কালীগঞ্জ (গাজীপুর) প্রতিনিধি: ক্ষমতার প্রটোকল ভেঙে এতিম শিশুদের পাশে বসে ইফতার— আর একই মঞ্চ থেকে দলীয় পরিচয়ে অঘোষিত কারবারের বিরুদ্ধে কঠোর হুঁশিয়ারি। রোববার (২২ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে নাগরী ইউনিয়নের রায়েরদিয়া স্কুল মাঠে আয়োজিত ইফতার ও দোয়া মাহফিলে এমনই দ্বৈত বার্তা দিলেন গাজীপুর-৫ আসনের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য এ কে এম ফজলুল হক মিলন।
নাগরী ইউনিয়ন বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের উদ্যোগে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে তিনি এতিম ও সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের সঙ্গে একই কাতারে বসে ইফতার করেন। শিশুদের খোঁজখবর নেন, কথা বলেন এবং তাদের পাশে থাকার আশ্বাস দেন। উপস্থিত নেতাকর্মী ও স্থানীয়দের মতে, “এমন দৃশ্য প্রমাণ করে— জনপ্রতিনিধিত্ব মানে শুধু বক্তৃতা নয়, বাস্তব সহমর্মিতা।”
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন নাগরী ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি রহিম সরকার। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কালীগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব খালেকুজ্জামান বাবলু। স্থানীয় বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ এতে অংশ নেন। দেশ, জাতি ও এলাকার শান্তি-সমৃদ্ধি কামনায় দোয়া পরিচালনা করা হয়।
দলীয় পরিচয়ে বাণিজ্যের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ ইফতার মাহফিলের সভামঞ্চ থেকেই এমপি মিলন দলীয় পরিচয় ব্যবহার করে অঘোষিত বাণিজ্য, প্রভাব খাটানো ও সুবিধা আদায়ের অভিযোগে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান ঘোষণা করেন। তিনি বলেন, “রাজনীতি ব্যবসা নয়। জনগণের ভোটে নির্বাচিত প্রতিনিধি হিসেবে আমি স্পষ্ট করে দিচ্ছি— দলের নাম ভাঙিয়ে চাঁদাবাজি, তদবির বাণিজ্য বা প্রভাব খাটানোর রাজনীতি চলবে না। শৃঙ্খলা ভঙ্গ করলে কঠোর সাংগঠনিক ও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
তার বক্তব্যে স্পষ্ট ইঙ্গিত মেলে— দলের ব্যানার ব্যবহার করে ব্যক্তিস্বার্থের সাম্রাজ্য গড়ার যে সংস্কৃতি গড়ে উঠেছিল, তা ভাঙতে শুরু হচ্ছে এক ধরনের শুদ্ধি অভিযান। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, এটি কেবল সতর্কবার্তা নয়; বরং দলীয় কাঠামোর ভেতরে শৃঙ্খলা ও জবাবদিহিতা প্রতিষ্ঠার প্রক্রিয়ার সূচনা। একদিকে এতিম শিশুদের পাশে বসে ইফতার, অন্যদিকে অনিয়মের বিরুদ্ধে সরাসরি যুদ্ধ ঘোষণা।
এই দুই দৃশ্য একই দিনে মিলনের রাজনৈতিক দর্শনের প্রতিফলন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। তাদের মতে, জনতার সঙ্গে মিশে থাকা এবং প্রটোকলের দেয়াল ভেঙে মানুষের কাতারে বসা যেমন মানবিক নেতৃত্বের পরিচায়ক, তেমনি দলীয় অপসংস্কৃতির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান রাজনৈতিক দায়বদ্ধতার প্রমাণ। স্থানীয়দের অভিমত, “ক্ষমতার চেয়ার নয়, মানুষের হৃদয় জয়— এই দর্শনই যদি বাস্তবে প্রয়োগ হয়, তবে রাজনীতিতে ইতিবাচক পরিবর্তনের পথ তৈরি হবে।” অনুষ্ঠান ঘিরে এলাকায় ছিল উৎসবমুখর ও আবেগঘন পরিবেশ। বক্তারা আশা প্রকাশ করেন, মানবিকতা ও শৃঙ্খলাভিত্তিক রাজনীতির এই বার্তা ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।
Leave a Reply