🖋️এস এম মনিরুজ্জামান আকাশ (প্রথম পর্ব): আলহামদুলিল্লাহ! বহুল প্রতীক্ষিত বাংলাদেশ বার কাউন্সিল এনরোলমেন্ট ভাইভা পরীক্ষার ফলাফল আজ(১৬ই মার্চ ২০২৬) সোমবার মধ্য রাতে প্রকাশিত হয়। নানা জল্পনা কল্পনার অবসান ঘটিয়ে বার কাউন্সিল এনরোলমেন্ট কমিটি তাদের বহু নাটকীয়তার অবসান ঘটিয়ে নানা আলোচনায় সমালোচিত এই পরীক্ষার ফলাফল ঘোষণা করে।
২০০৪ সালে অনুজবর রাজনৈতিক মামলায় সুদীর্ঘ দিন কারা ভোগ করে। তৎকালীন এপিপি বিজ্ঞ সিনিয়র অ্যাডভোকেট শ্রী গোপাল চন্দ্র গুহ্(৮০)স্যার আমাদের মামলা পরিচালনা করতেন। গোপাল বাবু অমায়িক বন্ধু বৎসল লোক ছিলেন ও গোপাল বাবুর মহুরী ছিলেন মোঃ মহির উদ্দিন দাদা।আমি উভয়কে খুবই সম্মান করতাম তারাও আমাকে স্নেহ করতেন। আমি কলেজ পড়ুয়া প্রতিবাদী যুবক। আমাকে গোপাল বাবু মাঝে মধ্যেই প্রতিবাদী দেখে আইন পড়তে উদ্বুদ্ধ করতেন, সাথে সাথে মহুরী মহির উদ্দিন সায় দিতেন। কিন্তু সব কিছু তো আর হাতের মুঠোয় থাকেনা।
২০১৪-২০১৫ সেশনে এলএলবি প্রিলিমিনারী, ফাইনাল পরীক্ষা পাশ করে পরবর্তী কালে এলএলএম পরীক্ষায় পাশ করি। নানা ইচ্ছা অনিচ্ছার দর কষাকষিতে এক প্রকার পরিস্থিতির শিকার হয়ে ২০১৯ সালে বার কাউন্সিলে ইন্টিমেশন জমা দেই। পরীক্ষা দেওয়ার ইচ্ছে সময়ের অভাবে করে উঠতে পারিনি। একপ্রকার জোর জবর করে ছোট ভাই অ্যাডভোকেট মোঃ আবুল বাশার রানা। ছোট ভাই এ্যাডভোকেট আবুল বাশার রানা সহযোগিতায় ফরম পূরণ করি ও বাশার নঈম’স এর এমসিকিউ গাইড কিনে দেয়।
টেবিলের উপর ধুলোবালি জমে যায় সেই গাইডে! সময়ের অভাব ও ব্যস্ততা আমাকে বার কাউন্সিল মুখী হতে দেয়নি।
এমসিকিউ পরীক্ষা চলে আসে ২৮শে ফেব্রুয়ারী ২০২০ রাতে ঢাকায় গিয়ে সকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আরবী বিভাগে পরীক্ষায় বসি। সাড়ে চুয়াল্লিশ পেয়ে ফেল করি।
আবুল বাশার পাশ করে। বাসায় ফিরে এসে আত্মগ্লানিতে ভুগি। কোর্টে যাওয়া হয়না এবং বাশার লিখিত, ভাইভা পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে এনরোল হওয়ার পরে আমাকে চাপ দেয়। বলে আমরা দুই ভাই অ্যাডভোকেট হবো এটা আমাদের মুরুব্বি অ্যাডভোকেট আবুল হোসেন মাঝি’র স্বপ্ন ছিলো! কিন্ত…..আপনি ভাই?
আমি মনে মনে ভাবনায় পড়ে গেলাম। কিন্তু সময় বড়ই বাঁধ সাধে। হঠাৎ করে আইন কানুন একাডেমির সন্ধান পেয়ে যাই। কথা হয় আইন কানুন একাডেমির পরিচালক বিজ্ঞ অ্যাডভোকেট মুরাদ মোর্শেদ স্যারের সাথে। অ্যাডমিশন নিয়ে অনলাইনে ক্লাস করতে থাকি। মুরাদ মোর্শেদ স্যারের আন্তরিকতা ও পাঠ দানের কলাকৌশলে রপ্ত হয়ে যাই ক্লাস করতে ও গ্রুপে রেকর্ডেড ভিডিও দেখতে। ১৭ই জুন ২০২২ইং বুয়েটে বার কাউন্সিল এনরোলমেন্ট পরীক্ষায় অংশ গ্রহণ করে উত্তীর্ণ হই ১৮ই জুন ২০২২ ইং শনিবার।
১৭ই জুন ২০২২ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজু ভাস্কর্যের পাশে
মুরাদ মোর্শেদ স্যারের শিক্ষার্থীরা জমিয়ে আড্ডা দিয়েছি।
সেদিনের আড্ডায় আম, লিচু হালিম সহ কত প্রকারের খাবার খেয়েছি সত্যি সত্যিই আজীবন লালন যোগ্য। সেদিনের আড্ডার মধ্য মনি ছিলেন সৈকত মাহমুদ ভাই(মানিকগঞ্জ), আব্দুল্লাহ আল ইমরান(পাবনা), মহিউদ্দিন মহিন(চাঁদপুর), রেজাউল ইসলাম(দিনাজপুর), জাহাঙ্গীর আলম(টাঙ্গাইল), মুখলেসুর রহমান(জামালপুর), রেজাউল করিম(ঠাকুরগাঁও), আসিফ রাজ(দিনাজপুর),আনিসুল হক(বি-বাড়ীয়া), রাজিয়া সিদ্দিকী(টাঙ্গাইল), সুচিত্রা সাহা(চাঁদপুর), নুরে জান্নাত(দিনাজপুর), ওযায়ের আনসারী(খুলনা), আখতার হোসেন(ঢাকা), আজিম উদ্দিন(কিশোরগঞ্জ), আব্দুল ওয়াহিদ(নড়াইল), রজব আলী(পাবনা) সহ আরো অনেকে!
(১৬ মার্চ ২০২৬ ইং চলবে…)
🖋️এস এম মনিরুজ্জামান আকাশ
অ্যাডভোকেট, জেলা ও দায়রা জজ আদালত, পাবনা।
Leave a Reply