নিজস্ব প্রতিবেদক: কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম উপজেলার পৌরসভাধীন কিং শ্রীপুর গ্রামে পারিবারিক ও সামাজিক বিরোধের জেরে এক নারীকে বেদম মারধর, শ্লীলতাহানি এবং স্বর্ণালঙ্কার ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী নিপা আক্তার (৩০) বাদী হয়ে চৌদ্দগ্রাম মডেল থানায় মামলা দায়ের করে (মামলা নাম্বার ৫৪)। জানা গেছে, গত ২১ সেপ্টেম্বর দুপুর আনুমানিক ২:০০ ঘটিকার সময় পৌরসভার ৪নং ওয়ার্ড শ্রীপুর গ্রামের নিপা আক্তারের বসতবাড়ির উঠানে এই হামলার ঘটনা ঘটে। অভিযুক্তরা হলেন— একই গ্রামের মৃত মাহবুবুল হকের ছেলে প্রিন্স (২২) এবং স্ত্রী সালমা বেগম (৪০)।
অভিযোগ এবং স্থানীয় সূত্র জানায়, প্রিন্স এবং সালমা আহত নিপা আকতারের পূর্বপরিচিত ও ফুফাতো ভাইয়ের পরিবারের সদস্য। সামাজিক ও পারিবারিক বিষয় নিয়ে তাদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছিল। ঘটনার দিন নিপা তার চাচাতো ভাই সজীবের সঙ্গে কথা বলে ঘরে ফেরার পরপরই প্রিন্স এবং সালমা বিনা অনুমতিতে বাড়ির উঠানে প্রবেশ করে এবং অশ্লীল ভাষায় গালিগালাজ শুরু করে। নিপা আকতারকে গালিগালাজের প্রতিবাদ করলে অভিযুক্তরা তার ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। এসময় প্রিন্স লাঠি দিয়ে নিপা আকতারের হাত, পা, বুক ও পিঠসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে পিটিয়ে গুরুতর জখম করে। একই সময়ে সালমা বেগম তাকে হত্যার উদ্দেশ্যে গলা চিপে ধরে শ্বাসরোধ করার চেষ্টা করেন। হামলা চলাকালে নিপার পরনের কাপড় টেনে শ্লীলতাহানি ঘটানো হয় এবং তার গলায় থাকা ১ ভরি ওজনের একটি স্বর্ণের চেইন (যার আনুমানিক মূল্য ১ লাখ টাকা) জোরপূর্বক ছিনিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়।
পরে নিপার আত্মচিৎকারে স্থানীয় সাক্ষী সজীব, সাইমন ও নিপা আকতারের মা রুচিয়া বেগমসহ আশেপাশের লোকজন ঘটনাস্থলে এগিয়ে এলে প্রিন্স এবং সালমা বেগম প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে পালিয়ে যায়। স্থানীয়রা আহত নিপা আক্তারকে উদ্ধার করে চৌদ্দগ্রাম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে প্রাথমিক চিকিৎসা দেন।
এ বিষয়ে নিপা আক্তার জানান, “চিকিৎসা গ্রহণ ও স্বজনদের সঙ্গে পরামর্শ করায় এজাহার দায়ের করতে সামান্য বিলম্ব হয়েছে। আমি পুলিশ প্রশাসনের কাছে উক্ত হামলার সুষ্ঠু তদন্ত ও অন্যায়কারীদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক আইনগত শাস্তির দাবি জানাচ্ছি।”
চৌদ্দগ্রাম মডেল থানা সূত্রে জানা গেছে, এ ঘটনার বিষয়ে থানায় মামলা হয়েছে এবং তদন্তপূর্বক প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করে আসামীকে গ্রেপ্তার করা হবে।
Leave a Reply