য নজিবুল বশর মাইজভান্ডারীর ঘনিষ্ঠ পরিচয় দিয়ে এলাকায় প্রভাব বিস্তার করছেন। তিনি আরও দাবি করেন, সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর তিনি নিজেকে বর্তমান এমপি সরোয়ার আলমগীরের লোক পরিচয়ে এলাকায় আধিপত্য বজায় রাখার চেষ্টা করছেন।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, মামুন আত্বারী সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমোদন ছাড়াই কয়েক মাস ধরে সরকারি জায়গায় নির্মাণকাজ, সড়কের পাশে গর্ত খননসহ বিভিন্ন স্থাপনা নির্মাণ করছেন। এতে মাদরাসার আশপাশের সরকারি জমি ধীরে ধীরে তার নিয়ন্ত্রণে চলে যাচ্ছে বলে দাবি করেন তারা।
তারা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, সরকারি জায়গা দখল করে বহুতল ভবন নির্মাণ, সড়কের পাশে পুকুর খনন ও সড়কের ওপর স্থাপনা নির্মাণ অবিলম্বে বন্ধে প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ প্রয়োজন।
মাদরাসাতুল মদিনার পরিচালক মামুন আত্বারীর ব্যবহৃত মোবাইল নম্বরে যোগাযোগ করা হলে তিনি ফোনে কোনো মন্তব্য দিতে রাজি হননি। সরকারি জায়গায় স্থাপনা নির্মাণের অভিযোগ অস্বীকার করে তিনি জানান, এ বিষয়ে জানতে হলে সরাসরি মাদরাসায় গিয়ে কথা বলতে হবে।
ফটিকছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাঈদ মোহাম্মদ ইব্রাহিম বলেন, লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সরকারি বা সড়কের জায়গা দখলের প্রমাণ মিললে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করা হবে।
স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের নাম ব্যবহার করে ভূমি দখলের অভিযোগ অত্যন্ত স্পর্শকাতর বিষয়। তাই দ্রুত নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন ও আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ জরুরি।
Leave a Reply