স্টাফ রিপোর্টার: আগামী ৭২ ঘণ্টার মধ্যে দৈনিক জনকণ্ঠ থেকে ছাঁটাইকৃত সাংবাদিক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের ছাঁটাইপত্র প্রত্যাহার এবং বকেয়া বেতন-ভাতা পরিশোধের দাবি জানিয়েছে ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়ন (ডিইউজে)।
মঙ্গলবার দুপুরে জনকণ্ঠে গণছাঁটাই ও হয়রানির প্রতিবাদে ‘দৈনিক জনকণ্ঠ সাংবাদিক-কর্মকর্তা-কর্মচারী ঐক্য পরিষদ’-এর উদ্যোগে আয়োজিত অবস্থান কর্মসূচিতে এ দাবি জানান ডিইউজের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক দিদারুল আলম।
তিনি বলেন, সাংবাদিক নেতৃবৃন্দের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে জনকণ্ঠ কর্তৃপক্ষকে অবিলম্বে চলমান সংকটের সমাধান করতে হবে। অন্যথায় উদ্ভূত যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির দায়ভার কর্তৃপক্ষকেই বহন করতে হবে।
অবস্থান কর্মসূচিতে আরও বক্তব্য দেন ডিইউজের সিনিয়র সহ-সভাপতি রফিক মুহাম্মদ, ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির (ডিআরইউ) সভাপতি আবু সালেহ আকন, দৈনিক জনকণ্ঠের প্ল্যানিং অ্যাডভাইজার জয়নাল আবদীন শিশির, ভারপ্রাপ্ত বার্তা সম্পাদক ও ঢাকা সাব-এডিটরস কাউন্সিলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মুনির জারিফ এবং বিশেষ প্রতিনিধি ও ডিআরইউর সাংগঠনিক সম্পাদক মীর মোহাম্মদ জসিম। কর্মসূচি শেষে একটি বিক্ষোভ মিছিল জনকণ্ঠ ভবনের আশপাশের প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে পুনরায় ভবনের সামনে এসে শেষ হয়।
বক্তারা অভিযোগ করেন, সাংবাদিক, শ্রমিক ও কর্মচারীদের দীর্ঘদিনের শ্রম ও অবদানের ওপর ভর করে জনকণ্ঠ কর্তৃপক্ষ বিপুল সম্পদের মালিক হয়েছে। অথচ বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটির কর্মীদের সঙ্গে অন্যায় আচরণ করা হচ্ছে।
অনুষ্ঠানে জানানো হয়, জনকণ্ঠ কর্তৃপক্ষ কোনো ধরনের লে-অফ ঘোষণা ছাড়াই ১৪০ জন সাংবাদিক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীকে ছাঁটাইয়ের নোটিশ দিয়েছে। বিভিন্ন বিভাগের শতভাগ কর্মীকেও ছাঁটাইয়ের আওতায় আনা হয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়। ছাঁটাইকৃতদের অধিকাংশই ৩০ থেকে ৩৪ বছর ধরে প্রতিষ্ঠানটিতে কর্মরত ছিলেন।
বক্তারা আরও অভিযোগ করেন, ছাঁটাইকৃত কর্মীদের বিরুদ্ধে নানা অপপ্রচার চালানো হচ্ছে এবং অবশিষ্ট সাংবাদিকদের অনেককেই কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে।
কর্মসূচি থেকে ঘোষণা দেওয়া হয়, আগামী ৭২ ঘণ্টার মধ্যে ছাঁটাই ও কারণ দর্শানোর নোটিশ প্রত্যাহার, বকেয়া বেতন-ভাতা পরিশোধ এবং পত্রিকার কার্যক্রম স্বাভাবিকভাবে চালু না করা হলে বৃহত্তর আন্দোলনের কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।
Leave a Reply