মো:আজগর আলী (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি: চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলার নাজিরহাটে বিষধর সাপের কামড়ে দুই বছর বয়সী এক শিশুর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে চিকিৎসা অবহেলার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় প্রকৃত কারণ উদঘাটনে ৩ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠনের ঘোষণা দিয়েছে ফটিকছড়ি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে।
সোমবার (১২ মে) সন্ধ্যায় নাজিরহাট পৌরসভার তৈয়্যবিয়াপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। নিহত শিশুর নাম মোহাম্মদ আয়াত। তিনি স্থানীয় বাসিন্দা রবিউল হোসেনের ছেলে। পরিবারের অভিযোগ, সাপে কামড়ানোর পর শিশুটিকে দ্রুত নাজিরহাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলেও সেখানে জরুরি চিকিৎসা না দিয়ে রক্ত পরীক্ষা ও বিভিন্ন প্রক্রিয়ায় সময়ক্ষেপণ করা হয়। প্রায় ১ ঘণ্টা পর তাকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
তবে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) ডা. কামরুল হাসান এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, সাপে কাটা রোগী আসার পর চিকিৎসা প্রটোকল অনুযায়ী প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও প্রাথমিক মূল্যায়নে সাধারণত ২০ থেকে ২৫ মিনিট সময় লাগে। ওই ক্ষেত্রেও নিয়ম মেনেই চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। এখানে কোনো অবহেলা হয়নি বলে দাবি করেন তিনি।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. তৌহিদুল আলম বলেন, সাপে কাটা রোগী ভর্তির পর সঙ্গে সঙ্গে অ্যান্টিভেনম প্রয়োগ করা সম্ভব হয় না। প্রাথমিক চিকিৎসা ও প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে প্রায় ২০ থেকে ২৫ মিনিট সময় লাগে।
তিনি অভিযোগের ব্যাপারে জানান, ঘটনার সত্যতা যাচাইয়ে ৩ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্তে চিকিৎসকদের গাফিলতির প্রমাণ পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে সাপে কাটা রোগীর চিকিৎসা সংক্রান্ত বিষয়ে জানতে জাতীয় স্বাস্থ্য বাতায়ন ১৬২৬৩ নম্বরে যোগাযোগ করা হলে একাধিক টক্সিকোলজি বিশেষজ্ঞ মুঠোফোনে জানান, সাপে কাটা রোগীকে হাসপাতালে আনার পর দ্রুত মূল্যায়ন শেষে অ্যান্টিভেনম প্রয়োগসহ প্রাথমিক চিকিৎসা শুরু করতে হয়। এ প্রক্রিয়ায় সাধারণত ২০ থেকে ৩০ মিনিট সময় লাগা স্বাভাবিক।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, গত এপ্রিল মাসে সাপে কাটা ৪২ জন রোগী চিকিৎসা নিয়েছেন। চলতি মে মাসে এখন পর্যন্ত ১৪ জন রোগী চিকিৎসা গ্রহণ করেছেন। গতকাল ভর্তি হওয়া দুইজন রোগী চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন।
Leave a Reply