মীর হোসেন মোল্লাঃ গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বড় ধরনের দেশব্যাপী ভোট ডাকাতির কোনো প্রমাণ না মিললেও, কিছু নির্দিষ্ট এলাকায় বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতা ও পুলিশ প্রশাসনের স্বজনপ্রীতির মাধ্যমে প্রার্থীরা কেন্দ্র দখল ও অনিয়মের সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পাওয়া গেছে। ২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত হওয়া ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কুমিল্লা-১১ (চৌদ্দগ্রাম) আসনের জামায়াতের মনোনীত প্রার্থী ডাক্তার তাহেরের বিরুদ্ধে ভোট ডাকাতির অভিযোগ এনেছেন বিএনপির প্রার্থী মোঃ কামরুল হুদা। ধানের শীষের এজেন্ট এবং সাধারন ভোটারদের মাঝে চরম আতঙ্ক এবং ভয়ভীতি সৃষ্টি করে, চৌদ্দগ্রামে ভোট ডাকাতির মাধ্যমে ডাঃ তাহের এমপি নির্বাচিত হয়েছেন বলে পর্যবেক্ষকদের প্রতিবেদনে জানা গেছে।
জানা গেছে, জামায়াত নেতারা ক্ষমতার লোভ সামলাতে না পেরে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দিন পুলিশ প্রশাসনকে ম্যানেজ করে, সাধারন ভোটারদের ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত করে, বিভিন্ন কৌশলে একতরফা দাঁড়িপাল্লা মার্কায় ভোট প্রদান করে, প্রতিপক্ষ বিএনপির হেভিওয়েট জনপ্রিয় প্রার্থী কামরুল হুদার ধানের শীষ প্রতীকের বিজয় ছিনিয়ে নেয়া হয়েছে তথ্য নিশ্চিত করেছেন পর্যবেক্ষক দল। সোসাইটি ফর ব্রাইট সোশ্যাল সার্ভিসেস (এস বি এস এস) এর ১৩ তম জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট ২০২৬ এর আওতায় নির্বাচন পর্যবেক্ষণ রিপোর্টে এসব তথ্য বেরিয়ে এসেছে।
পর্যবেক্ষণ রিপোর্ট সুত্র জানা গেছে, কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম- সাধারন সম্পাদক ও চৌদ্দগ্রাম বিএনপির সভাপতি মোঃ কামরুল হুদার জনপ্রিয়তাকে ধূলিসাৎ করতে ব্যর্থ হয়। দিশেহারা হয়ে অবশেষে ভোট ডাকাতি মাধ্যমে- বিজয় অর্জন করে জনগনের সেবক হিসেবে নেতৃত্ব দেয়ায় সিদ্ধান্ত ডাঃ সৈয়দ আবদুল্লাহ মোঃ তাহের। চৌদ্দগ্রামের জনগন তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করে তাদের সেবা করার পাশাপাশি এলাকার উন্নয়নের জন্য এমপি নির্বাচিত করার প্রত্যাশায় গভীর আগ্রহে দিন গননার শেষে- নির্বাচনের দিন পূর্বের অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে জামায়াতের নায়েবে আমীর ডাক্তার সৈয়দ আবদুল্লাহ মোঃ তাহেরের ভোট ডাকাতির কারিশমায়- দলীয় ক্যাডার বাহিনীর মাধ্যমে নিজেই এমপি হয়ে বসে আছেন বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।
পর্যবেক্ষকদের একটি সূত্র জানায়, উপজেলার আলকরা গুনবতী এবং জগন্নাথদিঘী ইউনিয়নের সবকটি কেন্দ্র সহ বহু কেন্দ্রে ২০/৩০ মিনিটের মধ্যেই দাঁড়িপাল্লা মার্কায় সীল মেরে জামায়াত নেতারা কেন্দ্রের বাহিরে অবস্থান করে ভোট বাক্স পাহারা দিতে দেখা গেছে। অনেক কেন্দ্র পর্যবেক্ষণ করে দেখা গেছে ভোটার শূন্য- অথচ ভোট বাক্স ভর্তি হয়ে আছে। কোথাও কোথাও লোক দেখানোর জন্য– লাইনে অল্প কয়েকজন লোক দাঁড় করিয়ে রাখতে দেখা গেলেও ভোট গ্রহনের কক্ষে গেলে ভোট বাক্স ভর্তি করে রাখার দৃশ্য দেখা গেছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক সূত্র জানায়, জামায়াত প্রার্থী ডাক্তার সৈয়দ আবদুল্লাহ মোঃ তাহেরের ভোট ডাকাতির মুল হোতা ছিল চৌদ্দগ্রাম থানার সাবেক ওসি আবু কাউছার মাহমুদ। গোটা পুলিশ প্রশাসনকে অন্তরালে মোটা অংকের টাকা বিনিময়ে ম্যানেজ করে, আলকরা গুনবতী এবং জগন্নাথ ইউনিয়নের সবকটি কেন্দ্রে বিএনপির প্রার্থী মোঃ কামরুল হুদার প্রতীক ধানের শীষের এজেন্টদেরকে কেন্দ্রে ঢুকতে না দেয়ার কাজনি সফল করে। কয়েকজন এজেন্ট কৌশলে কেন্দ্রে ঢুকতে সক্ষম হলেও- পুলিশের যোগসাজসে জামায়াতের ক্যাডার বাহিনী তাদের মৃত্যুর ভয়ভীতি দেখিয়ে কেন্দ্র থেকে করে দেয়। আলকরা ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি ইসমাইল হোসেন লক্ষীপুর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রের ধানের শীষের এজেন্টের দায়িত্বে ছিলেন- কিন্তু পর্যবেক্ষকদের সামনে পুলিশ তাকে কেন্দ্র থেকে বের করে দিতে দেখা গেছে। সবমিলিয়ে চৌদ্দগ্রামের রাজনৈতিক অঙ্গনে জামায়াতের চিরশত্রু আওয়ামীলীগ নির্বাচনে অংশগ্রহন না করার সুযোগে- সুন্দর এবং শান্তিপূর্ণ পরিবেশে নির্বাচনে অংশগ্রহনকারী বিএনপির ভোট ডাকাতি করে নিজেদের বিজয় নিজেরাই নিশ্চিত করেছে। ফলে জনগনের সেবা এবং এলাকার উন্নয়ন মূলক কর্মকান্ড নিয়ে- ডাঃ তাহের লজ্জায় আজও জনসম্মুখে আসেনি বলে চৌদ্দগ্রামের রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক সমালোচনা সৃষ্টি হয়েছে বলে সূত্র জানিয়েছেন।
Leave a Reply