কালীগঞ্জ (গাজীপুর) প্রতিনিধি: গাজীপুরের কালীগঞ্জে পৃথক দুইটি সড়ক দুর্ঘটনায় এক নারী নিহত এবং এক পুলিশ কনস্টেবল গুরুতর আহত হয়েছেন। রোববার (২২ মার্চ) সন্ধ্যা ও সোমবার (২৩ মার্চ) সকালে টঙ্গী-ঘোড়াশাল সড়কের বিভিন্ন এলাকায় এসব দুর্ঘটনা ঘটে। প্রথম ঘটনায়, ঈদ উপলক্ষে সাফারি পার্ক ভ্রমণ শেষে বাড়ি ফেরার পথে সিএনজিচালিত অটোরিকশার চাপায় মোছাম্মৎ জোহরা বেগম (৬০) নামে এক নারী নিহত হন। রোববার সন্ধ্যায় কালীগঞ্জের তুমুলিয়া ইউনিয়নের চুয়ারিয়াখোলা এলাকায় তাইবা পেট্রোল পাম্প সংলগ্ন সড়কে এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত জোহরা বেগম নরসিংদীর মাধবদী থানার আমদিয়া বেলাইদ এলাকার মরহুম সফুর উদ্দিনের কন্যা।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রোববার সকালে মাধবদী এলাকা থেকে প্রায় ৪০ জন যাত্রী একটি রিজার্ভ বাসে করে গাজীপুর সাফারি পার্কে বেড়াতে যান। সন্ধ্যায় ফেরার পথে বাসটি তাইবা পেট্রোল পাম্পের সামনে থামলে কয়েকজন যাত্রী সড়ক পার হয়ে নামেন। এসময় জোহরা বেগম সড়ক পার হয়ে বাসে উঠতে গেলে টঙ্গীগামী একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশা তাকে চাপা দেয়। এতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। দুর্ঘটনার পর অটোরিকশার চালক যানবাহন ফেলে পালিয়ে যায়।
অপরদিকে, সোমবার সকাল সাড়ে ৭টার দিকে টঙ্গী-ঘোড়াশাল সড়কের নলছাটা এলাকায় এনা পরিবহনের একটি বাসের চাপায় মো. নাজমুল হোসেন (৩২) নামে এক পুলিশ কনস্টেবল গুরুতর আহত হন। তিনি কালীগঞ্জ থানায় কর্মরত এবং থানার পুলিশ ভ্যানের চালক। প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, রাতভর টহল ডিউটি শেষে সকালে থানায় ফেরার পর নিজের মানিব্যাগ না পেয়ে মোটরসাইকেলে করে পুনরায় নলছাটা এলাকায় যান নাজমুল। এসময় দ্রুতগতির একটি বাস তাকে চাপা দিয়ে পালিয়ে যায়। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে ঢাকার রাজারবাগে অবস্থিত কেন্দ্রীয় পুলিশ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, তার ডান পায়ের হাড় ভেঙে বিচ্ছিন্ন হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
কালীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. জাকির হোসেন বলেন, আহত পুলিশ সদস্যকে উন্নত চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে এবং দুর্ঘটনায় জড়িত বাসটি শনাক্তে পুলিশ কাজ করছে। এছাড়া পৃথক ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
Leave a Reply