1. mdmirhossainmolla.bd@gmail.com : admi2017 :
  2. editor@banglarrup.com : Banglar Rup : Banglar Rup
মঙ্গলবার, ১৬ জুন ২০২৬, ০২:০২ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
২০ লাখ টাকা ফিরিয়ে দিয়ে সততার নজির, সম্মাননা পাচ্ছেন নৈশপ্রহরী বাচা দালান ভেঙ্গে চৌদ্দগ্রামে এক সাংবাদিক পরিবারের সম্পত্তি জবরদখলের চেষ্টা একজন রাজনীতিবিদ বীরপুরুষ হিসেবে ইতিহাস সৃষ্টি করেছেন চৌদ্দগ্রামের কামরুল হুদা! আমাদের সামগ্রিক সমাজ ব্যবস্থার এক নির্মম চিত্র ফটিকছড়িতে সম্পত্তি বিরোধ: ভাইয়ের বিরুদ্ধে ভাই, চিকিৎসক থেকে ওসি—প্রতারণার জালে বিস্ফোরক অভিযোগ নিরাপদ জীবন নিশ্চিত করতে হবে চৌদ্দগ্রামে দুই শতাধিক অসহায় রোগীর ফ্রি চক্ষু চিকিৎসা পাবনা জেলা ক্রীড়া সংস্থার সদস্য সচিব হলেন বিশিষ্ট ক্রীড়াবিদ মাসুদ রানা সিরাজদিখানে জুয়ার আসরে অভিযান, ৮ জুয়ারী গ্রেফতার জনকণ্ঠ ভবনের সামনে বিক্ষোভ ৭২ ঘণ্টার আল্টিমেটাম

বিলুপ্তির পথে গ্রামীণ মৃৎশিল্প: ঐতিহ্য ধরে রেখেছেন কালীগঞ্জের শিশির পাল

  • আপডেট টাইম : শনিবার, ১৪ জুন, ২০২৫
  • ১৩৭ বার

 

কালীগঞ্জ (গাজীপুর) প্রতিনিধি           আধুনিকতার তীব্র স্রোতে যেখানে গ্রামীণ ঐতিহ্যবাহী শিল্পগুলো হারিয়ে যাচ্ছে, সেখানে কিছু মানুষ নীরবে-নিভৃতে সেগুলোকে বাঁচিয়ে রাখার সংগ্রাম চালিয়ে যাচ্ছেন। এমনই একজন হলেন গাজীপুর জেলার কালীগঞ্জ উপজেলার বক্তারপুর ইউনিয়নের নাওয়ানের মোড় এলাকার দোকানি শিশির পাল। জমজমাট শপিং মল বা আধুনিক সুপারশপের জৌলুস নয়, বরং রাস্তার ধারে একটি সাদামাটা দোকানঘরে তিনি পরম মমতায় সাজিয়ে রেখেছেন মাটির তৈরি নানা তৈজসপত্র।

শিশির পালের দোকানে প্রবেশ করলেই চোখে পড়বে সারি সারি মাটির হাঁড়ি, পাতিল, পানির কলসি, প্রদীপ, ধূপদানিসহ পরিবেশবান্ধব ও চিরায়ত বাংলার শিল্পসম্ভার। এক ঝলক দেখলে মনে হবে, যেন এক টুকরো বিশুদ্ধ বাংলার আবহ বয়ে চলেছে সেই ক্ষুদ্র দোকানে।

শিশির পাল জানান, “আমি নিজে এসব তৈরি করি না। কুষ্টিয়া ছাড়াও দেশের বিভিন্ন জায়গা থেকে এসব পণ্য সংগ্রহ করে বিক্রি করি। মাসিক ভাড়ায় এই দোকানটি নিয়েছি এবং এখান থেকেই আমার সংসার চলে।” তাঁর পৈতৃক বাড়ি জাঙ্গালিয়া ইউনিয়নের বৌন্যা গ্রামে হলেও, ব্যবসার প্রয়োজনে তিনি বর্তমানে এই এলাকাতেই বসবাস করছেন। দোকানের প্রতিটি মাটির জিনিসের পেছনে রয়েছে দেশের বিভিন্ন প্রান্তের শিল্পীদের কঠোর পরিশ্রম আর শিল্পচেতনার ছোঁয়া, যা সহজেই গ্রাহকদের মন ছুঁয়ে যায়।

প্রতিদিন স্থানীয় বিভিন্ন শ্রেণির মানুষ ভিড় করেন শিশির পালের দোকানে। কেউ ধর্মীয় কাজে ব্যবহারের জন্য প্রদীপ বা ধূপদানি নিতে আসেন, আবার কেউ শখ করে ঘরের সৌন্দর্য বাড়াতে মাটির কলসি বা জগ কেনেন। শহুরে কাঁচ, প্লাস্টিক বা স্টিলের পণ্যের ভিড়েও এই মাটির জিনিসপত্র কিছু মানুষের কাছে আজও পছন্দের শীর্ষে।

দোকানের দিকে অপলক দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকা এক স্থানীয় যুবক বলেন, “এই ধরনের দোকানগুলো শুধু ব্যবসা নয়, আমাদের আবহমান ঐতিহ্যকেও বাঁচিয়ে রাখছে। বর্তমান প্রজন্মের উচিত এসব পণ্য ব্যবহার করে আমাদের সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যকে সমর্থন জানানো।”

মৃৎশিল্প আবহমান বাংলার এক গর্বের নাম। শিশির পালের মতো মানুষেরা নিজে হাতে মাটি ছেনে এসব তৈরি না করলেও, তাদের এই ব্যবসায়িক উদ্যোগের মাধ্যমেই এই শিল্প টিকে আছে এবং প্রসার লাভ করছে। এলাকাবাসীর প্রত্যাশা, সরকার কিংবা স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে যদি প্রশিক্ষণ বা সহজ শর্তে ঋণের ব্যবস্থা করা হয়, তবে এই শিল্প আরও বিস্তৃত হতে পারবে এবং আধুনিকতার ভিড়ে নিজেদের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে সক্ষম হবে।

মোঃ ওমর আলী মোল্যা

মোবাইল -০১৭২৯৮৩৭৮৯৩

কালীগঞ্জ -গাজীপুর।

নিউজটি শেয়ার করুন..

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর..
© All rights reserved © 2024
Theme Customized By BreakingNews