মো:আজগর আলী, চট্টগ্রাম: নির্বাচনী রাজনীতিতে সংখ্যালঘু ভোট বরাবরই একটি গুরুত্বপূর্ণ ফ্যাক্টর। এবারের ভোটে সেই সমীকরণ মাথায় রেখে নানা কৌশল নিয়েছিল বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। কিন্তু ভোটের ফলাফল বিশ্লেষণ করে দেখা যাচ্ছে, প্রত্যাশিত সুফল মেলেনি; কোথাও কোথাও উল্টো প্রভাব পড়েছে। প্রচারণা পর্বে দলটির প্রার্থীদের মন্দির পরিদর্শন, শ্লোক পাঠ, হিন্দু ধর্মীয় নেতাদের প্রশংসা এবং সমাবেশে তাদের উপস্থিতি নিশ্চিত করার বিষয়গুলো ছিল দৃশ্যমান। দলীয় নেতারা এগুলোকে সম্প্রীতির বার্তা হিসেবে তুলে ধরেন। তবে মাঠের বাস্তবতা ভিন্ন ইঙ্গিত দিচ্ছে। খুলনাসহ কয়েকটি আসনে অতীত নির্বাচনের তুলনায় হিন্দু ভোটারদের সমর্থন কমেছে বলে স্থানীয় পর্যবেক্ষকদের দাবি।
মাঠপর্যায়ের একাধিক সূত্র জানায়, প্রচারণায় ঘনিষ্ঠতার ছবি থাকলেও ভোটের দিনে সিদ্ধান্ত নিয়েছে ভিন্ন সমীকরণে। স্থানীয় প্রভাবশালী ব্যক্তি, আঞ্চলিক রাজনৈতিক হিসাব–নিকাশ এবং কেন্দ্রীয় বার্তার প্রভাব ছিল স্পষ্ট। কয়েকটি আসনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) প্রার্থীরা সেই ভোটের সুবিধা পেয়েছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। পাশাপাশি একটি অংশ ভোটদানে বিরত থেকেছে। নির্বাচনে আন্তর্জাতিক কৃষ্ণভাবনামৃত সংঘ (ইসকন)-এর তৎপরতা নিয়েও আলোচনা ছিল। বিভিন্ন আসনে সংগঠনটির প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ প্রভাবের কথা শোনা গেলেও তা মোকাবিলায় জামায়াতের আলাদা কোনো পরিকল্পনা চোখে পড়েনি। বরং প্রথাগত প্রচারণার ওপরই নির্ভর করেছে দলটি।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সংখ্যালঘু ভোট কেবল প্রতীকী সৌজন্য বা আনুষ্ঠানিক যোগাযোগে নির্ধারিত হয় না। দীর্ঘদিনের আস্থার সম্পর্ক, নিরাপত্তাবোধ এবং ধারাবাহিক রাজনৈতিক অবস্থান এখানে বড় ভূমিকা রাখে। সেই জায়গায় স্পষ্ট বার্তা দিতে ব্যর্থ হয়েছে জামায়াত—এমন মূল্যায়নও রয়েছে। আরেকটি বিষয়ও আলোচনায় এসেছে। হিন্দু ভোটারদের আকৃষ্ট করতে গিয়ে কিছু নেতার বক্তব্য মুসলিম ভোটারদের একাংশের মধ্যে বিরূপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে। ফলে প্রত্যাশিত নতুন ভোট না আসার পাশাপাশি ঐতিহ্যগত সমর্থনভিত্তিতেও চাপ তৈরি হয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। সব মিলিয়ে প্রশ্ন থেকে যায়—কৌশলগত পরিবর্তন সত্ত্বেও কি সংখ্যালঘু ভোটের মনস্তত্ত্ব অনুধাবনে ঘাটতি রয়ে গেল? নির্বাচনের ফল সেই প্রশ্নই সামনে নিয়ে এসেছে।
Leave a Reply