মোঃ সাজাহান আলী/খোকসা কুষ্টিয়া: নেশার ভয়াল ছোবলে আজ বিপর্যয় বাংলাদেশ। যুবক থেকে বৃদ্ধ, নারী থেকে পুরুষ-কেউই রেহাই পাচ্ছে না মাদকের সর্বগ্রাসী আগ্রাসন থেকে। প্রতিদিনই নেশার কারণে ধ্বংস হচ্ছে সম্ভাবনাময় তরুণের জীবন, সর্বস্বান্ত হয়ে পড়ছে অসংখ্য পরিবার। মাদকাসক্ত হয়ে অনেকেই নিজের জীবনকেই করে তুলছে চূড়ান্ত পরিণতির দিকে ধাবিত।
আন্তর্জাতিক বাজারে বিনিয়োগ কিংবা নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দামে যেখানে ওঠানামা স্বাভাবিক, সেখানে মাদক বাজার সম্পূর্ণ ভিন্ন বাস্তবতায় পরিচালিত হয়। চাহিদার ওপর ভিত্তি করে প্রতিনিয়ত বাড়ানো হয় মাদকের দাম। এই বাজার কখনো পড়ে না। নেশাগ্রস্তরা চড়া মূল্য দিয়েও মাদক কিনতে বাধ্য হয়—নেশা মেটাতে তারা হয়ে ওঠে সর্বস্বান্ত ‘মুড়িয়া খোর’।
একদিকে শান্ত-স্বাভাবিক পরিবারগুলো ধ্বংসের মুখে, অন্যদিকে মাদক কারবারিরা রাতারাতি হয়ে উঠছে লাখপতি-কোটিপতি। একটি যুবকের জীবন ধ্বংস মানেই একটি পরিবারের ভবিষ্যৎ অন্ধকারে নিমজ্জিত হওয়া। সমাজে বাড়ছে অপরাধ, নৈতিক অবক্ষয় ও অস্থিরতা।
সবচেয়ে বড় প্রশ্ন-প্রশাসন কি এসব জানে না? সীমান্ত এলাকা থেকে শুরু করে শহর-গ্রাম সর্বত্র মাদকের অবাধ বিচরণ জনমনে তীব্র প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। সচেতন মহলের দাবি, মাদক নির্মূলে দৃশ্যমান ও কঠোর পদক্ষেপ না নিলে এই নীরব ঘাতক পুরো সমাজ ব্যবস্থাকে গ্রাস করবে।
এখনই সময়-মাদক বিরোধী সমন্বিত অভিযান, সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলা এবং প্রশাসনের কঠোর ও কার্যকর ভূমিকা নিশ্চিত করা।
Leave a Reply