এম জি শাহ আলম পিন্টু: যত্রতত্র বা ড্রাম/বোতলে অবৈধ মজুদ ও বিক্রি দণ্ডনীয় অপরাধ। সরকারি নির্দেশিত ন্যায্যমূল্যেই তেল বিক্রি করতে হবে এবং ডিলারদের অবশ্যই অনুমোদিত পেট্রোল পাম্পের মাধ্যমে সঠিক পরিমাণে তেল সরবরাহ নিশ্চিত করা থাকলেও- সরকারী নিয়ম তোয়াক্কা না করে অধিক মুনাফার আশায় জ্বালানি তেল বিক্রি করছেন মুন্সীরহাটে চিহ্নিত অসাধু ব্যবসায়ী মোঃ শাহ আলম এবং তার আপন ভাই শাহ জালাল স্বপন। লাইন ছাড়া ভিআইপি হিসেবে তারা প্রকাশ্যেই বোতলে এবং ড্রামে ১৫০ টাকা ধরে লিটার এবং লাইনে দাঁড়ানো মোটরসাইকেলে ১২৫ টাকা লিটারে অকটেন বিক্রি করছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
জানা গেছে, ফ্যাসিবাদ হাসিনা সরকারের দোসর কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম উপজেলার মুন্সীরাট বাজার হাইস্কুল রোড অবস্থিত “ট্রেডিং কর্পোরেশন অব বাংলাদেশ” টিসিবির পণ্য এবং জ্বালানি তেলের ডিলার “মেসার্স রিপন ব্রাদার্স” নামক প্রতিষ্ঠানকে দেয়া হয়েছি। এটির কোন পরিবর্তন হয়নি। আওয়ামীলীগের দোসর ওই প্রতিষ্ঠানের মালিক মুন্সীরহাট ইউনিয়নের লক্ষীপুর গ্রামের রঙ্গু মিয়ার ছেলে শাহ জালাল এবং শাহ আলম- তারা এই দুই ভাই গত ১৭ বৎসর যাবৎ বিভিন্ন অনিয়ম এবং স্বজনপ্রীতির মাধ্যমে এসব পণ্য বিতরন এবং সরবরাহ করে আসছে। অসৎ পথে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিলেও- তাদের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করার মত কেউ সাহস পায়নি। ‘জুলাই বিপ্লব’ বা ‘ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে স্বৈরাচারী শাসনের অবসান ঘটিয়ে ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা সরকারের পতন নিশ্চিত করা হলেও- শেখ হাসিনার দোসর শাহ আলম এবং শাহ জালাল স্বপনকে বিএনপি ও জামায়াত ইসলামের কিছু লোক অন্তরালে সহযোগিতা করে আসছে বলে তারা এখনো বহাল তবিয়তে রয়েছেন একটি মহল দাবী করেছেন।
জানা গেছে, পহেলা এপ্রিল বুধবার দুপুর বেলায় জ্বালানী তেল অকটেন বিক্রির সময় ব্যাপক অনিয়ম দেখা গেছে। খালি বোতলে অধিক দামে অকটেন বিক্রি করার সময় আমাদের প্রতিনিধি মুন্সীরহাট হাইস্কুল রোড মেসার্স রিপন ব্রাদার্স গিয়ে উপস্থিত হয়। ক্যামেরা অন করার আগেই আওয়ামী লীগের দলীয় কয়েকজন নেতাকে চেহারা দেখেই খোলা বোতলে অকটেন দেয়ার দৃশ্য দেখা যায়। এবিষয়ে শাহ জালাল স্বপনের ভাই শাহআলমকে জিজ্ঞাসা করলে তিনি বলেন, আওয়ামী লীগের অবদানে তিনি ডিলারশীপ পেয়েছেন। শাহ আলম আরো বলেছেন বোতলে এবং ড্রামে অকটেন আমরা দিচ্ছি এবং পাম্পেও দিচ্ছে। এতে কোন সমস্যা নাই। শাহ আলমের সাথে এ কথা বলার একপর্যায়ে আমাদের প্রতিনিধি যখন ক্যামেরা চালু করে বক্তব্যটি পূনরায় দেয়ার জন্য বলে তখন সে আর একথা বলতে রাজি হয়নি। দোকানের ভিতরের দিকে তাকালেই খালি বোতলে তেল দেয়ার দৃশ্যটি নজরে আসে। ওই দৃশ্য ধারন করতে গেলে এক ব্যক্তি একটি হলুদ খালি ড্রামে ৫ লিটার অকটেন ভর্তি করে ব্যাগে ঢুকায়। সাংবাদিকের উপস্থিতি টের পেয়ে ওই ব্যক্তি অকটেনের ড্রামটি রেখে কৌশলে পালিয়ে যায়। এসময় আরেক ব্যক্তি একটি খালি পানির বোতলে অকটেন ভর্তি করতে লুঙ্গি ভিতরে ঢুকিয়ে নিতে দেখা গেছে।
এদিকে, বিষয়টি বুঝতে মেসার্স রিপন ব্রাদার্স- এর মালিক শাহ জালাল স্বপন আমাদের প্রতিনিধিকে ভিডিও ধারন করতে বাধা সৃষ্টি করে। এসময় আমাদের প্রতিনিধি উপজেলা নির্বাহী অফিসার ফোন দিয়ে বিষয়টি অবিহিত করে। ফোনটি শেষ করতেই অসাধু ব্যবসায়ী শাহ আলমের সিন্ডিকেটের সদস্যদের দিয়ে আমাদের প্রতিনিধিদের দায়িত্বপালনে বাধা সৃষ্ট করে উল্টো নির্বাহী অফিসারকে গালাগালি শুরু করে।
স্থানীয়রা জানায়, প্রতি মোটর সাইকেলে ১২৫ টাকা ধরে ২ লিটার অকটেন বিক্রি শুরু করে সাইনবোর্ড বিহীন প্রতিষ্ঠান মেসার্স রিপন ব্রাদার্স। আওয়ামী লীগের একজন দায়িত্বশীল নেতা সিরিয়ালে দাঁড়িয়ে ৮ লিটার অকটেন নিয়েছেন। একই কায়দায় কেউ ৪ লিটার আবার কেউ ৬ লিটার করে অকটেন ক্রয় করে নেয়ার দৃশ্য দেখা গেছে। সরকারী নিয়ম তোয়াক্কা না করে অধিক মুনাফায় খালি বোতলে ১৫০ টাকা ধরে প্রতি লিটার অকটেন বিক্রি করছে বলে বিভিন্ন সূত্র জানিয়েছন।
স্থানীয়রা আরো জানায়, ২০২৫ সালের ৬ই মার্চ কুমিল্লার বিজ্ঞ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রট -এর ৯ নং আমলী আদালতে ১৯০৮ সনের বিস্ফোরক দ্রব্য আইনের ৩/৪/৬ ধারা সহ বিশেষ ক্ষমতা আইনের ১৫(৩) ধারায় মুন্সীরহাট ইউনিয়ন লক্ষীপুর গ্রামের রঙ্গু মিয়ার ছেলে শাহ আলমকে ৩৬ নাম্বার আসামী এবং শাহ জালাল স্বপনকে ৪৯ নাম্বার আসামী করে তাদের বিরুদ্ধ একটি মামলা হয়। ফ্যাসিবাদ আওয়ামী লীগের শাসন আমলে চৌদ্দগ্রাম পৌরসভা নির্বাচনের দিন বিএনপির প্রার্থী নয়ন বাঙ্গালীর গাড়ি ভাঙচুর করে আগুন ধরিয়ে জ্বালিয়ে দেয়ার অপরাধে- শাহ আলম এবং শাহ জালালের বিরুদ্ধে জুলাই আন্দোলনের পর এই মামলা করা হয়েছে। অথচ বিএনপি সরকারের আমলেও ফ্যাসিবাদ শাহ আলম এবং শাহ জালাল জেলা প্রশাসক এবং উপজেলা প্রশাসনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে, প্রতিনিয়ত সরাকারী সম্পদ লোপাট করে যাওয়ায় জনমনে ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।
অন্যদিকে, ফ্যাসিবাদ সরকারের আমলে শাহ আলম মুন্সীরহাট বাজার পরিচালনা কমিটির দায়িত্ব পালন করে অসৎ পথে কোটি কোটি টাকা নামে বেমানে হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগ উঠেছে। সমান বন্টে অনিয়ম স্বজন প্রীতি সহ জ্বালানি তেলে মোটা অংকের লোভ সামলাতে না পেরে- রাতের অন্ধকারে বাহিরে বিক্রি করে দেয়া সহ বিভিন্ন অনিয়মের দৃষ্টি গোচর হওয়ায়- বর্তমান সরকারী দল বিএনপি এবং বিরোধী দলের নেতাকর্মীরা ফ্যাসিবাদী শাহ আলম এবং তার ভাই শাহ জালালের বিরুদ্ধে অচিরে ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে ইঙ্গিত পাওয়া গেছে।
Leave a Reply