1. mdmirhossainmolla.bd@gmail.com : admi2017 :
  2. editor@banglarrup.com : Banglar Rup : Banglar Rup
সোমবার, ০৭ এপ্রিল ২০২৫, ০৩:০১ পূর্বাহ্ন

পাবনায় সাবেক চেয়ারম্যান মরহুম আলহাজ্ব আজাদ হোসেন এর চতুর্থ মৃত্যুবার্ষিকী পালিত

  • আপডেট টাইম : সোমবার, ১০ মার্চ, ২০২৫
  • ১৭০ বার

পাবনা জেলা প্রতিনিধিঃ পাবনা জেলার চাটমোহর উপজেলার নয় নং ফৈলজানা ইউনিয়ন পরিষদের তিনবার নির্বাচিত সাবেক চেয়ারম্যান ও আওয়ামীলীগ নেতা মরহুম আলহাজ্ব আজাদ হোসেন এর চতুর্থ মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে সোমবার (১০ই মার্চ ২০২৫) বিভিন্ন মসজিদে দোওয়ার আয়োজন করা হয়। মরহুম আলহাজ্ব আজাদ হোসেন
২৮শে জানুয়ারী ১৯৫২ সালে ফৈলজানা ইউনিয়নের নেংড়ী কৃঞ্চরামপুর গ্রামে জন্ম গ্রহন করেন। শিক্ষা পাঠ সমাপ্ত করে সরকারি চাকুরীতে যোগদান করেন। তিনি একজন মুক্তিবাহিনীর সদস্য ও সহযোগী মুক্তিযোদ্ধা।

ফৈলজানা ইউনিয়ন পরিষদের সবচেয়ে বিচক্ষণ ও বুদ্ধিমত্তা সম্পন্ন চেয়ারম্যান ছিলেন মরহুম আলহাজ্ব আজাদ হোসেন। তিনি তার রাজনৈতিক গুরু মরহুম আজিজুর রহমান (সাবেক সাধারণ সম্পাদক, ফৈলজানা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ) ও অধ্যক্ষ মরহুম মোজাম্মেল হক সমাজী, শের মাহমুদ মিয়া,মোজাম্মেল হক ময়েজ, ওয়াজি উদ্দিন খান,রফিকুল ইসলাম বকুল সহ প্রমুখ রাজনীতিবিদের সান্বিধ্যে থেকে রাজনৈতিক হাতে খড়ি গ্রহন করেন। তার কাছ থেকে রাজনীতির হাতে খড়ি নিয়েছেন হাজারো নেতা-কর্মীরা। তিনি ছাত্রজীবন থেকেই রাজনৈতিক ভাবে প্রভাবিত হলেও জন প্রতিনিধিত্ব মুলক উদ্দেশ্য তার ছিলো না। তিনি সরকারের পরিবার পরিকল্পনা বিভাগে ভালো চাকুরী করতেন। তিনি দলের ও এলাকার জনসাধারনের স্বার্থে ১৯৮৩ সালে সরকারী চাকুরী হতে অব্যহতি নিয়ে ফৈলজানা ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে প্রথম বার চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন ও বিপুল ভোটের ব্যবধানে বিজয়ী হন। তিনি দ্বিতীয় বার চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন ১৯৯২ সালে এবং তৃতীয়বার, সর্বশেষ বার ২০০৩ সালে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন।

ফৈলজানা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাতা-সভাপতি মরহুম আলহাজ্ব আলী আজগর মাস্টার ও প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক মরহুম আজিজুর রহমান সরদার সিপাহী’র কমিটির যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক নিযুক্ত হয়ে দায়িত্ব পালন করেন এবং তিনি আওয়ামী লীগকে সুসংগঠিত করার কাজে মনোনিবেশ করেন। তিনি ১৯৮৫ সাল থেকে সুদীর্ঘদিন আমৃত্যুকাল পর্যন্ত (১০ই মার্চ ২০২১ইং) ফৈলজানা ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন।

তিনি একজন প্রগতিশীল রাজনৈতিক কর্মী ছিলেন, কখনো কোন সাধারণ কোন্দল, দলীয় কোন্দলকে পুঁজি করে ভোটাদেরকে বা দলীয় কর্মীদেরকে আলাদা করার চেষ্টা করতেন না বা রাজনৈতিক বলয়ে বিবেচনা করতেন না।

তিনি ফৈলজানা আওয়ামীলীগেরনেতা-কর্মীদের সুখে দুঃখে সব সময় আগলে রাখার চেষ্টা করেছেন। হাঁটি হাঁটি পা পা করে একটি মডেল আওয়ামী লীগের কমিটি গড়ে তুলতে সদা সচেষ্ঠ থেকে বারংবার ষড়যন্ত্রের শিকার হয়েছেন। তিনি প্রথমবার ফৈলজানা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়ে ফৈলজানা কৃষি উন্নয়ন ব্যাংকের শাখা প্রতিষ্ঠা, গ্রামীণ ব্যাংকের ফৈলজানা চাটমোহর শাখা প্রতিষ্ঠাতে ব্যাপক ভুমিকা পালন করেন। এছাড়াও ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্র, ফৈলজানা হাট, শরৎগঞ্জ হাট বাজার, কদমতলী হাট, নেংড়ী মুস্তান বাজার, কুয়াবাসী হাট বাজার সহ এলাকার বহু জন কল্যাণ মুলক প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠা করেন।তিনি তার জন্মদাতা পিতার নামে নেংড়ী জসিমুদ্দিন হাফিজিয়া মাদ্রাসা ও এতিমখানা প্রতিষ্ঠা করেন। শরৎগঞ্জ টিএ উচ্চ বিদ্যালয় ও ফৈলজানা দ্বিমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের সুদীর্ঘ দিন সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন। তার চেয়ারম্যান পদে তিন মেয়াদে দায়িত্ব পালন কালে বহু উন্নয়ন মুলক কাজ করেছেন তিনি।

তিনি ফৈলজানা ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের আমৃত্যু অবধি সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন এবং তিনি ২০১১ সালে ফৈলজানা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান পদে নির্বাচনে পরাজিত হন এবং পরবর্তীতে আর তিনি প্রার্থী হননি।
তিনি আওয়ামী লীগের রাজনীতি করলেও বিভিন্ন দলের নেতা-কর্মীদের ও সাধারণ জনগনের কাছে আমৃত্যুকাল পর্যন্ত একজন বুদ্ধিদ্বীপ্ত ও ঠান্ডা প্রকৃতির চেয়ারম্যান হিসেবে জননন্দিত একজন চেয়ারম্যান, একজন নেতা হিসেবে ছিলেন। সকল শ্রেনী পেশার লোকজনের কাছে সম্মান পেয়েছেন আমৃত্যু অবধি। তিনি ২০২১ সালের ৪ঠা মার্চ ব্রেইন স্টোক করে অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় স্কয়ার হাসপাতালে নেওয়া হয় আইসিইউতে দীর্ঘ সাত দিন চিকিৎসাধীন অবস্থায় ২০২১ সালের ১০ই মার্চ আল্লাহর ডাকে সাড়া দেন।

মৃত্যুকালে মরহুম আলহাজ্ব আজাদ হোসেন স্ত্রী চার কন্যা ও একপুত্র সন্তান নাতি-নাতনি সহ বহু আত্মীয় স্বজন রেখে যান। মরহুম আলহাজ্ব আজাদ হোসেন সম্পর্কে কথা বলতে গেলে তার নাতি ও তার সাহচর্যে থাকা একজন নিবেদিত প্রান সমর্থক কবি-কলামিস্ট সাংবাদিক-গবেষক, পরিবেশ-মানবাধিকার কর্মী প্রভাষক এস এম মনিরুজ্জামান আকাশ বলেন, আমাদের ইউনিয়নের অন্যতম একজন ক্ষনজন্মা পুরুষ ছিলেন, তিনি আমাদের সকলের প্রিয় একজন মানুষ মরহুম আলহাজ্ব আজাদ হোসেন আজাদ চেয়ারম্যান। যে কোন লোক, যে কেউ যে কোন দলের অনুসারী হলেও অন্তত পক্ষে আলহাজ্ব আজাদ চেয়ারম্যানকে একজন ভাবুক ও মিতভাষী শান্ত প্রকৃতির লোক হিসেবে অবশ্যই স্বীকৃতি দিবেন। তিনি আরো বলেন, মরহুম আলহাজ্ব আজাদ হোসেন দাদা হলেন সকল শ্রেনী পেশার মানুষের নেতা ও চেয়ারম্যান।
তিনি সকল শ্রেণী-পেশার লোকের সাথে মেশায় পরিপুর্ন অভ্যস্ত না হলেও তার কাছে সকল শ্রেণীর লোকজনই সেবা পেয়েছেন এবং সকলকে মন থেকে তিনি ভালোবাসতেন।
প্রভাষক এস এম মনিরুজ্জামান আকাশ আরো বলেন, ফৈলজানা ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান আলহাজ্ব আজাদ হোসেন এর চতুর্থ মৃত্যুবার্ষিকীতে তার রুহের মাগফেরাত কামনায় দোওয়া চাইছি সকলের কাছে। গভীর সমবেদনা জ্ঞাপন করছি পরিবারের সকলের প্রতি। মরহুম আলহাজ্ব আজাদ হোসেনের বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনায় হালিমপুর হিড়িন্দা বাজার জামে মসজিদে বাদ আসর দোওয়ার করেছি।
আপনারা সকলেই আমার মামার বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করে দোওয়া করবেন।
আলহাজ্ব আজাদ হোসেন এর সুযোগ্য পুত্র সন্তান মোঃ জাহাঙ্গীর আলম সোনা’র সাথে কথা বলে জানা যায় যে, সাবেক চেয়ারম্যান আলহাজ্ব আজাদ হোসেন এর চতুর্থ মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে এলাকার মসজিদ গুলোতে দোওয়ার আয়োজন করা হয়েছে। এছাড়াও ফৈলজানা ইউনিয়ন পরিষদের উদ্যোগেও দোওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে। জাহাঙ্গীর আলম সোনা আরো বলেন, আমার আব্বার চতুর্থ মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে হাজারো মানুষ দোওয়া করেছেন। প্রতিনিয়ত আমার আব্বার জন্য ইউনিয়নের সকল জনগন দোওয়া করেন। আমি আমার মহল্লার মসজিদে দোওয়া মাহফিলের আয়োজন করেছি। আপনারাও আমার বাবা সহ বিগত দিনে ফৈলজানা ইউনিয়ন পরিষদের প্রয়াত চেয়ারম্যান গন সহ সকল রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, মেম্বারগন সহ সকল মুসলিম উম্মাহর জন্য দোওয়া করবেন।

নিউজটি শেয়ার করুন..

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর..
© All rights reserved © 2024
Theme Customized By BreakingNews