1. mdmirhossainmolla.bd@gmail.com : admi2017 :
  2. editor@banglarrup.com : Banglar Rup : Banglar Rup
শুক্রবার, ২৪ এপ্রিল ২০২৬, ০৪:২৪ অপরাহ্ন

হঠাৎ অজানা রোগে তরমুজ গাছের মৃত্যু রাঙ্গাবালীর উপকূলে বিপাকে হাজারো চাষি, ছয়শ’ কোটি টাকার সম্ভাবনা অনিশ্চিত

  • আপডেট টাইম : শনিবার, ২৮ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬
  • ১০২ বার

স্টাফ রিপোর্টার,আ. রহিম গাজী রাঙ্গাবালী (পটুয়াখালী) পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালী উপজেলার বিস্তীর্ণ উপকূলজুড়ে এখন চোখে পড়ে সবুজের সমারোহ। মাঠের পর মাঠ তরমুজের খেত, লতায় লতায় ধরেছে কাঁচা ফল। ভালো ফলনের আশায় স্বপ্ন বুনেছিলেন কৃষকরা। কিন্তু ফল পাকতে না পাকতেই অজানা রোগে গাছ মারা যেতে শুরু করায় সেই স্বপ্নে নেমে এসেছে অশনি সংকেত। দুশ্চিন্তায় পড়েছেন উপজেলার হাজারো তরমুজ চাষি।

রাঙ্গামাটির তরমুজের চাহিদা ও বাজারমূল্য ভালো থাকায় প্রতিবছরই এ উপজেলায় ব্যাপক আকারে তরমুজ চাষ হয়। স্থানীয়দের ভাষ্য, উপজেলার প্রায় ৯৫ শতাংশ কৃষক প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে তরমুজ চাষের সঙ্গে সম্পৃক্ত। চলতি মৌসুমেও রেকর্ড পরিমাণ জমিতে চাষ হয়েছে এ ফল। তবে গত এক সপ্তাহ ধরে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় রহস্যজনকভাবে তরমুজ গাছ মারা যাওয়ার ঘটনা দেখা দিয়েছে। কৃষকরা জানান, প্রথমে গাছের শিকড় কালো হয়ে যায়। এরপর লতাপাতা ঢলে পড়ে শুকিয়ে যেতে থাকে। কোথাও পাতা কুঁকড়ে যাচ্ছে, কোথাও আবার গোড়া পচে গাছ হেলে পড়ছে। ডালপালায় পচন ধরে ধীরে ধীরে পুরো গাছই নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। কীটনাশক প্রয়োগ করেও কোনো সুফল মিলছে না।

উপজেলার কৃষক মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, এনজিও ও মহাজনের কাছ থেকে ঋণ নিয়ে তরমুজ চাষ করেছি। ফলনও আশাব্যঞ্জক ছিল। কিন্তু হঠাৎ গাছ মারা যেতে শুরু করায় এখন দিশেহারা হয়ে পড়েছি। ঋণ শোধ করবো কীভাবে বুঝতে পারছি না।” আরেক কৃষক রাকিব মিয়া বলেন, আর এক মাস পর তরমুজ বাজারজাত করার উপযুক্ত হতো। এখন গাছই যদি বাঁচে না, তাহলে সব পরিশ্রম বৃথা যাবে। দ্রুত সরকারি সহায়তা না পেলে আমরা বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়বো।”

উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছরে রাঙ্গাবালী উপজেলায় প্রায় ৮ হাজার ৪৭০ হেক্টর জমিতে তরমুজ ও সাম্মাম চাষ হয়েছে, যা গত বছরের তুলনায় প্রায় ৮০০ হেক্টর বেশি। অনুকূল আবহাওয়া, উর্বর মাটি এবং তুলনামূলক কম খরচে অধিক লাভের সম্ভাবনা থাকায় কৃষকরা গ্রীষ্মকালীন এ ফল চাষে অধিক আগ্রহী হয়ে ওঠেন। রাঙ্গাবালী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আসাদুজ্জামান বলেন, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে ঢলে পড়া ও গোড়া পঁচা রোগের কারণে গাছ মারা যাচ্ছে। আমরা মাঠপর্যায়ে কৃষকদের পরামর্শ দিচ্ছি। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। মাটি বা অন্য কোনো কারণে সমস্যা হচ্ছে কিনা তা যাচাই করতে গবেষণা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সমন্বয় করে বিশেষজ্ঞ টিম সরেজমিনে পাঠানো হবে।

কৃষি বিভাগের তথ্যমতে, আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এবং সুষ্ঠুভাবে বাজারজাত করা গেলে চলতি মৌসুমে রাঙ্গাবালী থেকে প্রায় ছয়শ’ কোটি টাকার তরমুজ বিক্রির সম্ভাবনা ছিল। কিন্তু আকস্মিক রোগে গাছ মারা যাওয়ায় সেই সম্ভাবনা এখন অনিশ্চয়তার মুখে। দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ না করলে উপকূলের হাজার হাজার তরমুজ চাষি বড় ধরনের আর্থিক বিপর্যয়ের মুখে পড়বেন—এমন আশঙ্কাই করছেন সংশ্লিষ্টরা।

নিউজটি শেয়ার করুন..

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর..
© All rights reserved © 2024
Theme Customized By BreakingNews