এম জি শাহ আলম পিন্টু: একজন অপরাধী সে যত বড়ই ক্ষমতাসীন অপরাধী হোক না কেন- তাকে আইনে আওতায় আনার দায়িত্ব প্রশাসনের। প্রশাসনের কর্তব্যরত কতেক ব্যক্তি আপন দায়িত্বকে ভূলে গিয়ে- স্বজনপ্রীতি এবং আস্কারা পেয়ে দিন দিন অপরাধ বেড়েই চলেছে। ফলে এদেশের মানবিক মূল্যবোধকে ধ্বংসের দিকে ধাবিত হচ্ছে। অপরাধ করে অপরাধী যদি একের পর এক পার পেয়ে যায়, তাহলে অপরাধ বাড়বেই- কিন্তু কমবেনা এটা সহজ কথা। গত প্রায় এক যুগেরও বেশী সময় ধরে একজন অপরাধী অনিয়ম দূর্নীতি ঘুষ বাণিজ্য এবং অর্থ আত্মসাৎ সহ বিভিন্ন অন্যায় কার্যকলাপ করে আসছে, কিন্তু তাকে আইনের আওতায় না এনে, একের পর এক পার পেয়ে যাওয়ার সুযোগ করে দেয়ায়- সে আজও অপরাধ করেই যাচ্ছে। এমন বাস্তব প্রমাণ মিলেছে কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামের শ্রীপুর ইউনিয়ন গোপালনগর এলাকায়।
জানা গেছে, উপজেলার গোপাল নগর মহিলা আলিম মাদ্রাসার প্রতিষ্ঠাতা জামায়াত নেতা জাহাঙ্গীর হোসেন মাদ্রাসার বাংলা বিভাগের শিক্ষক খাইরুল ইসলামকে প্রকাশ্যে দিবালোকে শত শত ছাত্রীদের সামনে মারধর করেছে। অন্যান্য শিক্ষকদের সামনে অপমান করে শিক্ষকের পড়নে থাকা পোষাক টেনে হেচড়ে ছিড়ে ফেলেছে। এঘটনা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়ে পড়লে- জামায়াত নেতা জাহাঙ্গীর হোসেন কৌশলে নিজের অপরাধ ধামা-চাপা দেয়ার জন্য, উপজেলা নির্বাহী অফিসার এবং উপজেলা শিক্ষা অফিসারের দোহাই দিয়ে, বিষয়টি বিনা বিচারে সমাধান হয়ে গেছে বলে একটি ভিডিও নিউজ প্রকাশ করায়। ইচ্ছার বিরুদ্ধে বক্তব্য দেয়া শিক্ষক লাঞ্ছিত হওয়ার পরও জামায়াত নেতা জাহাঙ্গীর হোসেন তাকে জিম্মি করে- সমাধানের কথা বলে একটি ভিডিও করায়। পেইজবুকে উক্ত সংবাদ শুনে সাধারন মানুষ এবং শিক্ষক সমাজ এখন আরো তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে।
স্থানীয়রা জানায়, গোপালনগর মহিলা আলিম মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠাতা জামায়াত নেতা জাহাঙ্গীর হোসেন দীর্ঘদিন যাবৎ বিভিন্ন অনিয়ম দূর্নীতি করে আসছে। উক্ত মাদ্রাসাটি সরকারী কিংবা উপজেলা শিক্ষা অফিসারের নিয়ম কাননে চলেনা। এটি জাহাঙ্গীরের ইচ্ছা এবং খেয়াল খুশিতেই পরিচালিত হয়ে আসছে বলে জানা গেছে।
বিশ্বস্ত সূত্র জানায়, চৌদ্দগ্রাম উপজেলার শ্রীপুর ইউনিয়নের গোপালনগর মহিলা আলিম মাদ্রাসার প্রতিষ্ঠাতা ও একই মাদ্রাসার ইবতেদায়ী শিক্ষক জাহাঙ্গীর হোসেন কর্তৃক মাদ্রাসার মাধ্যমিক সেকশনের বাংলা শিক্ষক খাইরুল ইসলামকে শারিরীক ভাবে লাঞ্চিত করার ঘটনায় ৩ সদস্যদের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। ভুক্তভোগী শিক্ষকের অভিযোগের আলোকে বৃহস্পতিবার রাতে চৌদ্দগ্রাম উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ নূরুল আমিন উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার একেএম মীর হোসেনকে প্রধান করে এই কমিটি গঠন করেন। কমিটির অপর সদস্যরা হলেন, চৌদ্দগ্রাম উপজেলা সমবায় অফিসার মোঃ জাহাঙ্গীর হোসেন, গোপালনগর মহিলা আলিম মাদ্রাসার এডহক কমিটির শিক্ষক প্রতিনিধি মোঃ মোখলেছুর রহমান। আগামী ৫ কর্ম দিবসের মধ্যে উক্ত ঘটনার তদন্ত করে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তবে বৃহস্পতিবার রাতে এই কমিটি গঠন করা হলেও শুক্রবার ও শনিবার সাপ্তাহিক ছুটি থাকায় তদন্ত কমিটি কাজ শুরু করতে পারেনি। রবিবার থেকে তদন্ত কার্যক্রম শুরু হবে বলে কমিটির প্রধান একেএম মীর হোসেন জানিয়েছেন। এদিকে, মাদ্রাসার ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মোঃ শাহ আলম মাদ্রাসার পক্ষ থেকেও ঘটনাকারী জাহাঙ্গীর হোসেনকে কারণ দর্শানোর নোটিশ করেছেন এবং ওই ঘটনা নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত শ্রেণী কার্যক্রম থেকে বিরত থাকতে বলা হয়েছে।
উল্লেখ্য, গত বুধবার চৌদ্দগ্রাম উপজেলার শ্রীপুর ইউনিয়নের গোপালনগর মহিলা আলিম মাদ্রাসার প্রতিষ্ঠাতা ও ইবতেদায়ী শিক্ষক জাহাঙ্গীর হোসেন একই মাদ্রাসার মাধ্যমিক সেকশনের বাংলা বিভাগের শিক্ষক মোঃ খাইরুল ইসলামকে তুচ্ছ বিষয়ে শারিরীক ভাবে মারধর ও লাঞ্চিত করেন। এই ঘটনার একাধিক ভিডিও ক্লিপ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে নিন্দার ঝড় শুরু হয় এবং ভুক্তভোগী শিক্ষকের অভিযোগের ভিত্তিতে চৌদ্দগ্রাম উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ নূরুল আমিন এই তদন্ত কমিটি গঠন করেন।
এবিষয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা সমালোচনার ঝড় উঠেছে। হাজী সফোয়ান নাম এক ব্যক্তি বলেছেন, খাইরুল ইসলাম নামক বাংলা বিভাগের এ শিক্ষক নীলফামারীর সন্তান, কিন্তু প্রায় ৬০০ কিলোমিটার দূর থেকে কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামের শিক্ষকতা করছেন। একজন শিক্ষককে এভাবে লাঞ্ছিত করা শুধু একজন ব্যক্তির অপমান নয়, এটি পুরো শিক্ষাঙ্গনের মর্যাদার ওপর আঘাত করা হয়েছে। একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান শুধু পাঠদানের জায়গা নয়, এটি নৈতিকতা, মানবিকতা ও সম্মানের প্রতীক। এমন ন্যাক্কার জনক ঘটনা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না।
বাংলাদেশ এমপিওভুক্ত শিক্ষক পরিষদের যুগ্ন আহবায়ক মোঃ মিজানুর রহমান (মাহিন) বলেন, যিনি হেনস্তা করেছেন তিনি নাকি, প্রতিষ্ঠাতা সদস্য, এজন্য এগুলো করা জায়েজ মনে হয়? কুমিল্লা চৌদ্দগ্রাম উপজেলার, গোপালনগর মহিলা আলিম মাদ্রাসার সহকারী শিক্ষককে লাঞ্ছিত ও হেনস্তাকারীর বিরুদ্ধে কঠিন শাস্তির জোর দাবি জানাচ্ছি। কোনো শিক্ষক যেন এভাবে অপমানিত না হয় সেজন্য সরকারের নিকট শিক্ষক সুরক্ষা আইন জরুরি ভিত্তিতে করার সবিনয় অনুরোধ জানাচ্ছি।
বাংলাদেশ শিক্ষক ফোরাম (বিটিএফ) সভাপতি মো: হাবিবুল্লাহ রাজু বলেছেন, কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম উপজেলার গোপালনগর দাখিল মাদ্রাসার বাংলা বিষয়ের NTRCA সুপারিশ প্রাপ্ত সহকারী শিক্ষক জনাব খাইরুল ইসলামকে তথাকথিত প্রতিষ্ঠাতা পরিচয়ধারী বিতর্কিত ব্যক্তি জাহাঙ্গীর হোসেন কর্তৃক লাঞ্চিত করায় বাংলাদেশ শিক্ষক ফোরাম (বিটিএফ) এর পক্ষ থেকে তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই। অনতিবিলম্বে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে দোষী ব্যক্তিকে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির জোর দাবি জানাচ্ছি।
বাংলাদেশ মাদ্রাসা শিক্ষক-কর্মচারী ফোরামের সদস্য সচিব অধ্যক্ষ দেলাওয়ার হোসেন আজীজী তার মন্তব্য প্রকাশ করে বলেছেন, চৌদ্দগ্রাম উপজেলার গোপালনগর দাখিল মাদ্রাসার প্রতিষ্ঠাতা জাহাঙ্গীর হোসেন কর্তৃক শিক্ষক খাইরুল ইসলামকে শারিরীকভাবে লাঞ্চিত করার ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি। অবিলম্বে জাহাঙ্গীর হোসেনকে গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে।
রবিউল ইসলাম নামক এক ব্যক্তি বলেন, কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম উপজেলার শ্রীপুর ইউনিয়নের গোপালনগর দাখিল মাদ্রাসার শিক্ষক খাইরুল ইসলাম ভাইয়ের ওপর অত্র মাদ্রাসার প্রতিষ্ঠাতা জাহাঙ্গীর হোসেনের ন্যাক্কারজনক ও শারীরিক হামলার ঘটনায় আমি তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি। একজন শিক্ষক যখন নিজ কর্মস্থলে অনিরাপদ এবং লাঞ্ছিত হন, তখন বুঝতে হবে আমাদের নৈতিক অবক্ষয় কত গভীরে পৌঁছেছে। ক্ষমতার দাপটে শিক্ষকের গায়ে হাত তোলা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। আমরা এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং দোষী জাহাঙ্গীর হোসেনের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির জোর দাবি জানাচ্ছি । মোহাম্মদ খাইরুল ইসলাম সে আমার এলাকার ছোট ভাই, অন্যায়ের বিরুদ্ধে আজকে মাগরিববাদ ডাঙ্গারহাটে বিশাল সমাবেশ চলছে।
Leave a Reply