মোঃ শফিকুল ইসলাম/ বান্দরবান জেলা প্রতিনিধি : চার দশকের বেশি সময় ধরে নির্মাণাধীন থাকায় বান্দরবানের লামা উপজেলার গজালিয়া ডিসি রোড হয়ে -আজিজনগর সড়ক প্রকল্প স্থানীয়দের জন্য যেন অভিশাপে পরিণত হয়েছে।
১৯৮০-এর দশকে শুরু হওয়া এই সড়কটির কাজ আজও শেষ হয়নি, যা যোগাযোগ, অর্থনীতি ও পর্যটন খাতকে মারাত্মকভাবে ব্যাহত করছে।
ভৌগোলিক জটিলতা, অর্থবরাদ্দের ঘাটতি, দুর্নীতি ও প্রশাসনিক অব্যবস্থাপনাকে দায়ী করছে সড়ক ও জনপদ বিভাগ ।
১৯৮২ সালে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের সঙ্গে লামার দুর্গম এলাকার সংযোগ স্থাপন এবং আঞ্চলিক অর্থনৈতিক উন্নয়নের লক্ষ্যে ২৫ কিলোমিটার দীর্ঘ গজালিয়া- ডিসি রোড হয়ে -আজিজনগর সড়ক নির্মাণের কাজ শুরু হয়।
পার্বত্য অঞ্চলের কৃষিজ সম্পদ বিপণন ও পর্যটন সম্ভাবনার কথা মাথায় রেখে এই সড়ককে উন্নয়নের মেরুদণ্ড ভাবা হলেও সময়ের সঙ্গে তা মুখ থুবড়ে পড়ে।
সড়ক ও জনপদের এক কর্মকর্তা (নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক) জানান, পাহাড় কাটা, সেতু নির্মাণ ও স্থানীয় সম্প্রদায়ের সঙ্গে জমি অধিগ্রহণে জটিলতা প্রকল্পের গতি স্তব্ধ করেছে।
এছাড়া, প্রকৌশলগত সমস্যা এবং পর্যায়ক্রমে বরাদ্দ কমে যাওয়াও দায়ী।
লামার সাংবাদিক ও মানবাধিকার কর্মী এম. রুহুল আমিন বলেন, আজিজনগর থেকে ৬ মাইল রাস্তার কিছু কাজ হলেও তা অপর্যাপ্ত বাকি ১৯ কিলোমিটার এখনো কাঁচা। বর্ষায় পথচলাই দুরূহ, শিশুরা স্কুলে যায় জীবন ঝুঁকি নিয়ে।” স্থানীয় ইউপি সদস্য অভিযোগ করেন, সড়ক না থাকায় বাজারে সবজি নিতে খরচ দ্বিগুণ অনেক পণ্য নষ্টও হচ্ছে।
এই সড়কটির নির্মাণ কাজ সম্পন্ন হলে চট্টগ্রাম-কক্সবাজারের পর্যটন করিডোরের সঙ্গে লামার সংযোগ ঘটত, যা পার্বত্য সম্প্রদায়ের জন্য বাণিজ্য ও পর্যটনে নতুন দিগন্ত খুলে দিত। কিন্তু অসমাপ্ত প্রকল্পের কারণে এলাকাটি আধুনিক সভ্যতা থেকে থেকে প্রায় বিচ্ছিন্ন।
স্থানীয়রা দাবি করছেন, দুর্নীতি ও আমলাতান্ত্রিক জটিলতা দূর করে প্রকল্পের কাজ দ্রুত শেষ করতে হবে। তাদের মতে, স্বচ্ছ তদারকি ও পর্যাপ্ত বাজেট নিশ্চিত করা গেলেই এই সড়ক উন্নয়নের সোপান হয়ে উঠতে পারে।
প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে লামার পাহাড়ি বাঙ্গালির জীবনযাত্রায় আমূল পরিবর্তন আসবে বলে মনে করছেন অনেকে । কৃষিপণ্য বিপণন থেকে শুরু করে স্বাস্থ্যসেবা ও শিক্ষার সুযোগ বাড়ার পাশাপাশি পর্যটন খাতে রূপান্তর ঘটবে এই অঞ্চলের।
চার দশকের রুদ্ধশ্বাস প্রতীক্ষার পরও স্থানীয়দের আশা, এই সড়ক যেন আরও দশক পেরোতে না হয়। তাদের জোর দাবি, প্রকল্পের সমাপ্তিই কেবল নিশ্চিত করতে পারে টেকসই উন্নয়নের পথ।
Leave a Reply