নিজস্ব প্রতিনিধি: কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে (কুবি) নির্মাণাধীন লন্ড্রি, সেলুন ও ফটোকপির রুমের নির্মাণকাজে নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার ও নিয়ম লঙ্ঘনের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। প্রকল্পের কাজে অনিয়ম, অনুমতি ছাড়া ঢালাই কার্যক্রম পরিচালনা এবং প্রকল্পের দায়িত্বে থাকা প্রকৌশলীদের তদারকিতে অবহেলার বিষয়ে ক্যাম্পাসজুড়ে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকৌশল দপ্তর সূত্রে জানা যায়, টেন্ডার আইডি-১২০৭০৪৯-এর আওতায় প্রায় ২০ লাখ ৫০ হাজার টাকা ব্যয়ে ক্যাম্পাসে লন্ড্রি, সেলুন ও ফটোকপিয়ার রুম নির্মাণকাজ বাস্তবায়ন করছে রাজশাহীভিত্তিক ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ‘গিভ এন্ড টেইক কন্সট্রাকশন’।
অভিযোগ রয়েছে, নির্মাণাধীন ভবনের গ্রেড বিম ঢালাইয়ের কাজে ‘সিলেট স্যান্ড’ ব্যবহারের কথা থাকলেও তার পরিবর্তে মাটি মিশ্রিত ফিলিং বালি ব্যবহার করা হয়েছে। এছাড়া, অপরিষ্কার খোয়া ব্যবহারের ফলে রাবিশের পরিমাণ বেড়ে গেছে, যা কলাম ঢালাইয়ের দীর্ঘমেয়াদী স্থায়িত্বের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ। গত ১৭ মে জারি করা এক অফিস আদেশে প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে সিডিউল বহির্ভূতভাবে কাজ সম্পাদনের অভিযোগ আনা হয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়ম অনুযায়ী, ঢালাইয়ের আগে প্রকৌশল দপ্তরের অনুমতি নেওয়ার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। কিন্তু ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান সেই নিয়ম লঙ্ঘন করে কাজ চালিয়ে যাচ্ছিল। সূত্র জানায়, গতকাল বিকালে নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী দিয়ে ঢালাইয়ের মশলা মিক্সিংয়ের সময় কোনো প্রকৌশলী উপস্থিত ছিলেন না। এ সময় একজন সচেতন শিক্ষার্থী প্রতিনিধি নিম্নমানের কাজ দেখে বাধা প্রদান করলে শ্রমিকরা কাজ স্থগিত করে ফিরে যান।
এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারের দাবি, ঢালাই কাজের অনুমতি চেয়ে তারা দুইবার প্রকৌশলীর কাছে গেলেও তিনি সাড়া দেননি। অন্যদিকে, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকৌশল দপ্তর থেকেও কাজ বন্ধ রাখার বিষয়ে ঠিকাদারকে কোনো নির্দেশনা দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ উঠেছে।
চলমান এই অনিয়মের প্রেক্ষিতে গত সোমবার (১৭ মে) বিশ্ববিদ্যালয়ের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মো. আবদুল লতিফ স্বাক্ষরিত একটি পত্রে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে কারণ দর্শানোর নোটিশ (শোকজ) দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। নোটিশে নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার, অনুমতি ছাড়া ঢালাই কার্যক্রম পরিচালনা এবং টিলা কেটে ভিটি ভরাট করার বিষয়ে ব্যাখ্যা চাওয়া হয়েছে। আগামী সাত কার্যদিবসের মধ্যে এসব অভিযোগের লিখিত জবাব দিতে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এর আগে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন ক্রিয়াশীল সংগঠনের সদস্যরা উপাচার্যের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়ে দাবি করেছিলেন যে, চলমান উন্নয়নকাজে অনিয়মের সঙ্গে প্রকৌশল দপ্তরের কিছু দায়িত্বশীল কর্মকর্তার যোগসাজশ রয়েছে। অভিযোগকারীদের ভাষ্যমতে, নির্মাণকাজে নিম্নমানের বালি ব্যবহারের পাশাপাশি পাশের পাহাড় বা টিলা কেটে মাটি এনে অবৈধভাবে ভরাট করা হয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের গুরুত্বপূর্ণ এই উন্নয়নকাজে এমন অনিয়ম ও প্রকৌশল দপ্তরের নিষ্ক্রিয়তা নিয়ে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের মাঝে তীব্র অসন্তোষ বিরাজ করছে। যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়ার মাধ্যমে নির্মাণকাজের মান নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
Leave a Reply