মীর হোসেন মোল্লা: ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোট গ্রহণ করা হবে আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি। জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নে গণভোটও হবে একই দিন। ওই দিন সকাল সাড়ে সাতটা থেকে বিকেল সাড়ে চারটা পর্যন্ত টানা ভোট গ্রহণ চলবে।
সূত্র বলছে, ক্ষমতা হারানো আওয়ামী লীগ মাঠে না থাকায়, নতুন রাজনৈতিক সমীকরণে বিএনপির নির্বাচনী প্রতিদ্বন্দ্বী হওয়ার চেষ্টা করছে জামায়াতে ইসলামী। শেখ হাসিনার শাসনামলে প্রকাশ্য রাজনীতির সুযোগ না পাওয়া জামায়াত ইসলামী ৫ আগস্টের পর দেশজুড়ে কর্মী সম্মেলন, সভা-সমাবেশের মাধ্যমে নির্বাচনী প্রস্তুতি শুরু করেছে। জামায়াতের নায়েবে আমির সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের কুমিল্লা-১১ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন বলে জানা গেছে। তাহের নবম ও একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এই আসন থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন এবং তিনি চারদলীয় জোট থেকে সংসদ সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হয়েছিলেন। এদিকে, কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও চৌদ্দগ্রাম উপজেলা বিএনপির সভাপতি মোঃ কামরুল হুদা প্রথমবারের মতো কুমিল্লা-১১ চৌদ্দগ্রাম আসনে প্রার্থী হয়েছেন। তার দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা, জনগণের কাছে গ্রহণযোগ্যতা এবং উন্নয়নমুখী কর্মকাণ্ডের কারণে, তিনি বিএনপির অন্যতম শক্তিশালী প্রার্থী হিসেবে বিবেচিত হচ্ছেন। কামরুল হুদা তার নির্বাচনী এলাকায় রাতদিন এক করে পথসভা ও গণসংযোগ চালিয়ে আসছেন। তবে এই আসনে ধানের শীষ প্রতীকের ভোটের মাঠ ইতোমধ্যেই জমে উঠতে শুরু করেছে। রাজনৈতিক অঙ্গনে সাধারন মানুষের কাছে সবচেয়ে আস্থাভাজন এবং আলোচিত বিএনপির জনপ্রিয় নেতা কামরুল হুদা নাম উঠে এসেছে। এই আসনের হেভিওয়েট একজন শক্তিশালী প্রার্থী হিসেবে কামরুল হুদা শান্তিপূর্ন পরিবেশে ভোট গ্রহনের মাধ্যমে- শতভাগ বিজয় অর্জন করে, চমক দেখাবেন বলে সাধারন মানুষ ধারনা করছেন।
এদিকে, বুধবার ( ১০ ডিসেম্বর) রাতে চট্টগ্রাম ইন্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন হল রুমে চট্টগ্রামস্থ চৌদ্দগ্রামবাসীর সঙ্গে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন মোঃ কামরুল হুদা। কুমিল্লা-১১ চৌদ্দগ্রাম আসনের ধানের শীষ প্রার্থী কামরুল হুদার বক্তব্যের শেষের দিকে ইঙ্গিত করা একাংশের বক্তব্য এই প্রতিবেদকের নজরে আসে। পাঠকের উদ্দেশ্যে বক্তব্যটি তুলে ধরা হলো। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি চৌদ্দগ্রামকে শান্তির জনপদ হিসেবে গড়তে দলমত নির্বিশেষে ধানের শীষে ভোট দেয়ার প্রার্থনা জানিয়েছেন কামরুল হুদা। কুমিল্লা-১১ (চৌদ্দগ্রাম) সংসদীয় আসনের বিএনপি দলীয় মনোনীত প্রার্থী, কুমিল্লা জেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও চৌদ্দগ্রাম উপজেলা বিএনপি’র সভাপতি মো. কামরুল হুদা বলেন, আমার নেত্রী দেশমাতা বেগম খালেদা জিয়া, আমার নেতা তারুন্যের অহংকার দেশনায়ক তারেক রহমান, আমার প্রতীক ধানের শীষ। কিন্তু চৌদ্দগ্রামে আমি সর্বদলীয় প্রার্থী হতে চাই। আমি এখন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের প্রার্থী না হয়ে আপনাদের সকলের প্রার্থী হতে চাই। সকলের দায়িত্ব নিতে চাই। সারা বাংলাদেশে যতগুলো উপজেলা রয়েছে, তারমধ্যে চৌদ্দগ্রাম হলো পথিকৃত উপজেলা। নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা হলে সারা বাংলাদেশের ফোকাস থাকবে এ চৌদ্দগ্রামের দিকে। আমাকে মনোনীত করার পর গত সপ্তাহে ধানের শীষের পক্ষে নেতাকর্মীরা একটি বিশাল শোডাউন করেছিল। আমি দেখেছি, সর্বদলীয় লোকেরা সেখানে উপস্থিত হয়েছে এবং সেটার ব্যাপ্তি ছিল সাড়ে ১৩ কিলোমিটার দীর্ঘ। চৌদ্দগ্রামের ইতিহাসে এটা একটি ইতিহাস ও অনন্য নজির।
বিশিষ্ট সমাজ সেবক কামরুল হুদা বলেন, আপনারা অবশ্যই একটি শান্তির চৌদ্দগ্রাম চান? সারা দেশের ন্যায় চৌদ্দগ্রাম এমন একটি উপজেলা এখানে শিক্ষিত লোক, ব্যবসায়ী ও ব্যাংকারের সংখ্যা বেশি। আপনারা সমন্বিতভাবে একটি শান্তির চৌদ্দগ্রাম গড়ার প্রত্যয়ে যদি কাজ করেন, অবশ্যই ধানের শীষকে ভোট দিবেন। আপনারা যদি একতাবদ্ধ হোন, আপনাদেরকে হারানোর ক্ষমতা কারো নেই। কামরুল হুদা আরও বলেন, আমরা শুনেছি দক্ষিণ চৌদ্দগ্রামে নিয়ে যাবে। আমরা কি ‘নিয়ে যাওয়ার’ জন্য আন্দোলন করেছিলাম? গত ১৭ বছর যে নির্বাচন হয়েছে, সেসব নির্বাচনে মানুষ ভোট দিতে পারেনি। ‘নিয়ে যাবে’ এটা কোন ধরনের শব্দ? এটার জন্য তো দেশনায়ক তারেক রহমান এ আন্দোলনের সময় মাস্টারমাইন্ড হিসেবে কাজ করেননি! জনগণ যাতে ভোট দিতে পারে, সেজন্যই তিনি কাজ করেছেন। সবাই যদি দায়িত্ব নেন, তাহলে চৌদ্দগ্রাম হবে একটি শান্তির চৌদ্দগ্রাম। চৌদ্দগ্রামকে শান্তির জনপদ হিসেবে গড়তে দলমত নির্বিশেষে ধানের শীষে ভোট দিন। এ সময় তিনি সকলের সহযোগিতা কামনা করেন।
আমরা শুনেছি দক্ষিণ চৌদ্দগ্রামে নিয়ে যাবে*******
কামরুল হুদা এই বক্তব্য শুনে এই প্রতিবেদকের ব্যাপক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে জানা গেছে, জামায়াত ইসলামী দলের নেতাকর্মীরা দক্ষিণ চৌদ্দগ্রামের আলকরা, গুণবতী, কনকাপৈত, জগন্নাথদীঘি সহ মোট চার ইউনিয়নে ব্যাপক প্রভাব খাটিয়ে সবকটি কেন্দ্র দখল করে, দাঁড়িপাল্লা মার্কায় নিজেদের ইচ্ছানুসারে সিল মারার পরিকল্পনা করে আসছে। বিগত নির্বাচনগুলোতে জামায়াত নেতারা দেশের বিভিন্নস্থান থেকে জামায়াতি ক্যাডার বাহিনী ভাড়া করে, চৌদ্দগ্রামে বিভিন্ন এলাকায় “মেহমান” পরিচয়ে আশ্রয় এবং বাসস্থান করে, নির্বাচনের দিন ওই মেহমান নামক সশস্ত্র ক্যাডার বাহিনীকে ব্যবহার করে, নির্বাচনী কেন্দ্রে দাঙ্গা- হাঙ্গামা সৃষ্টি করে ব্যালটপেপার এবং ব্যালট বক্স তাদের কব্জায় নিয়ে, নিজেদের প্রতীকে সীল মারার পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করেছিল বলে একাধিক সূত্র জানিয়েছেন। আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কয়েকদিন পূর্বেই বহিরাগত সশস্ত্র সন্ত্রাসী বাহিনীকে, পূর্ব থেকেই মেহমান হিসেবে আশ্রয় দিয়ে তাদেরকে দাঙ্গা- হাঙ্গামায় ব্যবহার করে- সন্ত্রাসী কার্যকলাপের মাধ্যমে একতরফা সীল মেরে দাঁড়িপাল্লাকে নির্বাচিত করার মহাপরিকল্পনা করে আসছে বলে ব্যাপক গুনজন উঠেছে। অন্যদিকে, সতর্ক অবস্থানে রয়েছে বিএনপিও। শান্তিপূর্ন নির্বাচনের সম্পূর্ন প্রস্তুতি নিয়ে সামনে এগুচ্ছে বিএনপি। কিন্তু জনগনের ভোটাধিকার কেড়ে নিয়ে যেকোন ধরনের সন্ত্রাসী কার্যকলাপের বিরুদ্ধে তারাও আইনি লড়াইয়ে শক্ত অবস্থানে থাকবেন বলে বিশ্বস্ত সূত্র জানিয়েছেন।
সংশ্লিষ্টরা জানান, দীর্ঘদিন আওয়ামী স্বৈরশাসনের জুলুম-নির্যাতনের শিকার সাধারণ মানুষ চব্বিশের জুলাই বিপ্লবের পর রাজনীতিতে গুণগত পরিবর্তন দেখতে চায়। তারা আর গুম, খুন, সন্ত্রাস, দুর্নীতি, চাঁদাবাজি ও লুটপাট দেখতে চান না। এমন পরিস্থিতিতে আগামী নির্বাচন ঘিরে বিভিন্ন জরিপে উঠে এসেছে- চৌদ্দগ্রামে সবচেয়ে বড় দল বিএনপির প্রতি মানুষের সমর্থন বেড়েছে। আসন্ন নির্বাচনে ধানের শীষ প্রতীক বিজয় অর্জন করুক এটাই তাদের প্রত্যাশা।
Leave a Reply