মোঃ আবুল বাসার: প্রযুক্তির সহজলভ্যতার সঙ্গে মানুষের জীবনযাত্রা যেমন সহজ হয়েছে, তেমনি এর অপব্যবহারে তৈরি হয়েছে নানা সামাজিক সংকট। এর মধ্যে অন্যতম হলো মোবাইলভিত্তিক অনলাইন জুয়া ও বেটিংয়ে আসক্তি। দ্রুত টাকা উপার্জনের লোভে বিশেষ করে তরুণদের একটি অংশ এই ঝুঁকিপূর্ণ নেশায় জড়িয়ে পড়ছে।
শুরুতে অল্প টাকা দিয়ে খেলা, সামান্য লাভ কিংবা বন্ধুদের উৎসাহ—এসব থেকেই অনেকের জুয়ায় হাতেখড়ি। কিন্তু একসময় জুয়ার প্রতি তৈরি হয় প্রবল আকর্ষণ। হারানো টাকা ফেরত পাওয়ার আশায় তারা বারবার টাকা বিনিয়োগ করতে থাকে। একপর্যায়ে নিজের সঞ্চয়, পরিবারের টাকা কিংবা ধার করা অর্থও জুয়ার পেছনে ব্যয় করে সর্বস্বান্ত হওয়ার ঘটনা ঘটছে।
মোবাইল জুয়ার সবচেয়ে ভয়াবহ দিক হলো—এটি হাতের মুঠোয় থাকা একটি আসক্তি। দিন-রাত যেকোনো সময় সহজেই জুয়ায় অংশ নেওয়া যায়। ফলে পড়াশোনা, চাকরি, ব্যবসা ও পারিবারিক জীবনে দেখা দেয় মারাত্মক নেতিবাচক প্রভাব।
জুয়ায় আসক্তির কারণে অনেকের মধ্যে মানসিক চাপ, হতাশা, পারিবারিক অশান্তি ও সামাজিক বিচ্ছিন্নতা তৈরি হতে পারে। ঋণের বোঝা বাড়তে বাড়তে কেউ কেউ প্রতারণা বা অন্যান্য অনৈতিক কর্মকাণ্ডেও জড়িয়ে পড়তে পারে। শুধু একজন ব্যক্তি নয়—এর ক্ষতিকর প্রভাব পড়ে পুরো পরিবার ও সমাজের ওপর।
আমাদের করণীয়: অভিভাবকদের সন্তানদের মোবাইল ব্যবহার সম্পর্কে সচেতন থাকতে হবে। তরুণদের বুঝতে হবে, অনলাইন জুয়া কোনো সহজ আয়ের পথ নয়; এটি অর্থ, সময় ও ভবিষ্যৎ ধ্বংসের ফাঁদ হতে পারে। জুয়া-সংক্রান্ত অ্যাপ ও প্রচারণা থেকে দূরে থাকতে হবে এবং আসক্ত কেউ সমস্যায় পড়লে তাকে উপহাস না করে পরিবার, শিক্ষক বা প্রয়োজনীয় পেশাদার সহায়তার দিকে এগিয়ে নিতে হবে।
জনসচেতনতার বার্তা: “জুয়ার নেশা নয়, গড়ি সুন্দর ভবিষ্যৎ। দ্রুত ধনী হওয়ার লোভে সর্বস্ব হারাবেন না।মোবাইল ব্যবহার করুন জ্ঞান ও উন্নতির জন্য—জুয়ার জন্য নয়।”
সচেতন ব্যক্তি, সচেতন পরিবার এবং সামাজিক প্রতিরোধই পারে মোবাইল জুয়ার ভয়াবহ আসক্তি থেকে তরুণ সমাজকে রক্ষা করতে।
সম্পাদকঃ মীর হোসেন মোল্লা, সহ-সম্পাদকঃ মহিউদ্দিন মাসুদ, নির্বাহী সম্পাদকঃ এম জি শাহ আলম, বার্তা সম্পাদকঃ বাছেদ হোসাইন, যোগাযোগঃ ১৫/২ আরামবাগ (কিউটগলি) মতিঝিল, ঢাকা। মোবাইলঃ 01819846876, মেইলঃ banglarrupnp@gmail.com
© All rights reserved © 2026